hadith book logo

মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২৮

কেয়ামত দিবসের ভয়াবহতা

কেয়ামত দিবস: খুবই ভয়াবহ ও বিরাট গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেদিন মানুষ মারাত্মক ভাবে আতংক গ্রস্থ ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। চক্ষুসমূহ হবে বিস্ফোরিত।মহান আল্লাহ তাআলা সেদিনটি মুমিনদের জন্য করেছেন যোহর ও আসর নামাযের মধ্যবর্তী সময়ের সমান। আর অবিশ্বাসী-কাফেরদের জন্য করেছেন পঞ্চাশ হাজার বছেরের সমান।

আমরা এখানে সেদিনের কিছু ভয়াবহতার দৃশ্য তুলে ধরছি।

১- কোরআন হাকীমে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন।

فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَاحِدَةٌ ﴿13﴾ وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً ﴿14﴾ فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ ﴿15﴾ وَانْشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ ﴿16﴾

যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে- একটি মাত্র ফুৎকার। আর যমীন ও পর্বত মালাকে উত্তোলন করা হবে এবং একই ধাক্কায় চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া হবে। সেদিন যা সঙ্ঘটিত হওয়ার (কেয়ামত) সঙ্ঘটিত হয়ে যাবে। আকাশ বিদীর্ণ হয়ে শক্তিহীন ও বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে।{সূরা আল-হাক্কাহ:১৩-১৬}

২-আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা অন্যত্র বলছেন:

إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ ﴿1﴾ وَإِذَا النُّجُومُ انْكَدَرَتْ ﴿2﴾ وَإِذَا الْجِبَالُ سُيِّرَتْ ﴿3﴾ وَإِذَا الْعِشَارُ عُطِّلَتْ ﴿4﴾ وَإِذَا الْوُحُوشُ حُشِرَتْ ﴿5﴾ وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَتْ ﴿6﴾ التكوير : ১-৬

সূর্যকে যখন দীপ্তিহীন করা হবে, যখন নক্ষত্ররাজি খসে পড়ে মলিন হয়ে যাবে, পর্বতমালা যখন অপসারিত হবে, যখন পূর্ণ-গর্ভা (দশ মাসের গর্ভবতী) উষ্ট্রী উপেক্ষিত হবে, যখন বন্য পশুগুলিকে একত্রিত করা হবে এবং সমুদ্রগুলিকে যখন উত্তাল-উদ্বেলিত করা হবে। {সূরা আত্ তাকভীর:১-৬}

৩-আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

إِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ ﴿1﴾ وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انْتَثَرَتْ ﴿2﴾ وَإِذَا الْبِحَارُ فُجِّرَتْ ﴿3﴾ وَإِذَا الْقُبُورُ بُعْثِرَتْ ﴿4﴾ { الانفطار :১-৪}

যখন আকাশ ফেটে যাবে,যখন তারকারাজি বিক্ষিপ্তভাবে ঝরে পড়বে,যখন সমুদ্রগুলিকে উত্তাল-উদ্বেলিত করে তোলা হবে।যখন কবরসমূহ উন্মোচিত হবে। {সূরা ইনফিতার:১-৪}

৪- আল্লাহ তাআলা আরো বলছেন:

إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ ﴿1﴾ وَأَذِنَتْ لِرَبِّهَا وَحُقَّتْ ﴿2﴾ وَإِذَا الْأَرْضُ مُدَّتْ ﴿3﴾ وَأَلْقَتْ مَا فِيهَا وَتَخَلَّتْ ﴿4﴾ وَأَذِنَتْ لِرَبِّهَا وَحُقَّتْ ﴿5﴾ { الانشقاق : ১-৫}

যখন আকাশ ফেটে যাবে এবং স্বীয় প্রতিপালকের আদেশ পালন করবে এবং এটিই তার উপযুক্ত করণীয়। এবং পৃথিবীকে যখন সম্প্রসারিত করা হবে। এবং পৃথিবী তার গর্ভস্থিত সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করবে ও গর্ভশূন্য হয়ে যাবে। এবং সে তার প্রতিপালকের আদেশ পালন করবে এবং এটিই তার উপযুক্ত করণীয়। {সূরা আল-ইনশিকাক:১-৫}

৫-মহান প্রতিপালক আল্লাহ তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করছেন:

إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ ﴿1﴾ لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ ﴿2﴾ خَافِضَةٌ رَافِعَةٌ ﴿3﴾ إِذَا رُجَّتِ الْأَرْضُ رَجًّا ﴿4﴾ وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا ﴿5﴾ فَكَانَتْ هَبَاءً مُنْبَثًّا ﴿6﴾ { الواقعة : ১-৬}

যখন কেয়ামত সঙ্ঘটিত হবে, যার বাস্তবতায় কোন সংশয় নেই, এটা কাউকে করবে নীচ, কাউকেও করবে সমুন্নত, যখন প্রবল ভাবে প্রকম্পিত হবে পৃথিবী এবং পর্বতমাল ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে তখন সেটি পরিণত হবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকনায়।{সূরা আল-ওয়াকিয়া: ১-৬}

৬- হাদীসে এসেছে

وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (( من سره أن ينظر إلى يوم القيامة كأنه رأي عين فليقرأ : ( إذا الشمس كورت ) و ( إذا السماء انفطرت ) و ( إذا السماء انشقت ). أخرجه أحمد و الترمذي

বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : কেয়ামত দিবসের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে যে ব্যক্তি নিজ চোখে দেখার মত করে জানতে চায় সে যেন এ সূরা তিনটি পড়ে নেয়। সূরাগুলো হচ্ছে: তাকভীর, ইনফিতার এবং ইনশিকাক। [হাদীসটি সহীহ সনদে ইমাম আহমদ ও ইমাম তিরমিযী স্বীয় কিতাবে কর্ণনা করেছেন। হাদীসের ক্রমিক নং যথাক্রমে( ৪৮০৬) ও (৩৩৩৩)]