১
মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী
লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৪৯
জাহান্নামীদের প্রার্থনা-ফরিয়াদ:
জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করার পর যখন কঠিন আযাব চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ধরবে তখন সাহায্য ও পরিত্রাণ পাওয়ার আশায় সেখান থেকে ফরিয়াদ করতে থাকবে এবং বিভিন্ন জনেরে ডাকাডাকি করতে লাগবে। পর্যায়ক্রমে তারা আহবান করবে জান্নাতবাসীদের, জাহান্নাম রক্ষীদের, জাহান্নাম রক্ষী মালেককে, অনুরূপ ভাবে স্বীয় পালনকর্তা মহান আল্লাহ তাআলাকে। কিন্তু তাদের কোন আহবানেরই সন্তুষজনক সাড়া দেয়া হবে না বরং উক্ত সাড়াদানের মাধ্যমে তাদের অনুতাপ - আফসোসই বৃদ্ধি পেতে থাকবে। অত:পর তারা সকল আশা ছেড়ে দিয়ে কর্ণবিদারক চিৎকার ও আর্তনাদ জুড়ে দেবে।
১-আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَنَادَى أَصْحَابُ النَّارِ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى الْكَافِرِينَ { الأعراف :৫০}
আর জাহান্নামীরা জান্নাতবাসীদের ডেকে বলবে : আমাদের উপর কিছু পানি ঢেলে দাও অথবা আল্লাহ প্রদত্ত তোমাদের জীবিকা হতে কিছু প্রদান কর, তারা বলবেম, আল্লাহ এসব জিনিষ কাফেরদের উপর হারাম করে দিয়েছেন। {সূরা আ’রাফ: ৫০}
২-আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
وَقَالَ الَّذِينَ فِي النَّارِ لِخَزَنَةِ جَهَنَّمَ ادْعُوا رَبَّكُمْ يُخَفِّفْ عَنَّا يَوْمًا مِنَ الْعَذَابِ ﴿49﴾ قَالُوا أَوَ لَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا بَلَى قَالُوا فَادْعُوا وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ ﴿50﴾ { غافر :৪৯-৫০}
জাহান্নামের অধিবাসীরা তার প্রহরীদেরকে বলবে: তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা কর, তিনি যেন আমাদের থেকে একদিনের আযাব লাঘব করে দেন। রক্ষীরা বলবে: তোমাদের নিকট কি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রসূলগণ আসেননি? তারা বলবে : হ্যাঁ - এসেছিল।রক্ষীরা বলবে : তবে তোমরাই প্রার্থনা কর, বস্ত্তত: কাফেরদের প্রার্থনা ব্যর্থই হয়। {সূরা গাফের:৪৯-৫০}
৩-অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ قَالَ إِنَّكُمْ مَاكِثُونَ ﴿77﴾ لَقَدْ جِئْنَاكُمْ بِالْحَقِّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ ﴿78﴾ { الزخرف :৭৭- ৭৮ }
তারা চিৎকার করে বলবে: হে মালেক (জাহান্নামের রক্ষী) তোমার প্রতিপালক আমাদেরকে নিঃশেষ করে দিন। সে বলবেঃ নিশ্চয় তোমরা চিরকাল থাকবে।( আল্লাহ বলবেন) আমি তোমাদের কাছে সত্যধর্ম পৌছিয়েছিলাম ; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই সত্যধর্মে নিস্পৃহ। {সূরা যুখরুফ: ৭৭-৭৮}
৪-আরও ইরশাদ হচ্ছে:
قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ ﴿106﴾ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ ﴿107﴾ قَالَ اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ ﴿108﴾ { المؤمنون : ১০৬ – ১০৮}
তারা বলবে: হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দুর্ভাগ্যের হাতে পরাভূত ছিলাম এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত জাতি। হে আমাদের পালনকর্তা ! এ থেকে আমাদেরকে উদ্ধার কর ; আমরা যদি পুনরায় তা (কুফরী ) করি, তবে তো আমরা অবশ্যই সীমালঙ্ঘনকারী হব। আল্লাহ বলবেন, তোমরা হীন অবস্থায় এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোন কথা বলোনা। { সূরা মুমিনূন: ১০৬-১০৮}
৫- জাহান্নামীরা যখন জাহান্নাম হতে বের হওয়ার ব্যাপারে সকল আশা ছেড়ে দেবে এবং যে কোন কল্যাণ থেকে একেবারে নিরাশ হয়ে যাবে, তখন কর্ণ বিদারক চিৎকার ও আর্তনাদ জুড়ে দেবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ ﴿106﴾ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ ﴿107﴾ { هود : ১০৬ـ ১০৭}
অতএব যারা হতভাগ্য তারা জাহান্নামে যাবে, সেখানে তারা আর্তনাদ ও চিৎকার করতে থাকবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে, যতদিন আসমান ও যমীন বিদ্যমান থাকবে। তবে তোমার প্রতিপালক অন্য কিছু ইচ্ছা করলে ভিন্ন কথা। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা যা ইচ্ছা করতে পারেন। {সূরা হুদ:১০৬-১০৭}
আল্লাহ তাআলার ক্রোধ , গযব ও শাস্তি থেকে পানাহ চাই। হে আল্লাহ তুমি আমাদের জান্নাত দান কর... এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও... তুমিই আমাদের অভিভাবক... কতইনা উত্তম অভিভাবক...এবং কতইনা উত্তম সাহায্যকারী।
১-আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَنَادَى أَصْحَابُ النَّارِ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى الْكَافِرِينَ { الأعراف :৫০}
আর জাহান্নামীরা জান্নাতবাসীদের ডেকে বলবে : আমাদের উপর কিছু পানি ঢেলে দাও অথবা আল্লাহ প্রদত্ত তোমাদের জীবিকা হতে কিছু প্রদান কর, তারা বলবেম, আল্লাহ এসব জিনিষ কাফেরদের উপর হারাম করে দিয়েছেন। {সূরা আ’রাফ: ৫০}
২-আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
وَقَالَ الَّذِينَ فِي النَّارِ لِخَزَنَةِ جَهَنَّمَ ادْعُوا رَبَّكُمْ يُخَفِّفْ عَنَّا يَوْمًا مِنَ الْعَذَابِ ﴿49﴾ قَالُوا أَوَ لَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا بَلَى قَالُوا فَادْعُوا وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ ﴿50﴾ { غافر :৪৯-৫০}
জাহান্নামের অধিবাসীরা তার প্রহরীদেরকে বলবে: তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা কর, তিনি যেন আমাদের থেকে একদিনের আযাব লাঘব করে দেন। রক্ষীরা বলবে: তোমাদের নিকট কি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রসূলগণ আসেননি? তারা বলবে : হ্যাঁ - এসেছিল।রক্ষীরা বলবে : তবে তোমরাই প্রার্থনা কর, বস্ত্তত: কাফেরদের প্রার্থনা ব্যর্থই হয়। {সূরা গাফের:৪৯-৫০}
৩-অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ قَالَ إِنَّكُمْ مَاكِثُونَ ﴿77﴾ لَقَدْ جِئْنَاكُمْ بِالْحَقِّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ ﴿78﴾ { الزخرف :৭৭- ৭৮ }
তারা চিৎকার করে বলবে: হে মালেক (জাহান্নামের রক্ষী) তোমার প্রতিপালক আমাদেরকে নিঃশেষ করে দিন। সে বলবেঃ নিশ্চয় তোমরা চিরকাল থাকবে।( আল্লাহ বলবেন) আমি তোমাদের কাছে সত্যধর্ম পৌছিয়েছিলাম ; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই সত্যধর্মে নিস্পৃহ। {সূরা যুখরুফ: ৭৭-৭৮}
৪-আরও ইরশাদ হচ্ছে:
قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ ﴿106﴾ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ ﴿107﴾ قَالَ اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ ﴿108﴾ { المؤمنون : ১০৬ – ১০৮}
তারা বলবে: হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দুর্ভাগ্যের হাতে পরাভূত ছিলাম এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত জাতি। হে আমাদের পালনকর্তা ! এ থেকে আমাদেরকে উদ্ধার কর ; আমরা যদি পুনরায় তা (কুফরী ) করি, তবে তো আমরা অবশ্যই সীমালঙ্ঘনকারী হব। আল্লাহ বলবেন, তোমরা হীন অবস্থায় এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোন কথা বলোনা। { সূরা মুমিনূন: ১০৬-১০৮}
৫- জাহান্নামীরা যখন জাহান্নাম হতে বের হওয়ার ব্যাপারে সকল আশা ছেড়ে দেবে এবং যে কোন কল্যাণ থেকে একেবারে নিরাশ হয়ে যাবে, তখন কর্ণ বিদারক চিৎকার ও আর্তনাদ জুড়ে দেবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ ﴿106﴾ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ ﴿107﴾ { هود : ১০৬ـ ১০৭}
অতএব যারা হতভাগ্য তারা জাহান্নামে যাবে, সেখানে তারা আর্তনাদ ও চিৎকার করতে থাকবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে, যতদিন আসমান ও যমীন বিদ্যমান থাকবে। তবে তোমার প্রতিপালক অন্য কিছু ইচ্ছা করলে ভিন্ন কথা। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা যা ইচ্ছা করতে পারেন। {সূরা হুদ:১০৬-১০৭}
আল্লাহ তাআলার ক্রোধ , গযব ও শাস্তি থেকে পানাহ চাই। হে আল্লাহ তুমি আমাদের জান্নাত দান কর... এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও... তুমিই আমাদের অভিভাবক... কতইনা উত্তম অভিভাবক...এবং কতইনা উত্তম সাহায্যকারী।