hadith book logo

মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৮২

ঈমানের রুকনসমূহের প্রতিফল:

১- আল্লাহর প্রতি ঈমান, হৃদয়ে তাঁর ভালবাসা সৃষ্টি করে। তাঁর প্রতি ভক্তি, ও সম্মানবোধকে জাগ্রত করে। তাঁর কৃতজ্ঞতা, আনুগত্য, ইবাদত, তাঁকে ভয় করা ও তাঁর নির্দেশাবলি বাস্তবায়ন করতে উদ্বুদ্ধ করে।

২- ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান, অন্তরে তাদের প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি করে, লজ্জাবোধ জন্ম নেয় এবং তাদের কাছ থেকে অনুগত্যের শিক্ষা অর্জিত হয় ।

৩ - ৪- কিতাবসমূহ ও রাসূলগণের প্রতি ঈমানের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি ঈমানি দৃঢ়তা ও তাঁর ভালবাসা জন্ম নেয়। তাঁর বিধি-বিধান, পছন্দ-অপছন্দ, ও পরকালীন জীবনের অবস্থাদি সম্পর্কিত ধারণা অর্জিত হয়। এছাড়াও অন্তরে রাসূলগণের প্রতি ভালবাসা ও তাদের অনুসরণের স্পৃহা জাগ্রত হয়।

৫- কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমানের মাধ্যমে নেককাজ ও ইবাদত-বন্দিগির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায় সাথে সাথে অন্যায় ও পাপকাজের প্রতি চরম ঘৃণা ও অনীহা সৃষ্টি হয়।

৬- তাকদিরের প্রতি ঈমানের মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি ও আত্মিক স্থিরতা সাধিত হয় এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্ট থাকার মানসিকতা জন্ম নেয়।

একজন মুসলিমের জীবনে যখন উল্লেখিত গুণাগুণগুলো সন্বেবেশিত হবে তখন জান্নাতে প্রবেশের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। আর এটি আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের আনুগত্য-অনুসরণ ব্যতীত পরিপূর্ণ হবে না। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿13﴾

আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে আল্লাহ তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর এটা মহা সফলতা। [সূরা নিসা: ১৩।]

বান্দার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা যা-ই করেন- যে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেন তাতেই বান্দার প্রভুত কল্যাণ রয়েছে, রয়েছে প্রজ্ঞাপূর্ণ তাৎপর্য। অনুগ্রহ ও কল্যাণজনক সিদ্ধান্তাদি তাঁর ভালবাসার প্রমাণ বহন করে। আর শাস্তি ও প্রতিশোধমূলক কর্মকান্ড প্রমাণ করে ক্রোধ ও ক্ষোভের। তিনি বান্দাকে সম্মানিত ও মর্যাদাদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন এটি তাঁর মহববতের পরিচায়ক আর অপমান ও অপদস্ত করার যে সিদ্ধান্ত নেন সেটি তাঁর ক্রোধ ও ঘৃণার প্রমাণবাহী। আর সৃষ্টিজীবকে কখনো পরিপূর্ণরূপে দান করেন আবার কখনো হ্রাস করেন। এটি কিয়ামত সঙ্ঘটিত হবার প্রমাণ বহন করে। আল-ইহসান:১১

ইহসান হচ্ছে,

أن تعبد الله كأنك تراه، فإن لم تكن تراه فإنه يراك

অর্থাৎ,আল্লাহর ইবাদত তোমাকে এমনভাবে সম্পন্ন করা যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর তুমি যদি তাঁকে নাও দেখ, নিশ্চই তিনি তোমাকে দেখছেন।

১- আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ

নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাথে, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল। [সূরা আন-নাহল: ১২৮।]

২- অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে,

وَتَوَكَّلْ عَلَى الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ ﴿217﴾ الَّذِي يَرَاكَ حِينَ تَقُومُ ﴿218﴾ وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ ﴿219﴾ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿220﴾

আর তুমি মহাপরাক্রমশালী পরম দয়ালুর উপর তাওয়াক্কুল কর, যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দন্ডায়মান হও, এবং সেজদাকারীদের মধ্যে তোমার উঠাবসা, নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী। [সূরা আশ- শুআরা: ২১৭-২২০।]

৩-আরও ইরশাদ হচ্ছে,

وَمَا تَكُونُ فِي شَأْنٍ وَمَا تَتْلُو مِنْهُ مِنْ قُرْآَنٍ وَلَا تَعْمَلُونَ مِنْ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُودًا إِذْ تُفِيضُونَ فِيهِ وَمَا يَعْزُبُ عَنْ رَبِّكَ مِنْ مِثْقَالِ ذَرَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَلَا أَصْغَرَ مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْبَرَ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ ﴿61﴾

আর তুমি যে অবস্থাতেই থাক না কেন আর যা কিছু তিলাওয়াত কর না কেন আল্লাহর পক্ষ হতে কুরআন থেকে এবং তোমরা যে আমলই কর না কেন, আমি তোমাদের উপর সাক্ষী থাকি, যখন তোমরা তাতে নিমগ্ন হও। তোমার রব থেকে গোপন থাকে না যমীনের বা আসমানের অণু পরিমাণ কিছুই এবং তা থেকে ছোট বা বড়, তবে (এর সব কিছুই) রয়েছে সুস্পষ্ট কিতাবে। [সূরা ইউনুস: ৬১।]