১
মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী
লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৩২
জাহান্নামীদের মধ্যে সবচে কঠিন শাস্তি ভোগকারী দল :
১-মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
أَلْقِيَا فِي جَهَنَّمَ كُلَّ كَفَّارٍ عَنِيدٍ ﴿24﴾ مَنَّاعٍ لِلْخَيْرِ مُعْتَدٍ مُرِيبٍ ﴿25﴾ الَّذِي جَعَلَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آَخَرَ فَأَلْقِيَاهُ فِي الْعَذَابِ الشَّدِيدِ ﴿26﴾
{ق:২৪-২৬}
তোমরা উভয়েই নিক্ষেপ কর জাহান্নামে প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ বিরুদ্ধবাদীকে। যে বাধা দিত মঙ্গল জনক কাজে, সীমালঙ্ঘনকারী, সন্দেহ পোষণকারীকে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে উপাস্য গ্রহণ করত, তাকে তোমরা কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ কর।{সূরা ক্বাফ:২৪-২৬}
২-আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা আরো বলেন:
فَوَقَاهُ اللَّهُ سَيِّئَاتِ مَا مَكَرُوا وَحَاقَ بِآَلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ ﴿45﴾ النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آَلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ ﴿46﴾ { غافر :৪৫-৪৬}
এবং ফেরআউন গোত্রকে শোচনীয় আযাব গ্রাস করল। সকাল ও সন্ধ্যায় তাদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং যে কেয়ামত সঙ্ঘটিত হবে, সেদিন আদেশ করা হবে, ফেরআউন গোত্রকে কঠিনতর আযাবে দাখিল কর।{সূরা গাফের:৪৫-৪৬}
৩-অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ زِدْنَاهُمْ عَذَابًا فَوْقَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُوا يُفْسِدُونَ { النحل :৮৮}
যারা কাফের হয়েছে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, আমি তাদেরকে আযাবের পর আযাব বাড়িয়ে দেব। কারণ, তারা অনর্থ - অশান্তি সৃষ্টি করত।{সূরা নাহল:৮৮}
৪-আরও ইরশাদ হচ্ছে:
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا ..{ النساء :145}
নি:সন্দেহে মুনাফেকরা রয়েছে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে, আর তোমরা কখনো তাদের কোন সাহায্যকারী পাবে না। {সূরা আননিসা:১৪৫}
৫-আল্লাহ তাআলা আরোও বলছেন:
فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّيَاطِينَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا ﴿68﴾ ثُمَّ لَنَنْزِعَنَّ مِنْ كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَى الرَّحْمَنِ عِتِيًّا ﴿69﴾ ثُمَّ لَنَحْنُ أَعْلَمُ بِالَّذِينَ هُمْ أَوْلَى بِهَا صِلِيًّا ﴿70﴾ { مريم :৬৮-৭০}
সুতরাং আপনার পালনকর্তার কসম, আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রে সমবেত করব, অত:পর অবশ্যই তাদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামের চারপাশে উপস্থিত করব। অত:পর তাদের মধ্যে যারা জাহান্নামে প্রবেশের অধিক যোগ্য, আমি তাদের বিষয়ে ভালভাবে জ্ঞাত আছি। {সূরা মারইয়াম:৬৮-৭০}
৬-হাদীসে এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم :(( تخرج عنق من النار يوم القيامة , لها عينان تبصران , وأذنان تسمعان , ولسان ينطق يقول : إني وكلت بثلاثة : بكل جبار عنيد , وبكل من دعا مع الله إلها آخر , وبالمصورين )). أخرجه أحمد والترمذي .
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: কেয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে একটি গ্রীবা (সদৃশ বস্ত্ত) বের হয়ে আসবে। তার দু’টো চক্ষু থাকবে যার দ্বারা দেখবে, দু'টো কান থাকবে যার মাধ্যমে শুনবে, এবং যিহবা থাকবে যার মাধ্যমে কথা বলবে। সে বলবে: আমি তিন শ্রেণীর লোকের (শাস্তির) প্রতি দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছি: প্রত্যেক অবাধ্য অহংকারীর প্রতি, যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহ-উপাস্যেদের ডাকে এবং জীবন্ত প্রাণীর চিত্রাংকন কারীর প্রতি। [হাদীসটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনায় আহমাদ (৮৪১১) এবং তিরমিযী (২৫৭৪)।]
৭- হাদীসে এসেছে
وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم :(( إن أشد الناس عذابا يوم القيامة المصورون )). متفق عليه .
বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: কেয়ামতের দিন সবচে কঠিন শাস্তি হবে (জীবন্ত প্রাণীর) চিত্রাংকন কারীর। [বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৫৯৫০) ও (২১০৯)।]
৮- হাদীসে এসেছে
وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال :(( أشد الناس عذابا يوم القيامة رجل قتله نبي , أو قتل نبيا , وإمام ضلالة , وممثل من الممثلين )). أخرجه أحمد و الطبراني .
বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : কেয়ামত দিবসে সর্বাপেক্ষা কঠিন শাস্তি হবে যাদের, তারা হচ্ছে, এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহর কোন নবী হত্যা করেছেন অথবা যে ব্যক্তি কোন নবীকে হত্যা করেছে। পথ ভ্রষ্টতা ও গোমরাহীর ইমাম (নেতা-পথ প্রদর্শক) এবং ভাস্কর । [হাদীসের সনদ যাইয়েদ, বর্ণনায় আহমাদ (৩৮৬৮) এবং তবরানী আল কাবীরে ( ১০/২৬০)।]
أَلْقِيَا فِي جَهَنَّمَ كُلَّ كَفَّارٍ عَنِيدٍ ﴿24﴾ مَنَّاعٍ لِلْخَيْرِ مُعْتَدٍ مُرِيبٍ ﴿25﴾ الَّذِي جَعَلَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آَخَرَ فَأَلْقِيَاهُ فِي الْعَذَابِ الشَّدِيدِ ﴿26﴾
{ق:২৪-২৬}
তোমরা উভয়েই নিক্ষেপ কর জাহান্নামে প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ বিরুদ্ধবাদীকে। যে বাধা দিত মঙ্গল জনক কাজে, সীমালঙ্ঘনকারী, সন্দেহ পোষণকারীকে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে উপাস্য গ্রহণ করত, তাকে তোমরা কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ কর।{সূরা ক্বাফ:২৪-২৬}
২-আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা আরো বলেন:
فَوَقَاهُ اللَّهُ سَيِّئَاتِ مَا مَكَرُوا وَحَاقَ بِآَلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ ﴿45﴾ النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آَلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ ﴿46﴾ { غافر :৪৫-৪৬}
এবং ফেরআউন গোত্রকে শোচনীয় আযাব গ্রাস করল। সকাল ও সন্ধ্যায় তাদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং যে কেয়ামত সঙ্ঘটিত হবে, সেদিন আদেশ করা হবে, ফেরআউন গোত্রকে কঠিনতর আযাবে দাখিল কর।{সূরা গাফের:৪৫-৪৬}
৩-অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ زِدْنَاهُمْ عَذَابًا فَوْقَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُوا يُفْسِدُونَ { النحل :৮৮}
যারা কাফের হয়েছে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, আমি তাদেরকে আযাবের পর আযাব বাড়িয়ে দেব। কারণ, তারা অনর্থ - অশান্তি সৃষ্টি করত।{সূরা নাহল:৮৮}
৪-আরও ইরশাদ হচ্ছে:
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا ..{ النساء :145}
নি:সন্দেহে মুনাফেকরা রয়েছে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে, আর তোমরা কখনো তাদের কোন সাহায্যকারী পাবে না। {সূরা আননিসা:১৪৫}
৫-আল্লাহ তাআলা আরোও বলছেন:
فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّيَاطِينَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا ﴿68﴾ ثُمَّ لَنَنْزِعَنَّ مِنْ كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَى الرَّحْمَنِ عِتِيًّا ﴿69﴾ ثُمَّ لَنَحْنُ أَعْلَمُ بِالَّذِينَ هُمْ أَوْلَى بِهَا صِلِيًّا ﴿70﴾ { مريم :৬৮-৭০}
সুতরাং আপনার পালনকর্তার কসম, আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রে সমবেত করব, অত:পর অবশ্যই তাদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামের চারপাশে উপস্থিত করব। অত:পর তাদের মধ্যে যারা জাহান্নামে প্রবেশের অধিক যোগ্য, আমি তাদের বিষয়ে ভালভাবে জ্ঞাত আছি। {সূরা মারইয়াম:৬৮-৭০}
৬-হাদীসে এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم :(( تخرج عنق من النار يوم القيامة , لها عينان تبصران , وأذنان تسمعان , ولسان ينطق يقول : إني وكلت بثلاثة : بكل جبار عنيد , وبكل من دعا مع الله إلها آخر , وبالمصورين )). أخرجه أحمد والترمذي .
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: কেয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে একটি গ্রীবা (সদৃশ বস্ত্ত) বের হয়ে আসবে। তার দু’টো চক্ষু থাকবে যার দ্বারা দেখবে, দু'টো কান থাকবে যার মাধ্যমে শুনবে, এবং যিহবা থাকবে যার মাধ্যমে কথা বলবে। সে বলবে: আমি তিন শ্রেণীর লোকের (শাস্তির) প্রতি দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছি: প্রত্যেক অবাধ্য অহংকারীর প্রতি, যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহ-উপাস্যেদের ডাকে এবং জীবন্ত প্রাণীর চিত্রাংকন কারীর প্রতি। [হাদীসটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনায় আহমাদ (৮৪১১) এবং তিরমিযী (২৫৭৪)।]
৭- হাদীসে এসেছে
وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم :(( إن أشد الناس عذابا يوم القيامة المصورون )). متفق عليه .
বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: কেয়ামতের দিন সবচে কঠিন শাস্তি হবে (জীবন্ত প্রাণীর) চিত্রাংকন কারীর। [বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৫৯৫০) ও (২১০৯)।]
৮- হাদীসে এসেছে
وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال :(( أشد الناس عذابا يوم القيامة رجل قتله نبي , أو قتل نبيا , وإمام ضلالة , وممثل من الممثلين )). أخرجه أحمد و الطبراني .
বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : কেয়ামত দিবসে সর্বাপেক্ষা কঠিন শাস্তি হবে যাদের, তারা হচ্ছে, এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহর কোন নবী হত্যা করেছেন অথবা যে ব্যক্তি কোন নবীকে হত্যা করেছে। পথ ভ্রষ্টতা ও গোমরাহীর ইমাম (নেতা-পথ প্রদর্শক) এবং ভাস্কর । [হাদীসের সনদ যাইয়েদ, বর্ণনায় আহমাদ (৩৮৬৮) এবং তবরানী আল কাবীরে ( ১০/২৬০)।]