১
মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী
লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৪
লেখার কাজে নিয়োজিত সম্মানিত ফেরেশতাবৃন্দ (কিরামুন কাতিবীন)-এর দায়িত্ব :
আল্লাহ তাআলা লিখার দায়িত্ব পালনকারী কিছু সম্মানিত ফেরেশতা সৃষ্টিা করেছেন। এবং তাঁদেরকে আমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক স্থির করেছেন। তাঁরা কথা, আমল ও নিয়তসমূহ লিখে সংরক্ষণ করেন। প্রতিটি মানুষের সাথে দুজন করে ফেরেশতা থাকেন। ডানপার্শ্বস্থজন তার নেককাজসমূহ লিপিবদ্ধ করেন আর বামপার্শ্বস্থজন লিখেন বদকাজসমূহ।
আরো দুজন আছেন যারা তাকে হিফাজত ও রক্ষাণাবেক্ষণ করেন। এদের একজন থাকেন তার সামনে অন্যজন পেছনে।
১। মহান আল্লাহ বলেন:
وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ ﴿10﴾ كِرَامًا كَاتِبِينَ ﴿11﴾ يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ ﴿12﴾ ( سورة الإنفطار : 10-12)
আর অবশ্যই তোমাদের উপর সংরক্ষকগণ রয়েছে। সম্মানিত লেখকবৃন্দ। তারা জানে যা তোমরা কর। [সূরা ইনফিতার: ১০-১২।]
২। আল্লাহ আরও বলেন:-
إِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيدٌ ﴿17﴾ مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ ﴿18﴾ ( سورة ق : 17-18)
যখন ডানে ও বামে বসা দু’জন লিপিবদ্ধকারী পরস্পর গ্রহণ করবে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে তার কাছে সদা উপস্থিত সংরক্ষণকারী আছে। [সূরা ক্বাফ : ১৭-১৮।]
৩। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে :
لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ يَحْفَظُونَهُ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ وَمَا لَهُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَالٍ ﴿11﴾ ( سورة الرعد : 11)
মানুষের জন্য রয়েছে, সামনে ও পেছনে, একের পর এক আগমনকারী প্রহরী, যারা আল্লাহর নির্দেশে তাকে হিফাযত করে। নিশ্চয় আল্লাহ কোন কওমের অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আর যখন আল্লাহ কোন জাতির মন্দ চান, তখন তা প্রতিহত করা যায় না এবং তাদের জন্য তিনি ছাড়া কোন অভিভাবক নেই। [সূরা রা’দ : ১১]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَقُولُ اللَّهُ إِذَا أَرَادَ عَبْدِي أَنْ يَعْمَلَ سَيِّئَةً فَلَا تَكْتُبُوهَا عَلَيْهِ حَتَّى يَعْمَلَهَا فَإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا بِمِثْلِهَا وَإِنْ تَرَكَهَا مِنْ أَجْلِي فَاكْتُبُوهَا لَهُ حَسَنَةً وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْمَلَ حَسَنَةً فَلَمْ يَعْمَلْهَا فَاكْتُبُوهَا لَهُ حَسَنَةً فَإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا لَهُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ . متفق عليه .
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমার বান্দা যদি পাপকর্ম করার সংকল্প করে তাহলে তোমরা ঐ কর্ম সম্পাদন করার পূর্ব পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে সেটি লিখবে না। যদি সংকল্পকৃত কাজটি সম্পাদন করে ফেলে তাহলে কাজের অনুরূপ একটি পাপ তার আমল নামায় লিখবে। আর যদি আমার সম্মানে উক্ত পাপ কাজ পরিহার করে সংকল্প পরিবর্তন করে তাহলে সেটিকে একটি পরিপূর্ণ হাসানাহ তথা নেককাজ হিসাবে তার আমল নামায় লিখে নাও। আর যদি সে কোন নেককাজ করার সংকল্প করে কাজে রূপান্তরিত করল না তাহলে এর বিনিময়ে তার আমলনামায় একটি পরিপূর্ণ হাসানাহ লেখ। আর যদি উক্ত কাজ সম্পাদন করে তাহলে ঐ এক কাজের বিনিময়ে অনুরূপ দশ থেকে সাতশতগুণ আমলের ছাওয়াব তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ কর। [বুখারী ও মুসলিম, বুখারী হাদীস নং ৭৫০১ এবং মুসলিম হাদীস নং ১২৮।]
আরো দুজন আছেন যারা তাকে হিফাজত ও রক্ষাণাবেক্ষণ করেন। এদের একজন থাকেন তার সামনে অন্যজন পেছনে।
১। মহান আল্লাহ বলেন:
وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ ﴿10﴾ كِرَامًا كَاتِبِينَ ﴿11﴾ يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ ﴿12﴾ ( سورة الإنفطار : 10-12)
আর অবশ্যই তোমাদের উপর সংরক্ষকগণ রয়েছে। সম্মানিত লেখকবৃন্দ। তারা জানে যা তোমরা কর। [সূরা ইনফিতার: ১০-১২।]
২। আল্লাহ আরও বলেন:-
إِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيدٌ ﴿17﴾ مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ ﴿18﴾ ( سورة ق : 17-18)
যখন ডানে ও বামে বসা দু’জন লিপিবদ্ধকারী পরস্পর গ্রহণ করবে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে তার কাছে সদা উপস্থিত সংরক্ষণকারী আছে। [সূরা ক্বাফ : ১৭-১৮।]
৩। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে :
لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ يَحْفَظُونَهُ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ وَمَا لَهُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَالٍ ﴿11﴾ ( سورة الرعد : 11)
মানুষের জন্য রয়েছে, সামনে ও পেছনে, একের পর এক আগমনকারী প্রহরী, যারা আল্লাহর নির্দেশে তাকে হিফাযত করে। নিশ্চয় আল্লাহ কোন কওমের অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আর যখন আল্লাহ কোন জাতির মন্দ চান, তখন তা প্রতিহত করা যায় না এবং তাদের জন্য তিনি ছাড়া কোন অভিভাবক নেই। [সূরা রা’দ : ১১]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَقُولُ اللَّهُ إِذَا أَرَادَ عَبْدِي أَنْ يَعْمَلَ سَيِّئَةً فَلَا تَكْتُبُوهَا عَلَيْهِ حَتَّى يَعْمَلَهَا فَإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا بِمِثْلِهَا وَإِنْ تَرَكَهَا مِنْ أَجْلِي فَاكْتُبُوهَا لَهُ حَسَنَةً وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْمَلَ حَسَنَةً فَلَمْ يَعْمَلْهَا فَاكْتُبُوهَا لَهُ حَسَنَةً فَإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا لَهُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ . متفق عليه .
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমার বান্দা যদি পাপকর্ম করার সংকল্প করে তাহলে তোমরা ঐ কর্ম সম্পাদন করার পূর্ব পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে সেটি লিখবে না। যদি সংকল্পকৃত কাজটি সম্পাদন করে ফেলে তাহলে কাজের অনুরূপ একটি পাপ তার আমল নামায় লিখবে। আর যদি আমার সম্মানে উক্ত পাপ কাজ পরিহার করে সংকল্প পরিবর্তন করে তাহলে সেটিকে একটি পরিপূর্ণ হাসানাহ তথা নেককাজ হিসাবে তার আমল নামায় লিখে নাও। আর যদি সে কোন নেককাজ করার সংকল্প করে কাজে রূপান্তরিত করল না তাহলে এর বিনিময়ে তার আমলনামায় একটি পরিপূর্ণ হাসানাহ লেখ। আর যদি উক্ত কাজ সম্পাদন করে তাহলে ঐ এক কাজের বিনিময়ে অনুরূপ দশ থেকে সাতশতগুণ আমলের ছাওয়াব তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ কর। [বুখারী ও মুসলিম, বুখারী হাদীস নং ৭৫০১ এবং মুসলিম হাদীস নং ১২৮।]