hadith book logo

মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২৮

জাহান্নামীদের জাহান্নামে প্রবেশ পদ্ধতি:

১-মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন:

وَسِيقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا فُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَتْلُونَ عَلَيْكُمْ آَيَاتِ رَبِّكُمْ وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا بَلَى وَلَكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ الْعَذَابِ عَلَى الْكَافِرِينَ ﴿71﴾ قِيلَ ادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا فَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِينَ ﴿72﴾ { الزمر :৭১-৭২}

কাফেরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা যখন সেখানে পৌঁছবে, তখন তার দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগন আসেননি, যারা তোমাদের নিকট তোমাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করতেন এবং এ দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে সতর্ক করতেন? তারা বলবে: হ্যাঁ, কিন্তু কাফেরদের প্রতি শাস্তির হুকুমই বাস্তবায়িত হয়েছে। বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে প্রবেশ কর, সেখানে চিরকাল অবস্থানের জন্য। কত নিকৃষ্ট অহংকারীদের আবাসস্থল। {সূরা যুমার:৭১-৭২}

২-অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:

بَلْ كَذَّبُوا بِالسَّاعَةِ وَأَعْتَدْنَا لِمَنْ كَذَّبَ بِالسَّاعَةِ سَعِيرًا ﴿11﴾ إِذَا رَأَتْهُمْ مِنْ مَكَانٍ بَعِيدٍ سَمِعُوا لَهَا تَغَيُّظًا وَزَفِيرًا ﴿12﴾ وَإِذَا أُلْقُوا مِنْهَا مَكَانًا ضَيِّقًا مُقَرَّنِينَ دَعَوْا هُنَالِكَ ثُبُورًا ﴿13﴾ لَا تَدْعُوا الْيَوْمَ ثُبُورًا وَاحِدًا وَادْعُوا ثُبُورًا كَثِيرًا ﴿14﴾ { الفرقان :১১-১৪}

যারা কেয়ামতকে অস্বীকার করে তাদের জন্য আমি প্রস্ত্তত রেখেছি জ্বলন্ত অগ্নি। অগ্নি যখন দূর হতে তাদেরকে দেখবে তখন তারা শুনতে পাবে তার ক্রুদ্ধ গর্জন ও হুঙ্কার। এবং যখন তাদেরকে শৃঙ্খলিত অবস্থায় জাহান্নামের কোন এক সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সেখানে ধ্বংস তথা মৃত্যুকে আহবান করবে। বলা হবে আজ তোমরা এক মৃত্যুকে ডেকো না-অনেক মৃত্যুকে ডাক।

{সূরা আল-ফোরক্বান:১১-১৪}

৩-আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:

يَوْمَ يُدَعُّونَ إِلَى نَارِ جَهَنَّمَ دَعًّا ﴿13﴾ هَذِهِ النَّارُ الَّتِي كُنْتُمْ بِهَا تُكَذِّبُونَ ﴿14﴾ { الطور :১৩-১৪}

যেদিন তাদেরকে জাহান্নামের অগ্নির দিকে ধাক্কা মেরে মেরে নিয়ে যাওয়া হবে। এবং বলা হবে এই সেই অগ্নি , যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। {সূরা আত্ব-তুর:১৩-১৪}

৪-আরও ইরশাদ হচ্ছে:

وَتَرَى الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ مُقَرَّنِينَ فِي الْأَصْفَادِ ﴿49﴾ سَرَابِيلُهُمْ مِنْ قَطِرَانٍ وَتَغْشَى وُجُوهَهُمُ النَّارُ ﴿50﴾ { إبراهيم :৪৯-৫০}

সেদিন তুমি অপরাধিদেরকে পরস্পরে শৃঙ্খলিত অবস্থায় দেখবে। তাদের জামা হবে দাহ্য আলকাতরার এবং তাদের মুখমন্ডলকে আগুন আচ্ছন্ন করে ফেলবে।{সূরা ইবরাহীম:৪৯-৫০}

৫- হাদীসে এসেছে

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم :(( تخرج عنق من النار يوم القيامة , لها عينان تبصران , وأذنان تسمعان , ولسان ينطق يقول : إني وكلت بثلاثة : بكل جبار عنيد , وبكل من دعا مع الله إلها آخر , وبالمصورين )). أخرجه أحمد والترمذي .

বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: কেয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে একটি গ্রীবা (সদৃশ বস্ত্ত) বের হয়ে আসবে। তার দু’টো চক্ষু থাকবে যার দ্বারা দেখবে, দু'টো কান থাকবে যার মাধ্যমে শুনবে, এবং যিহবা থাকবে যার মাধ্যমে কথা বলবে। সে বলবে: আমি তিন শ্রেণীর লোকের (শাস্তির) প্রতি দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছি, প্রত্যেক অবাধ্য অহংকারীর প্রতি, যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহ-উপাস্যদের ডাকে এবং জীবন্ত প্রাণীর চিত্রাংকন কারীর প্রতি। [হাদীসটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনায় আহমাদ (৮৪১১) এবং তিরমিযী (২৫৭৪)।]