hadith book logo

মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯

শিরকে আসগরের কিছু নমুনা :

আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করা, এভাবে বলা : যা আল্লাহ ও অমুক ইচ্ছা করেছেন, যদি আল্লাহ ও অমুক না থাকত . . , এটি আল্লাহ ও অমুকের কৃপায় পাওয়া, আল্লাহ ও অমুক ব্যতীত আমার আর কেউ নেই এ জাতীয় কথা বলা।

এ ধরণের কথা বলার প্রয়োজন হলে এ ভাবে বলা যায়, যা আল্লাহ চেয়েছেন অতঃপর অমুক চেয়েছে।

(১) হাদীসে এসেছে

عن ابن عمر رضي الله عنهما قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول :(( من حلف بغير الله فقد كفر أو أشرك )). أخرجه ابوداود والترمذي .

‘সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি- যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করল, সে কুফরী করল বা শিরক করল। [বর্ণিত হাদীসটি সহীহ, বর্ণনায় আবুদাউদ হাদীস নং ৩২৫২ এবং তিরমিযী হাদীস নং ১৫৩৫ হাদীসের ভাষ্য তিরমিযীর।]

(২) হাদীসে এসেছে

و عن حذيفة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : لا تقولوا ما شاء الله وشاء فلان ولكن قولوا ما شاء الله ثم ما شاء فلان )). ( أخرجه أحمد وابوداود )

‘হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন : তোমরা এরূপ বলোনা : আল্লাহ ও অমুক যা চেয়েছেন। বরং এরূপ বল : আল্লাহ তা’আলা যা চেয়েছেন অতঃপর অমুক যা চেয়েছে। [হাদীসটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে, বর্ণনায় আহমদ হাদীস নং ২৩৫৪, দেখুন আসসিলসিলাতুস সহীহাহ নং ১৩৭ এবং আবু দাউদ হাদীস নং ৪৯৮০। ভাষ্য আবু দাউদের।]

শিরকে আসগর, সম্পাদনকারীর নিয়ত ও মন-মানসিকতার কারণে কখনো কখনো শিরকে আকবরে পরিণত হয়ে যায়। তাই প্রত্যেক মুসলমানের ছোট বড় সর্ব প্রকার শিরক থেকেই বেঁচে থাকা একান্ত জরুরী। কারণ শিরক বড় ধরণের অন্যায়, মারাত্মক গুনাহ যা আল্লাহ ক্ষমা করবেন না মর্মে ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন-

إن الله لا يغفر أن يشرك به و يغفر ما دون ذلك لمن يشاء .

‘নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এরচে নিম্ন পর্যায়ের গুনাহ, যাকে ইচ্ছা করেন।’ [সূরা নিসা: ৪৮]