১
মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী
লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৪৩
জাহান্নামীদের ঝগড়া-বিবাদ:
অমুসলিম-কাফেরদের জন্য আল্লাহ তাআলা যে আযাব প্রস্ত্তত করে রেখেছেন তারা তা প্রত্যক্ষ করার পর নিজেদেরকে এবং পৃথিবীতে যেসকল বন্ধু বান্ধব ছিল তাদেরকে খুব ঘৃণা করতে লাগবে। তাদের মাঝে বিদ্যমান সকল মিল মুহাববত শত্রুতায় পরিবর্তিত হয়ে যাবে।এরপর জাহান্নামীরা একে অপরকে দোষারোপ করতে লাগবে। তাদের নিজস্ব অবস্থানগত বিভিন্নতার জন্য বিতর্কে লিপ্ত হয়ে পড়বে।
১- উপাসকদের স্বীয় উপাস্যদিগকে দোষারোপ করা:
قَالُوا وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ ﴿96﴾ تَاللَّهِ إِنْ كُنَّا لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿97﴾ إِذْ نُسَوِّيكُمْ بِرَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿98﴾ وَمَا أَضَلَّنَا إِلَّا الْمُجْرِمُونَ ﴿99﴾
{ الشعراء :৯৬-৯৯}
তারা তথায় কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়ে বলবে, আল্লাহর কসম আমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম, যখন আমরা তোমাদেরকে বিশ্ব-পালনকর্তা আল্লাহর সমতুল্য গণ্য করতাম। আমাদেরকে দুষ্টকর্মীরাই গোমরাহ করেছিল। {সূরা আশ্ শোআরা:৯৬-৯৯}
২- দুর্বল-অধিনস্থদের অহংকারী নেত্রীবর্গদিগকে দোষারোপ করা:
وَإِذْ يَتَحَاجُّونَ فِي النَّارِ فَيَقُولُ الضُّعَفَاءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ أَنْتُمْ مُغْنُونَ عَنَّا نَصِيبًا مِنَ النَّارِ ﴿47﴾ قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُلٌّ فِيهَا إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَكَمَ بَيْنَ الْعِبَادِ ﴿48﴾
{ غافر :৪৭-৪৮}
যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্ক করবে, অত:পর দুর্বলরা অহংকারীদেরকে বলবে, আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। তোমরা এখন জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ আমাদের থেকে নিবৃত করবে কি? অহংকারীরা বলবে, আমরা সবাইতো জাহান্নামে আছি। আল্লাহ তার বান্দাদের ফায়সালা করে দিয়েছেন। { সূরা গাফের:৪৭-৪৮}
৩-পথভ্রষ্ট নেতাদের সাথে অনুসারীদের বিতর্ক:
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ ﴿27﴾ قَالُوا إِنَّكُمْ كُنْتُمْ تَأْتُونَنَا عَنِ الْيَمِينِ ﴿28﴾ قَالُوا بَلْ لَمْ تَكُونُوا مُؤْمِنِينَ ﴿29﴾ وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُمْ مِنْ سُلْطَانٍ بَلْ كُنْتُمْ قَوْمًا طَاغِينَ ﴿30﴾ فَحَقَّ عَلَيْنَا قَوْلُ رَبِّنَا إِنَّا لَذَائِقُونَ ﴿31﴾ فَأَغْوَيْنَاكُمْ إِنَّا كُنَّا غَاوِينَ ﴿32﴾ فَإِنَّهُمْ يَوْمَئِذٍ فِي الْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ ﴿33﴾
{ الصافات :২৭-৩৩}
তারা একে অপরের সামনা সামনি হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। বলবে,তোমরা তো (শক্তি প্রয়োগ করে পথভ্রষ্ট করতে) আমাদের কাছে ডান দিক থেকে আসতে। তারা বলবে, বরং তোমরা তো বিশ্বাসীই ছিলে না। এবং তোমাদের উপর আমাদের কোন কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরাই ছিলে সীমানঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। আমাদের বিপক্ষে আমাদের পালনকর্তার উক্তিই সত্য হয়েছে, আমাদেরকে অবশ্যই শাস্তি আস্বাদন করতে হবে। আমরা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম কারণ, আমরা নিজেরাই পথভ্রষ্ট ছিলাম। তারা সবাই সেদিন আযাবে শরীক হবে।{সূরা সাফ্ফাত:২৭-৩৩}
৪-কাফের ও তার সহচর শয়তানের বিতর্ক:
قَالَ لَا تَخْتَصِمُوا لَدَيَّ وَقَدْ قَدَّمْتُ إِلَيْكُمْ بِالْوَعِيدِ ﴿28﴾ مَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ وَمَا أَنَا بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ ﴿29﴾
{ق:২৭-২৯}
তার সহচর শয়তান বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমি তাকে অবাধ্য হতে প্ররোচিত করিনি, বস্ত্তত: সে নিজেই ছিল সুদূর পথভ্রন্তিতে লিপ্ত। আল্লাহ বলবেন, আমার সামনে বাকবিতন্ডা করোনা। আমিতো পূর্বেই তোমাদেরকে আযাব দ্বারা ভয় প্রদর্শন করেছিলাম। আমার কাছে কথা রদবদল হয় না এবং আমি বান্দাদের প্রতি জুলুমকারী নই।{সূরা ক্বাফ:২৭-২৯}
৫-মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যখন তার নিজের বিপক্ষে বিতর্ক-বিবাদ করবে তখন বিষয় অতি মারাত্মক পর্যায়ে পৌছে যাবে।
وَيَوْمَ يُحْشَرُ أَعْدَاءُ اللَّهِ إِلَى النَّارِ فَهُمْ يُوزَعُونَ ﴿19﴾ حَتَّى إِذَا مَا جَاءُوهَا شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَأَبْصَارُهُمْ وَجُلُودُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿20﴾ وَقَالُوا لِجُلُودِهِمْ لِمَ شَهِدْتُمْ عَلَيْنَا قَالُوا أَنْطَقَنَا اللَّهُ الَّذِي أَنْطَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ خَلَقَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿21﴾ { فصلت :১৯-২১}
যে দিন আল্লাহর শত্রুদেরকে অগ্নিকুন্ডের দিকে ঠেলে নেওয়া হবে। এবং ওদের বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে। তারা যখন জাহান্নামের কাছে পৌছবে, তখন তাদের কান, চক্ষু ও ত্বক তাদের কর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে। তারা তাদের ত্বককে বলবে, তোমরা আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিলে কেন? তারা বলবে, যে আল্লাহ সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন, তিনি আমাদেরকেও বাক শক্তি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।{সূরা ফুসসিলাত:১৯-২১}
১- উপাসকদের স্বীয় উপাস্যদিগকে দোষারোপ করা:
قَالُوا وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ ﴿96﴾ تَاللَّهِ إِنْ كُنَّا لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿97﴾ إِذْ نُسَوِّيكُمْ بِرَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿98﴾ وَمَا أَضَلَّنَا إِلَّا الْمُجْرِمُونَ ﴿99﴾
{ الشعراء :৯৬-৯৯}
তারা তথায় কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়ে বলবে, আল্লাহর কসম আমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম, যখন আমরা তোমাদেরকে বিশ্ব-পালনকর্তা আল্লাহর সমতুল্য গণ্য করতাম। আমাদেরকে দুষ্টকর্মীরাই গোমরাহ করেছিল। {সূরা আশ্ শোআরা:৯৬-৯৯}
২- দুর্বল-অধিনস্থদের অহংকারী নেত্রীবর্গদিগকে দোষারোপ করা:
وَإِذْ يَتَحَاجُّونَ فِي النَّارِ فَيَقُولُ الضُّعَفَاءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ أَنْتُمْ مُغْنُونَ عَنَّا نَصِيبًا مِنَ النَّارِ ﴿47﴾ قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُلٌّ فِيهَا إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَكَمَ بَيْنَ الْعِبَادِ ﴿48﴾
{ غافر :৪৭-৪৮}
যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্ক করবে, অত:পর দুর্বলরা অহংকারীদেরকে বলবে, আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। তোমরা এখন জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ আমাদের থেকে নিবৃত করবে কি? অহংকারীরা বলবে, আমরা সবাইতো জাহান্নামে আছি। আল্লাহ তার বান্দাদের ফায়সালা করে দিয়েছেন। { সূরা গাফের:৪৭-৪৮}
৩-পথভ্রষ্ট নেতাদের সাথে অনুসারীদের বিতর্ক:
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ ﴿27﴾ قَالُوا إِنَّكُمْ كُنْتُمْ تَأْتُونَنَا عَنِ الْيَمِينِ ﴿28﴾ قَالُوا بَلْ لَمْ تَكُونُوا مُؤْمِنِينَ ﴿29﴾ وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُمْ مِنْ سُلْطَانٍ بَلْ كُنْتُمْ قَوْمًا طَاغِينَ ﴿30﴾ فَحَقَّ عَلَيْنَا قَوْلُ رَبِّنَا إِنَّا لَذَائِقُونَ ﴿31﴾ فَأَغْوَيْنَاكُمْ إِنَّا كُنَّا غَاوِينَ ﴿32﴾ فَإِنَّهُمْ يَوْمَئِذٍ فِي الْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ ﴿33﴾
{ الصافات :২৭-৩৩}
তারা একে অপরের সামনা সামনি হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। বলবে,তোমরা তো (শক্তি প্রয়োগ করে পথভ্রষ্ট করতে) আমাদের কাছে ডান দিক থেকে আসতে। তারা বলবে, বরং তোমরা তো বিশ্বাসীই ছিলে না। এবং তোমাদের উপর আমাদের কোন কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরাই ছিলে সীমানঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। আমাদের বিপক্ষে আমাদের পালনকর্তার উক্তিই সত্য হয়েছে, আমাদেরকে অবশ্যই শাস্তি আস্বাদন করতে হবে। আমরা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম কারণ, আমরা নিজেরাই পথভ্রষ্ট ছিলাম। তারা সবাই সেদিন আযাবে শরীক হবে।{সূরা সাফ্ফাত:২৭-৩৩}
৪-কাফের ও তার সহচর শয়তানের বিতর্ক:
قَالَ لَا تَخْتَصِمُوا لَدَيَّ وَقَدْ قَدَّمْتُ إِلَيْكُمْ بِالْوَعِيدِ ﴿28﴾ مَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ وَمَا أَنَا بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ ﴿29﴾
{ق:২৭-২৯}
তার সহচর শয়তান বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমি তাকে অবাধ্য হতে প্ররোচিত করিনি, বস্ত্তত: সে নিজেই ছিল সুদূর পথভ্রন্তিতে লিপ্ত। আল্লাহ বলবেন, আমার সামনে বাকবিতন্ডা করোনা। আমিতো পূর্বেই তোমাদেরকে আযাব দ্বারা ভয় প্রদর্শন করেছিলাম। আমার কাছে কথা রদবদল হয় না এবং আমি বান্দাদের প্রতি জুলুমকারী নই।{সূরা ক্বাফ:২৭-২৯}
৫-মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যখন তার নিজের বিপক্ষে বিতর্ক-বিবাদ করবে তখন বিষয় অতি মারাত্মক পর্যায়ে পৌছে যাবে।
وَيَوْمَ يُحْشَرُ أَعْدَاءُ اللَّهِ إِلَى النَّارِ فَهُمْ يُوزَعُونَ ﴿19﴾ حَتَّى إِذَا مَا جَاءُوهَا شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَأَبْصَارُهُمْ وَجُلُودُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿20﴾ وَقَالُوا لِجُلُودِهِمْ لِمَ شَهِدْتُمْ عَلَيْنَا قَالُوا أَنْطَقَنَا اللَّهُ الَّذِي أَنْطَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ خَلَقَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿21﴾ { فصلت :১৯-২১}
যে দিন আল্লাহর শত্রুদেরকে অগ্নিকুন্ডের দিকে ঠেলে নেওয়া হবে। এবং ওদের বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে। তারা যখন জাহান্নামের কাছে পৌছবে, তখন তাদের কান, চক্ষু ও ত্বক তাদের কর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে। তারা তাদের ত্বককে বলবে, তোমরা আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিলে কেন? তারা বলবে, যে আল্লাহ সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন, তিনি আমাদেরকেও বাক শক্তি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।{সূরা ফুসসিলাত:১৯-২১}