১
মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী
লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৬
শিরকে আকবরের কিছু নমুনা :
(১) ভয় এর ক্ষেত্রে শিরক :
আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কিছু যেমন মুর্তি, প্রতিমা, তাগুত, মৃত বা অদৃশ্য জ্বিন ও মানুষ ইত্যাদিকে ক্ষতি করবে অথবা অনাকাঙ্ক্ষিত কিছুতে আপতিত করবে মর্মে ভয় করা। এরূপ ভয় ও ভীতি দ্বীনের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা শুধু মাত্র আল্লাহ তা’আলার সাথে নির্দিষ্ট। এখন যদি কেউ এটিকে আল্লাহ ভিন্ন অন্য কারো দিকে সম্পর্কিত করে তাহলে সে আল্লাহর সাথে বড় শিরক করল বলে বিবেচিত হবে।
আল্লাহ বলেন-
فلا تخافوهم و خافون إن كنتم مؤمنين . آل عمران / ১৭৫
‘সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো না। আমাকে ভয় কর যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক।’ [সূরা আল ইমরান: ১৭৫]
(২) তাওয়াক্কুল এর ক্ষেত্রে শিরক :
সকল কাজে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলার উপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করা একটি শীর্ষ পর্যায়ের ইবাদত যা কেবলমাত্র আল্লাহ তা’আলার উদ্দেশ্যেই সম্পাদিত হওয়ার দাবী রাখে। সুতরাং যদি কোন ব্যক্তি এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে গাইরুল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করল যে বিষয়ের উপর আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কেউ ক্ষমতা রাখে না। তাহলে সে আল্লাহর সাথে শিরক করল। যেমন কেউ অনিষ্ট প্রতিরোধ, উপকার ও রিযিক অর্জন ইত্যাদি বিষয়ে মৃত ও অদৃশ্য ব্যক্তিবর্গের উপর তাওয়াক্কুল করল (যে অমুক সহায় থাকলে কোন চিন্তা নাই ইত্যাদি)। আর এরূপ শিরক;শিরকে আকবরের অন্তর্ভূক্ত।
আল্লাহ তা’আলা বলেন :
وعلى الله فتوكلوا إن كنتم مؤمنين . المائدة / ২৩
‘এবং একমাত্র আল্লাহ তা’আলার উপরই তাওয়াক্কুল কর যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।’ [সূরা মায়েদা : ২৩]
(৩) মুহাববতের ক্ষেত্রে শিরক :
আল্লাহ তা’আলার মুহাববত, এমনই এক মুহাববত যার আবেদন অনেক ব্যাপক, যা পরিপূর্ণ বিনয় এবং সর্বাত্মক আনুগত্যকে অনিবার্য করে। ‘এ মুহাববত একেবারেই স্বতন্ত্র’ এ পর্যায়ের মুহাববতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্য কেউ শরীক হতে পারে না। আল্লাহকে যেমন মুহাববত করা হয় যদি কোন ব্যক্তি অন্য কাউকে এ পর্যায়ের মুহাববত করে, তার অর্থ হচ্ছে ঐ ব্যক্তি মুহাববত ও তা’যীমের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা’আলার শরীক ও সমকক্ষ স্থির করছে। আর এটিই শিরক।
আল্লাহ তা’আলা বলেন :
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ آَمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ
‘আর কিছু লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি ঈমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশী।’ [সূরা বাকারা: ১৬৫]
(৪) আনুগত্যের ক্ষেত্রে শিরক :
গাইরুল্লাহকে মান্য করা ও তাদের আনুগত্য করার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা থেকেই মূলতঃ শিরক ফিত তাআত তথা আনুগত্যের ক্ষেত্রে শিরকের উৎপত্তি। যেমন আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক হারামকৃত বিষয়কে হালাল বা হালালকৃত বস্ত্তকে হারাম করার ক্ষেত্রে উলামা, শাসনকর্তা, উমারাদের আনুগত্য করা। সুতরাং যেসব লোক এসব ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করবে, (এর মাধ্যমে মূলত) তারা শরয়ী বিধান অনুমোদন, প্রয়োগ এবং হালাল বা হারাম করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তা’আলার সমকক্ষ-শরীক সাব্যস্ত করেছে বলে বিবেচিত হবে। আর এসব কাজ শিরকে আকবরের অন্তর্ভূক্ত।
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন-
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
‘তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের ধর্মজাযক ও সংসার-বিরাগী তাদের প্রভূ রূপে গ্রহণ করেছে। এবং মারিয়াম তনয়কেও। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল একমাত্র মা’বুদের ইবাদতের জন্যে। তিনি ভিন্ন কোন মাবুদ নেই। তারা যে তাঁর শরীক সাব্যস্ত করে, তিনি তা থেকে পবিত্র।’ [সূরা তাওবা: ৩১]
আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কিছু যেমন মুর্তি, প্রতিমা, তাগুত, মৃত বা অদৃশ্য জ্বিন ও মানুষ ইত্যাদিকে ক্ষতি করবে অথবা অনাকাঙ্ক্ষিত কিছুতে আপতিত করবে মর্মে ভয় করা। এরূপ ভয় ও ভীতি দ্বীনের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা শুধু মাত্র আল্লাহ তা’আলার সাথে নির্দিষ্ট। এখন যদি কেউ এটিকে আল্লাহ ভিন্ন অন্য কারো দিকে সম্পর্কিত করে তাহলে সে আল্লাহর সাথে বড় শিরক করল বলে বিবেচিত হবে।
আল্লাহ বলেন-
فلا تخافوهم و خافون إن كنتم مؤمنين . آل عمران / ১৭৫
‘সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো না। আমাকে ভয় কর যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক।’ [সূরা আল ইমরান: ১৭৫]
(২) তাওয়াক্কুল এর ক্ষেত্রে শিরক :
সকল কাজে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলার উপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করা একটি শীর্ষ পর্যায়ের ইবাদত যা কেবলমাত্র আল্লাহ তা’আলার উদ্দেশ্যেই সম্পাদিত হওয়ার দাবী রাখে। সুতরাং যদি কোন ব্যক্তি এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে গাইরুল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করল যে বিষয়ের উপর আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কেউ ক্ষমতা রাখে না। তাহলে সে আল্লাহর সাথে শিরক করল। যেমন কেউ অনিষ্ট প্রতিরোধ, উপকার ও রিযিক অর্জন ইত্যাদি বিষয়ে মৃত ও অদৃশ্য ব্যক্তিবর্গের উপর তাওয়াক্কুল করল (যে অমুক সহায় থাকলে কোন চিন্তা নাই ইত্যাদি)। আর এরূপ শিরক;শিরকে আকবরের অন্তর্ভূক্ত।
আল্লাহ তা’আলা বলেন :
وعلى الله فتوكلوا إن كنتم مؤمنين . المائدة / ২৩
‘এবং একমাত্র আল্লাহ তা’আলার উপরই তাওয়াক্কুল কর যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।’ [সূরা মায়েদা : ২৩]
(৩) মুহাববতের ক্ষেত্রে শিরক :
আল্লাহ তা’আলার মুহাববত, এমনই এক মুহাববত যার আবেদন অনেক ব্যাপক, যা পরিপূর্ণ বিনয় এবং সর্বাত্মক আনুগত্যকে অনিবার্য করে। ‘এ মুহাববত একেবারেই স্বতন্ত্র’ এ পর্যায়ের মুহাববতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্য কেউ শরীক হতে পারে না। আল্লাহকে যেমন মুহাববত করা হয় যদি কোন ব্যক্তি অন্য কাউকে এ পর্যায়ের মুহাববত করে, তার অর্থ হচ্ছে ঐ ব্যক্তি মুহাববত ও তা’যীমের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা’আলার শরীক ও সমকক্ষ স্থির করছে। আর এটিই শিরক।
আল্লাহ তা’আলা বলেন :
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ آَمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ
‘আর কিছু লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি ঈমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশী।’ [সূরা বাকারা: ১৬৫]
(৪) আনুগত্যের ক্ষেত্রে শিরক :
গাইরুল্লাহকে মান্য করা ও তাদের আনুগত্য করার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা থেকেই মূলতঃ শিরক ফিত তাআত তথা আনুগত্যের ক্ষেত্রে শিরকের উৎপত্তি। যেমন আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক হারামকৃত বিষয়কে হালাল বা হালালকৃত বস্ত্তকে হারাম করার ক্ষেত্রে উলামা, শাসনকর্তা, উমারাদের আনুগত্য করা। সুতরাং যেসব লোক এসব ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করবে, (এর মাধ্যমে মূলত) তারা শরয়ী বিধান অনুমোদন, প্রয়োগ এবং হালাল বা হারাম করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তা’আলার সমকক্ষ-শরীক সাব্যস্ত করেছে বলে বিবেচিত হবে। আর এসব কাজ শিরকে আকবরের অন্তর্ভূক্ত।
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন-
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
‘তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের ধর্মজাযক ও সংসার-বিরাগী তাদের প্রভূ রূপে গ্রহণ করেছে। এবং মারিয়াম তনয়কেও। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল একমাত্র মা’বুদের ইবাদতের জন্যে। তিনি ভিন্ন কোন মাবুদ নেই। তারা যে তাঁর শরীক সাব্যস্ত করে, তিনি তা থেকে পবিত্র।’ [সূরা তাওবা: ৩১]