hadith book logo

মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৭৪

কাওনী নির্দেশাবলি তিন প্রকার:

১- সৃষ্টি ও অস্তিত্বদান বিষয়ক নির্দেশনা। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সকল সৃষ্টিজীবের প্রতি প্রেরিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

الله خالق كل شيء وهو على كل شيئ وكيل . { الزمر :৬২}

আল্লাহ সমস্ত কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সমস্ত কিছুর কর্মবিধায়ক। {সূরা যুমার:৬২}

২- স্থিতি বিষয়ক নির্দেশনা। এ নির্দেশনা স্থিতি ও স্থায়িত্ব সম্বন্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে সকল মাখলূকাতের প্রতি প্রেরিত।

(ক) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ أَنْ تَزُولَا وَلَئِنْ زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِنْ بَعْدِهِ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا { فاطر :৪১}

আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে আল্লাহই সংরক্ষণ করেন, যাতে তারা স্থানচ্যুত না হয়। তারা স্থানচ্যুত হলে তিনি ব্যতীত তাদেরকে সংরক্ষণ করবে? তিনিতো অতি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ। {সূরা ফাতির:৪১}

(খ) আরো ইরশাদ হচ্ছে:

وَمِنْ آَيَاتِهِ أَنْ تَقُومَ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ بِأَمْرِهِ ثُمَّ إِذَا دَعَاكُمْ دَعْوَةً مِنَ الْأَرْضِ إِذَا أَنْتُمْ تَخْرُجُونَ

{ الروم :২৫}

এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তাঁরই আদেশে আকাশ ও পৃথিবীর স্থিতি থাকে ; অত:পর আল্লাহ যখন তোমাদেরকে মৃত্তিকা হতে উঠে আসার জন্য একবার আহবান করবেন তখন তোমরা বের হয়ে আসবে। {সূরা রূম:২৫}

৩- উপকার-অপকার, নড়াচড়া-স্থিতি ও জীবন-মরণ ইত্যাদি বিষয়ক নির্দেশনা। আর এটি ফেরানো হয়েছে সকল মাখলূকাতের দিকে।

(ক) আল্লাহ তাআলা বলেন:

قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ { الأعراف :১৮৮}

তুমি বলে দাও, আমি আমার নিজের কোন উপকার ও ক্ষতির মালিক নই তবে আল্লাহ যা চান। আর যদি আমি গায়েব জানতামই তাহলে অধিক কল্যাণ লাভ করতাম আর আমাকে কোন ক্ষতি স্পর্শ করত না। আমিতো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সু সংবাদদাতা ঈমান আনয়নকারী সম্প্রদায়ের জন্য। {সূরা আ’রাফ:১৮৮}

(খ) আরো ইরশাদ হচ্ছে:

هُوَ الَّذِي يُسَيِّرُكُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ حَتَّى إِذَا كُنْتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِمْ بِرِيحٍ طَيِّبَةٍ وَفَرِحُوا بِهَا جَاءَتْهَا رِيحٌ عَاصِفٌ وَجَاءَهُمُ الْمَوْجُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ أُحِيطَ بِهِمْ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ لَئِنْ أَنْجَيْتَنَا مِنْ هَذِهِ لَنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ { يونس :২২}

তিনিই তোমাদিগকে জলে-স্থলে ভ্রমণ করান। এমনকি যখন তোমরা নৌকায় অবস্থান করা আর সেই নৌকাগুলো লোকদের নিয়ে অনুকূলে বায়ূর সাহায্যে চলতে থাকে, আর তারা তাতে আনন্দিত হয়, (হঠাৎ) তাদের উপর এক প্রচন্ড বায়ূ এসে পড়ে এবং প্রত্যেক দিক থেকে তাদের উপর তরঙ্গমালা ধেয়ে আসে, আর তারা মনে করে যে, তারা (বিপদে) বেষ্টিত হয়ে পড়েছে। (তখন) সকলে খাঁটি বিশ্বাসের সাথে আল্লাহকেই ডাকতে থাকে, যদি আপনি আমাদেরকে এটি হতে রক্ষা করেন, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞ হয়ে যাবো। {সূরা ইউনুস:২২}

৩- অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:

هو الذي يحي و يميت فإذا قضى أمرا فإنما يقول له كن فيكون . { غافر :৬৮}

তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং যখন তিনি কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন তখন বলেন: হয়ে যাও এবং তা হয়ে যায়। {সূরা গাফির: ৬৮}

বাকী থাকল শরয়ী নির্দেশনাবলী, এ নির্দেশনা আল্লাহর পক্ষ হতে শুধুমাত্র সাকালাইন তথা জিন ও মানুষের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এটিই দ্বীন। এটি ঈমান, ইবাদাত, লেন-দেন, আচার-আচরণ ও আখলাককে শামিল করে।

আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলি, তাঁর কার্যাবলী ও কাওনী নির্দেশনাবলীর উপর বিশ্বাসের দৃঢ়তার অনুপাতে বান্দার নিকট তাঁর শরয়ী নির্দেশনাবলী বাস্তবায়নের আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি হয় এবং এর একটি বিশেষ স্বাদ অনুভূত হয়। এ ব্যাপারে সর্বাধিক ভাগ্যবান মানুষ তাঁরাই, যাঁরা নিজেদের রব সম্পর্কের সবচে বেশি অভিজ্ঞ। আর তাঁরা হচ্ছেন আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম অত:পর তাদের নির্দেশনার অনুসারীবৃন্দ।

আল্লাহ তাআলার শরয়ী নির্দেশনাবলীর বাস্তবায়নের কারণে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে আমাদের জন্য আকাশ ও যমীনের বরকতের দারসমূহ উন্মোক্ত করে দেবেন এবং আখিরাতে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।