hadith book logo

মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৮১

তাকদীরের প্রতি ঈমানের প্রতিফল:

তাকদীরের প্রতি ঈমান প্রতিটি মুসলিমের সুখ-সমৃদ্ধি, মানসিক প্রশান্তি ও নিশ্চিন্ততার মূল উৎস। সে জানে যে, প্রতিটি বিষয় সঙ্ঘটিত হয় আল্লাহর সিদ্ধান্তে। সুতরাং উদ্দেশ্য সাধন হলে উৎফুল্লে উদ্বেলিত হয়ে মনে দম্ভভাবের সৃষ্টি হয় না। আবার কাঙ্ক্ষিত বস্ত্ত হাতছাড়া হয়ে গেলে কিংবা অনাকিঙ্ক্ষত কিছু সঙ্ঘটিত হয়ে গেলে মনোকষ্টে অস্থির-উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে না। কারণ তার জানা থাকে যে, সবকিছুই আল্লাহর সিদ্ধান্তে হয়, যা হবার তা হবেই।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ ﴿22﴾ لِكَيْ لَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آَتَاكُمْ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ ﴿23﴾

‘যমীনে এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যে এমন কোন মুসীবত আপতিত হয় না, যা আমি সংঘটিত করার পূর্বে কিতাবে লিপিবদ্ধ রাখি না। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ। যাতে তোমরা আফসোস না কর তার উপর যা তোমাদের থেকে হারিয়ে গেছে এবং তোমরা উৎফুল্ল না হও, তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তার কারণে। আর আল্লাহ কোন উদ্ধত ও অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না।’ [সূরা হাদীদ:২২-২৩।]

عَنْ صُهَيْبٍ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ . أخرجه مسلم

‘সাহাবী সুহাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মুমিনের প্রতিটি বিষয় বিস্ময়কর। তার প্রতিটি বিষয় কল্যাণকর। আর এটি শুধুমাত্র মুমিনের জন্য অন্য কারো জন্য নয়। যদি সুদিন আসে-সমৃদ্ধি অর্জন হয় তাহলে কৃতজ্ঞতা আদায় করে। এটি তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি দুর্দিন আসে-দারিদ্রে আপতিত হয় তাহলে সবর করে, এটিও তার জন্য কল্যাণকর।’ [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং (২৯৯৯)।]

عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ رضي الله عنه قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَجِبْتُ لِلْمُؤْمِنِ إِذَا أَصَابَهُ خَيْرٌ حَمِدَ اللَّهَ وَشَكَرَ وَإِنْ أَصَابَتْهُ مُصِيبَةٌ حَمِدَ اللَّهَ وَصَبَرَ فَالْمُؤْمِنُ يُؤْجَرُ فِي كُلِّ أَمْرِهِ حَتَّى يُؤْجَرَ فِي اللُّقْمَةِ يَرْفَعُهَا إِلَى فِي امْرَأَتِهِ . أخرجه أحمد وعبد الرزاق

‘সা’দ বিন আবী ওয়াক্কাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি মুমিনের ব্যাপারে অতিশয় আশ্চর্য্য বোধ করি-অবাক হই তার কর্মকান্ডে, যদি তার কোন কল্যাণ সাধিত হয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আর যদি কোন মুসীবত আপতিত হয় ধৈর্য্য ধারণ করে। সুতরাং মুমিন তার প্রতিটি কাজের বিনিময়েই পুরস্কার প্রাপ্ত হয়। এমনকি নিজ স্ত্রীর মুখে তুলে দেয়া লোকমার বিনিময়েও তাকে প্রতিদান দেয়া হয়।’ [হাদীসটি হাসান সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনায় আহমাদ, হাদীস নং (১৪৯২) উল্লোখিত ভাষ্য তাঁর। আরনাউত বলেন: এর সনদ হাসান। আরো বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং (২০৩১০)।]

এরই মাধ্যমে শেষ হল ঈমানের ছয় রুকন তথা আল্লাহর প্রতি ঈমান, ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান, কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান, রাসূলগণের প্রতি ঈমান, কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান এবং তাকদীরের ভাল-মন্দের প্রতি ঈমান-এর বিস্তারিত বর্ণনা। প্রতিটি রুকনের প্রতি ঈমানের বিনিময়েই বান্দার বহুবিধ কল্যাণ ও উপকার সাধিত হয়।