১
মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী
লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮৪
নবী-রাসূলগণের গুণাগুণ:
(১) প্রজ্ঞাময় মহাপ্রভু মানুষদের মধ্য হতে নির্বাচন করে তাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নবী-রাসূল হিসাবে মনোনীত করেছেন। নবুওয়ত ও রিসালাতের গুরু দায়িত্ব অর্পণ করে তাদের মর্যাদা আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন মু'জেযার মাধ্যমে তাদের সাহায্য করেছেন, শক্তি যুগিয়েছেন এবং তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। উক্ত রিাসালাত মানুষের নিকট প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে মানুষ কেবলমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে এবং তিনি ভিন্ন সকল উপাস্যের ইবাদত পরিহার করে। এর উপর তিনি তাদের জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁরা আল্লাহ প্রদত্ত এ দায়িত্ব গুরুত্বের সাথে পালন করেছেন এবং মানুষের নিকট পরিপূর্ণ আন্তরিকতার সাথে তা প্রচার করেছেন। তাঁদের উপর শত- কোটি দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
১। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿43﴾ ( سورة النحل : 43)
আর আমি তোমার পূর্বে কেবল পুরুষদেরকেই রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি, যাদের প্রতি আমি ওহী পাঠিয়েছি। সুতরাং জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর, যদি তোমরা না জান। [সূরা নাহল : ৪৩।]
২। আল্লাহ আরও বলেন,
إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى آَدَمَ وَنُوحًا وَآَلَ إِبْرَاهِيمَ وَآَلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ ﴿33﴾ ( سورة آل عمران : 33)
নিশ্চয় আল্লাহ আদম, নূহ ও ইবরাহীমের পরিবারকে এবং ইমরানের পরিবারকে সৃষ্টিজগতের উপর মনোনীত করেছেন। [সূরা আলে ইমরান : ৩৩।]
৩। অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে :
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ ﴿36﴾ ( سورة النحل : 36)
আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং পরিহার কর তাগূতকে। [সূরা নাহল : ৩৬।]
(২) আল্লাহ তাআলা সকল নবী-রাসূলকে তাঁর বান্দাদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কেবলমাত্র তাঁর ইবাদতের প্রতি আহবান করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর প্রত্যেক জাতির জন্য তাদের অবস্থার সাথে সঙ্গতি রেখে শরিয়ত ও আইন প্রবর্তন করেছেন।
যেমন আল্লাহ বলেন,
لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا ﴿48﴾ ( سورة المائدة : 48)
তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি শরিয়ত ও স্পষ্ট পন্থা। [সূরা মায়েদা : ৪৮।]
(৩) মহান আল্লাহ নবী-রাসূলদেরকে নির্বাচিত করার পর, যখনই তাদের কোন উচ্চ মাকাম বর্ণনা করেছেন তখন তাঁর তরে তাদের উবুদিয়্যতের গুণটি উল্লেখ করে বর্ণনা করেছেন। যেমন তানযীল তথা কুরআন অবতারণের মাকাম বর্ণনা করার ক্ষেত্রে মহানবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেছেন।
تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا ﴿1﴾ ( سورة الفرقان : 1)
পরম বরকতময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার উপর ফুরকান নাযিল করেছেন যেন সে জগতবাসীর জন্য সতর্ককারী হতে পারে। [সূরা আল-ফোরকান : ১।]
এখানে রাসূলের ক্ষেত্রে عبد শব্দটি ব্যবহার করার মাধ্যমে তার উবুদিয়্যতের গুণটি উল্লেখ করেছেন।
ঈসা বিন মারইয়াম আ. সম্পর্কে বলেছেন।
إِنْ هُوَ إِلَّا عَبْدٌ أَنْعَمْنَا عَلَيْهِ وَجَعَلْنَاهُ مَثَلًا لِبَنِي إِسْرَائِيلَ ﴿59﴾ ( سورة الزخرف : 59)
সে কেবল আমার এক বান্দা। আমি তার উপর অনুগ্রহ করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলের জন্য তাকে দৃষ্টান্ত বানিয়েছিলাম। [সূরা যুখরুফ : ৫৯।]
(৪) সকল নবী-রাসূলই সৃষ্ট-মানুষ। অন্যান্য সকল মানব প্রকৃতির ন্যায় তাঁরা পানাহার করেন। বি:স্মৃত হয়, ঘুমান-অচেতন হন, অসুস্থ হন, মৃত্যু বরণ করেন। আকৃতি-প্রকৃতি সকল দিক থেকে অন্যান্য মানুষের মত। প্রভুত্ব-উপাস্যত্ব ইত্যাদি যা একমাত্র আল্লাহর সাথে সংশিষ্ট এসব ক্ষেত্রে তাঁদের কোন দখল নেই। সুতরাং তাঁরা আল্লাহ তাআলার অনুমোদন ব্যতীত কারো উপকার-ক্ষতির ক্ষমতা রাখেন না। অনুরূপভাবে তাঁরা আল্লাহর কোন ভান্ডারেরও মালিক নন এবং আল্লাহ যা জানিয়েছেন তা ব্যতীত অদৃশ্যের কোন বিষয় সম্পর্কেও তাঁদের কোন ধারণা নেই। অর্থাৎ তাঁরা ইলমে গায়েব জানেন না।
আল্লাহ স্বীয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলছেন,
قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴿188﴾ ( سورة الأعراف : 188)
বল, আমি আমার নিজের কোন উপকার ও ক্ষাতির ক্ষমতা রাখি না, তবে আল্লাহ যা চান। আর আমি যদি গায়েব জানতাম তাহলে অধিক কল্যাণ লাভ করতাম এবং আমাকে কোন ক্ষতি স্পর্শ করত না। আমি তো একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা এমন কওমের জন্য, যারা বিশ্বাস করে। [সূরা আরাফ : ১৮৮]
১। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿43﴾ ( سورة النحل : 43)
আর আমি তোমার পূর্বে কেবল পুরুষদেরকেই রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি, যাদের প্রতি আমি ওহী পাঠিয়েছি। সুতরাং জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর, যদি তোমরা না জান। [সূরা নাহল : ৪৩।]
২। আল্লাহ আরও বলেন,
إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى آَدَمَ وَنُوحًا وَآَلَ إِبْرَاهِيمَ وَآَلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ ﴿33﴾ ( سورة آل عمران : 33)
নিশ্চয় আল্লাহ আদম, নূহ ও ইবরাহীমের পরিবারকে এবং ইমরানের পরিবারকে সৃষ্টিজগতের উপর মনোনীত করেছেন। [সূরা আলে ইমরান : ৩৩।]
৩। অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে :
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ ﴿36﴾ ( سورة النحل : 36)
আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং পরিহার কর তাগূতকে। [সূরা নাহল : ৩৬।]
(২) আল্লাহ তাআলা সকল নবী-রাসূলকে তাঁর বান্দাদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কেবলমাত্র তাঁর ইবাদতের প্রতি আহবান করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর প্রত্যেক জাতির জন্য তাদের অবস্থার সাথে সঙ্গতি রেখে শরিয়ত ও আইন প্রবর্তন করেছেন।
যেমন আল্লাহ বলেন,
لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا ﴿48﴾ ( سورة المائدة : 48)
তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি শরিয়ত ও স্পষ্ট পন্থা। [সূরা মায়েদা : ৪৮।]
(৩) মহান আল্লাহ নবী-রাসূলদেরকে নির্বাচিত করার পর, যখনই তাদের কোন উচ্চ মাকাম বর্ণনা করেছেন তখন তাঁর তরে তাদের উবুদিয়্যতের গুণটি উল্লেখ করে বর্ণনা করেছেন। যেমন তানযীল তথা কুরআন অবতারণের মাকাম বর্ণনা করার ক্ষেত্রে মহানবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেছেন।
تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا ﴿1﴾ ( سورة الفرقان : 1)
পরম বরকতময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার উপর ফুরকান নাযিল করেছেন যেন সে জগতবাসীর জন্য সতর্ককারী হতে পারে। [সূরা আল-ফোরকান : ১।]
এখানে রাসূলের ক্ষেত্রে عبد শব্দটি ব্যবহার করার মাধ্যমে তার উবুদিয়্যতের গুণটি উল্লেখ করেছেন।
ঈসা বিন মারইয়াম আ. সম্পর্কে বলেছেন।
إِنْ هُوَ إِلَّا عَبْدٌ أَنْعَمْنَا عَلَيْهِ وَجَعَلْنَاهُ مَثَلًا لِبَنِي إِسْرَائِيلَ ﴿59﴾ ( سورة الزخرف : 59)
সে কেবল আমার এক বান্দা। আমি তার উপর অনুগ্রহ করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলের জন্য তাকে দৃষ্টান্ত বানিয়েছিলাম। [সূরা যুখরুফ : ৫৯।]
(৪) সকল নবী-রাসূলই সৃষ্ট-মানুষ। অন্যান্য সকল মানব প্রকৃতির ন্যায় তাঁরা পানাহার করেন। বি:স্মৃত হয়, ঘুমান-অচেতন হন, অসুস্থ হন, মৃত্যু বরণ করেন। আকৃতি-প্রকৃতি সকল দিক থেকে অন্যান্য মানুষের মত। প্রভুত্ব-উপাস্যত্ব ইত্যাদি যা একমাত্র আল্লাহর সাথে সংশিষ্ট এসব ক্ষেত্রে তাঁদের কোন দখল নেই। সুতরাং তাঁরা আল্লাহ তাআলার অনুমোদন ব্যতীত কারো উপকার-ক্ষতির ক্ষমতা রাখেন না। অনুরূপভাবে তাঁরা আল্লাহর কোন ভান্ডারেরও মালিক নন এবং আল্লাহ যা জানিয়েছেন তা ব্যতীত অদৃশ্যের কোন বিষয় সম্পর্কেও তাঁদের কোন ধারণা নেই। অর্থাৎ তাঁরা ইলমে গায়েব জানেন না।
আল্লাহ স্বীয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলছেন,
قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴿188﴾ ( سورة الأعراف : 188)
বল, আমি আমার নিজের কোন উপকার ও ক্ষাতির ক্ষমতা রাখি না, তবে আল্লাহ যা চান। আর আমি যদি গায়েব জানতাম তাহলে অধিক কল্যাণ লাভ করতাম এবং আমাকে কোন ক্ষতি স্পর্শ করত না। আমি তো একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা এমন কওমের জন্য, যারা বিশ্বাস করে। [সূরা আরাফ : ১৮৮]