১
মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী
লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৪
(এক) আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
মহান আল্লাহ প্রত্যেক মাখলূককে নিজ সৃষ্টিকর্তার প্রতি ঈমানের প্রকৃতি ও মানসিকতা দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ নিজেই বলছেন :-
فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ( سورة الروم : 30)
‘তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। এটাই আল্লাহ তাআলার প্রকৃতি। যার উপর তিনি মানব সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই।’ [সূরা রূম : ৩০]
প্রত্যেক সুস্থ বিবেক এ বিশ্বাসের প্রতি সমর্থন ও পথনির্দেশ করে যে, এ নিখিল বিশ্বের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন। কারণ এ পৃথিবীর পূর্বাপর সকল সৃষ্টির ক্ষেত্রে আবশ্যিক যে তাদের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন যিনি তাদেরকে অস্তিত্বে এনেছেন। এগুলোর পক্ষে নিজে নিজেই অস্তিত্ব লাভকরা সম্ভব নয় এবং আকস্মিকভাবে অস্তিত্বে চলে আসাও বিশ্বাসযোগ্য নয়। সুতরাং এদের অস্তিত্বই প্রমাণ করে যে, এদের একজন অস্তিত্ব দানকারী আছেন। আর তিনি হচ্ছেন এ বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহামহীম আল্লাহ।
ইরশাদ হচ্ছে,
أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ ﴿35﴾ أَمْ خَلَقُوا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بَل لَا يُوقِنُونَ ﴿36﴾ سورة الطور : 35-36)
‘তারা কি আপনা-আপনিই সৃজিত হয়ে গেছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা। না তারা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছে? বরং তারা বিশ্বাস করে না।’ [সূরা তুর : ৩৫-৩৬।]
সুস্থ অনুভূতিও আল্লাহ তা’আলার অস্তিত্বের প্রতি সমর্থন করে। কারণ আমরা প্রতিনিয়ত দিবা-রাত্রির পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করছি। মানুষ ও অন্যান্য জীব-জন্তুর রিযিকের বিষয়টিও আমাদের সম্মুখে। দেখছি পুরো বিশ্ব জগতের সকল বিষয়কে; কত সুশৃংখল ভাবে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হচ্ছে। এ সকল বিষয় সন্দেহাতীতভাবে আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বকে প্রমাণ করে।
يُقَلِّبُ اللَّهُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِأُولِي الْأَبْصَارِ . ( سورة النور : 44)
‘আল্লাহ দিন ও রাত্রির পরিবর্তন ঘটান। এতে অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিগণের জন্যে চিন্তার উপকরণ রয়েছে।’ [সূরা নূর : ৪৪।]
আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী-রাসূলদের বিভিন্ন মু'জেযা ও নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে সাহায্য করেছেন-সমর্থন যুগিয়েছেন। সেগুলো যুগে যুগে মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে, বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে শুনেছে, বিষয়গুলো ছিল সম্পূর্ণরূপে মানবীয় ক্ষমতার উর্ধ্বে। এর মাধ্যমে আল্লাহ নবী-রাসূলদের সাহায্য করেছেন। তাঁদের অবস্থান মজবুত করেছেন। মনুষ্য ক্ষমতার উর্ধ্বের বিষয়, সেই মানুষ দ্বারা সঙ্ঘটিত হওয়াই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে তাঁদের একজন প্রেরণকারী আছেন। আর সে প্রেরণকারীই হচ্ছেন আল্লাহ তাআলা। যেমন আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে জলন্ত অগ্নিকে শান্তিদায়ক শীতল করে দিয়েছেন। মূসা আলাইহিস সালাম-এর জন্যে সমুদ্র চিড়ে রাস্তা বের করেছিলেন। ঈসা আলাইহিস সালামের জন্যে মৃত-কে জীবিত করেছিলেন এবং মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহর জন্যে চন্দ্র দ্বি-খন্ডিত করেছেন।
আল্লাহ তাআলা কত দোয়াকারীর জিকির">দোয়া কবুল করছেন, কত প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা মঞ্জুর করছেন, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি সাহায্য চেয়ে অব্যর্থ হচ্ছে প্রতিনিয়ত আল্লাহর কৃপায়। আল্লাহর অস্তিত্ব, ক্ষমতা ও ইলম যদি না-ই থাকবে তাহালে এসব সংঘটিত করল কে? জবাব দিল কে? সুতরাং নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হল, আল্লাহ আছেন তাঁর কুদরত ও ক্ষমতা অসীম।
(১) আল্লাহ তা’আলা বলেন-
وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ ﴿83﴾ فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَكَشَفْنَا مَا بِهِ مِنْ ضُرٍّ وَآَتَيْنَاهُ أَهْلَهُ وَمِثْلَهُمْ مَعَهُمْ رَحْمَةً مِنْ عِنْدِنَا وَذِكْرَى لِلْعَابِدِينَ ﴿84﴾ ( سورة الأنبياء : 83-84)
‘এবং স্মরণ করুন আইয়ূবের কথা, যখন তিনি তাঁর পালনকর্তাকে আহবান করেছিলেন, আমি দু:খে কষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি সকল দয়াবান অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ দয়াবান। অত:পর আমি তার আহবানে সাড়া দিলাম এবং তার দুঃখ কষ্ট দূর করে দিলাম এবং তার পরিবারবর্গ ফিরেয়ে দিলাম। আর তাদের সাথে তাদের সমপরিমাণ আরও দিলাম আমার পক্ষ থেকে কৃপাবশত: আর এটি ইবাদতকারীদের জন্যে উপদেশ স্বরূপ।’ [সূরা আম্বিয়া : ৮৪-৮৪]
ইসলামী শরীয়ত ও এর সুন্দর সুন্দর-সামঞ্জস্যশীল বিধি-বিধান। আল্লাহ তা’আলার অস্তিত্বকে প্রমাণ করে। কিসে মানুষের কল্যাণ এবং কিসে অকল্যাণ। কী করলে তার উন্নতি হবে এবং কী কারণে অবণতি। ইসলামকে পরিপূর্ণরূপে অনুসরণ করলে উপরোক্ত বিষয়গুলো সুন্দরভাবে অনুধাবন করা যায়। মানব জীবনে শৃংখলা, অগ্রগতি, উন্নতি সব কিছুই নিহিত আছে ইসলামী বিধি-বিধানের অনুশীলনের ভিতর, যা আল্লাহ তাআলা নিজ গ্রন্থাদিতে নবী-রাসূলগণের উপর নাযিল করেছেন। এত সুন্দর, ভারসাম্যপূর্ণ, মানুষের সমস্যা সমাধানে পারঙ্গম নীতিই প্রমাণ করে যে এটি প্রজ্ঞবান-বিচক্ষণ, ক্ষমতাবান প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যিনি বান্দাদের কল্যাণ ও উন্নতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।
فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ( سورة الروم : 30)
‘তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। এটাই আল্লাহ তাআলার প্রকৃতি। যার উপর তিনি মানব সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই।’ [সূরা রূম : ৩০]
প্রত্যেক সুস্থ বিবেক এ বিশ্বাসের প্রতি সমর্থন ও পথনির্দেশ করে যে, এ নিখিল বিশ্বের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন। কারণ এ পৃথিবীর পূর্বাপর সকল সৃষ্টির ক্ষেত্রে আবশ্যিক যে তাদের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন যিনি তাদেরকে অস্তিত্বে এনেছেন। এগুলোর পক্ষে নিজে নিজেই অস্তিত্ব লাভকরা সম্ভব নয় এবং আকস্মিকভাবে অস্তিত্বে চলে আসাও বিশ্বাসযোগ্য নয়। সুতরাং এদের অস্তিত্বই প্রমাণ করে যে, এদের একজন অস্তিত্ব দানকারী আছেন। আর তিনি হচ্ছেন এ বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহামহীম আল্লাহ।
ইরশাদ হচ্ছে,
أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ ﴿35﴾ أَمْ خَلَقُوا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بَل لَا يُوقِنُونَ ﴿36﴾ سورة الطور : 35-36)
‘তারা কি আপনা-আপনিই সৃজিত হয়ে গেছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা। না তারা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছে? বরং তারা বিশ্বাস করে না।’ [সূরা তুর : ৩৫-৩৬।]
সুস্থ অনুভূতিও আল্লাহ তা’আলার অস্তিত্বের প্রতি সমর্থন করে। কারণ আমরা প্রতিনিয়ত দিবা-রাত্রির পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করছি। মানুষ ও অন্যান্য জীব-জন্তুর রিযিকের বিষয়টিও আমাদের সম্মুখে। দেখছি পুরো বিশ্ব জগতের সকল বিষয়কে; কত সুশৃংখল ভাবে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হচ্ছে। এ সকল বিষয় সন্দেহাতীতভাবে আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বকে প্রমাণ করে।
يُقَلِّبُ اللَّهُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِأُولِي الْأَبْصَارِ . ( سورة النور : 44)
‘আল্লাহ দিন ও রাত্রির পরিবর্তন ঘটান। এতে অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিগণের জন্যে চিন্তার উপকরণ রয়েছে।’ [সূরা নূর : ৪৪।]
আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী-রাসূলদের বিভিন্ন মু'জেযা ও নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে সাহায্য করেছেন-সমর্থন যুগিয়েছেন। সেগুলো যুগে যুগে মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে, বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে শুনেছে, বিষয়গুলো ছিল সম্পূর্ণরূপে মানবীয় ক্ষমতার উর্ধ্বে। এর মাধ্যমে আল্লাহ নবী-রাসূলদের সাহায্য করেছেন। তাঁদের অবস্থান মজবুত করেছেন। মনুষ্য ক্ষমতার উর্ধ্বের বিষয়, সেই মানুষ দ্বারা সঙ্ঘটিত হওয়াই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে তাঁদের একজন প্রেরণকারী আছেন। আর সে প্রেরণকারীই হচ্ছেন আল্লাহ তাআলা। যেমন আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে জলন্ত অগ্নিকে শান্তিদায়ক শীতল করে দিয়েছেন। মূসা আলাইহিস সালাম-এর জন্যে সমুদ্র চিড়ে রাস্তা বের করেছিলেন। ঈসা আলাইহিস সালামের জন্যে মৃত-কে জীবিত করেছিলেন এবং মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহর জন্যে চন্দ্র দ্বি-খন্ডিত করেছেন।
আল্লাহ তাআলা কত দোয়াকারীর জিকির">দোয়া কবুল করছেন, কত প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা মঞ্জুর করছেন, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি সাহায্য চেয়ে অব্যর্থ হচ্ছে প্রতিনিয়ত আল্লাহর কৃপায়। আল্লাহর অস্তিত্ব, ক্ষমতা ও ইলম যদি না-ই থাকবে তাহালে এসব সংঘটিত করল কে? জবাব দিল কে? সুতরাং নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হল, আল্লাহ আছেন তাঁর কুদরত ও ক্ষমতা অসীম।
(১) আল্লাহ তা’আলা বলেন-
وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ ﴿83﴾ فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَكَشَفْنَا مَا بِهِ مِنْ ضُرٍّ وَآَتَيْنَاهُ أَهْلَهُ وَمِثْلَهُمْ مَعَهُمْ رَحْمَةً مِنْ عِنْدِنَا وَذِكْرَى لِلْعَابِدِينَ ﴿84﴾ ( سورة الأنبياء : 83-84)
‘এবং স্মরণ করুন আইয়ূবের কথা, যখন তিনি তাঁর পালনকর্তাকে আহবান করেছিলেন, আমি দু:খে কষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি সকল দয়াবান অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ দয়াবান। অত:পর আমি তার আহবানে সাড়া দিলাম এবং তার দুঃখ কষ্ট দূর করে দিলাম এবং তার পরিবারবর্গ ফিরেয়ে দিলাম। আর তাদের সাথে তাদের সমপরিমাণ আরও দিলাম আমার পক্ষ থেকে কৃপাবশত: আর এটি ইবাদতকারীদের জন্যে উপদেশ স্বরূপ।’ [সূরা আম্বিয়া : ৮৪-৮৪]
ইসলামী শরীয়ত ও এর সুন্দর সুন্দর-সামঞ্জস্যশীল বিধি-বিধান। আল্লাহ তা’আলার অস্তিত্বকে প্রমাণ করে। কিসে মানুষের কল্যাণ এবং কিসে অকল্যাণ। কী করলে তার উন্নতি হবে এবং কী কারণে অবণতি। ইসলামকে পরিপূর্ণরূপে অনুসরণ করলে উপরোক্ত বিষয়গুলো সুন্দরভাবে অনুধাবন করা যায়। মানব জীবনে শৃংখলা, অগ্রগতি, উন্নতি সব কিছুই নিহিত আছে ইসলামী বিধি-বিধানের অনুশীলনের ভিতর, যা আল্লাহ তাআলা নিজ গ্রন্থাদিতে নবী-রাসূলগণের উপর নাযিল করেছেন। এত সুন্দর, ভারসাম্যপূর্ণ, মানুষের সমস্যা সমাধানে পারঙ্গম নীতিই প্রমাণ করে যে এটি প্রজ্ঞবান-বিচক্ষণ, ক্ষমতাবান প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যিনি বান্দাদের কল্যাণ ও উন্নতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।