১
মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী
লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৫
(ক) ইহকালীন জীবনের কতিপয় প্রতিশ্রুতি:
(১) সফলতা।
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَدْ أَفلَحَ الْمؤْمِنُوْنْ . ( سورة المؤمنون : 1)
মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে। [সূরা মুমিনুন : ১।]
হেদায়াত বা সৎপথ প্রাপ্তি।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آَمَنُوا إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿54﴾. ( سورة الحج : 54)
আর যারা ঈমান এনেছে, নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে সরল পথ প্রদর্শনকারী। [সূরা : আল-হজ: ৫৪।]
সাহায্য।
ইরশাদ হচ্ছে,
وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ ﴿47﴾ ( سورة الروم : 47)
আর মুমিনদেরকে সাহায্য করাতো আমার কর্তব্য। [সূরা আর-রূম : ৪৭।]
(৪) ইজ্জত ও মর্যাদা ।
আল্লাহ বলেন,
وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ ( سورة المنافقون : 8)
ইজ্জত তো আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদেরই। [সূরা মুনাফিকুন : ৮।]
(৫)পৃথিবীতে খেলাফত দান তথা শাসন কর্তৃত্ব প্রদান ও প্রতিষ্ঠিত করণ।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا ( سورة النور : 55)
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, আল্লাহ তাদেরকে এ মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে তাদেরকে যমীনে শাসন কর্তৃত্ব (খেলাফত) প্রদান করবেন। যেমন তিনি শাসন কর্তৃত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দীনকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তিনি তাদের ভয়-ভীতি শান্তি-নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা আমারই ইবাদাত করবে, আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। আর এরপর যারা কুফরী করবে তারাই ফাসিক। [সূরা আন নূর : ৫৫।]
(৬) তাদের পক্ষ থেকে (শত্রুদেরকে) প্রতিরোধ করে তাদের রক্ষা করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন।
إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آَمَنُوا ( سورة الحج : 38)
নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের পক্ষে প্রতিরোধ করেন। [সূরা আল হজ্ব: ৩৮।]
(৭) শান্তি ও নিরাপত্তা।
আল্লাহ বলেন :
الَّذِينَ آَمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ ﴿82﴾ ( سورة الأنعام : 82)
যারা ঈমান এনেছে এবং নিজ ঈমানকে যুলমের সাথে সংমিশ্রণ করেনিম তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত। [সূরা আনআম : ৮২।]
(৮) মুক্তি।
আল্লাহ বলেন :
ثُمَّ نُنَجِّي رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آَمَنُوا كَذَلِكَ حَقًّا عَلَيْنَا نُنْجِ الْمُؤْمِنِينَ ﴿103﴾ ( سورة يونس : 103)
তারপর আমি নাজাত (মুক্তি) দেই আমার রাসূলদেরকে এবং তাদেরকেও যারা ঈমান এনেছে। এটা আমার দায়িত্ব যে, মুমিনদের নাজাত দেই। [সূরা ইউনুস : ১০৩।]
উত্তম জীবন।
আল্লাহ বলেন :
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿97﴾ ( سورة النحل : 97)
যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব। [সূরা নাহল : ৯৭।]
(১০) তাদের উপর কাফেরদের চাপিয়ে না দেয়া কিংবা তাদের বিরুদ্ধে কাফেরদের কর্তৃত্ব প্রদান না করার অঙ্গীকার।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَلَنْ يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلًا ﴿141﴾ ( سورة النساء : 141)
আর আল্লাহ কখনো মুমিনদের বিপক্ষে কাফিরদের জন্য পথ (কর্তৃত্ব) রাখবেন না। [সূরা নিসা : ১৪১।]
(১১) অনেক কল্যাণ ও বরকত অর্জন হওয়া।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آَمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ ﴿96﴾ ( سورة الأعراف : 96)
আর যদি জনপদসমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি অবশ্যই আসমান ও যমীন থেকে বরকতসমূহ তাদের উপর খুলে দিতাম; কিন্তু তারা অস্বীকার করল। অত:পর তারা যা অর্জন করত তার কারণে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। [সূরা আ’রাফ : ৯৬।]
(১২) আল্লাহ তাআলার বিশেষ সাহচর্য লাভ।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَأَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿19﴾ ( سورة ألأنفال : 19)
আর নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন। [সূরা আনফাল: ১৯।]
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَدْ أَفلَحَ الْمؤْمِنُوْنْ . ( سورة المؤمنون : 1)
মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে। [সূরা মুমিনুন : ১।]
হেদায়াত বা সৎপথ প্রাপ্তি।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آَمَنُوا إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿54﴾. ( سورة الحج : 54)
আর যারা ঈমান এনেছে, নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে সরল পথ প্রদর্শনকারী। [সূরা : আল-হজ: ৫৪।]
সাহায্য।
ইরশাদ হচ্ছে,
وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ ﴿47﴾ ( سورة الروم : 47)
আর মুমিনদেরকে সাহায্য করাতো আমার কর্তব্য। [সূরা আর-রূম : ৪৭।]
(৪) ইজ্জত ও মর্যাদা ।
আল্লাহ বলেন,
وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ ( سورة المنافقون : 8)
ইজ্জত তো আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদেরই। [সূরা মুনাফিকুন : ৮।]
(৫)পৃথিবীতে খেলাফত দান তথা শাসন কর্তৃত্ব প্রদান ও প্রতিষ্ঠিত করণ।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا ( سورة النور : 55)
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, আল্লাহ তাদেরকে এ মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে তাদেরকে যমীনে শাসন কর্তৃত্ব (খেলাফত) প্রদান করবেন। যেমন তিনি শাসন কর্তৃত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দীনকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তিনি তাদের ভয়-ভীতি শান্তি-নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা আমারই ইবাদাত করবে, আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। আর এরপর যারা কুফরী করবে তারাই ফাসিক। [সূরা আন নূর : ৫৫।]
(৬) তাদের পক্ষ থেকে (শত্রুদেরকে) প্রতিরোধ করে তাদের রক্ষা করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন।
إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آَمَنُوا ( سورة الحج : 38)
নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের পক্ষে প্রতিরোধ করেন। [সূরা আল হজ্ব: ৩৮।]
(৭) শান্তি ও নিরাপত্তা।
আল্লাহ বলেন :
الَّذِينَ آَمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ ﴿82﴾ ( سورة الأنعام : 82)
যারা ঈমান এনেছে এবং নিজ ঈমানকে যুলমের সাথে সংমিশ্রণ করেনিম তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত। [সূরা আনআম : ৮২।]
(৮) মুক্তি।
আল্লাহ বলেন :
ثُمَّ نُنَجِّي رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آَمَنُوا كَذَلِكَ حَقًّا عَلَيْنَا نُنْجِ الْمُؤْمِنِينَ ﴿103﴾ ( سورة يونس : 103)
তারপর আমি নাজাত (মুক্তি) দেই আমার রাসূলদেরকে এবং তাদেরকেও যারা ঈমান এনেছে। এটা আমার দায়িত্ব যে, মুমিনদের নাজাত দেই। [সূরা ইউনুস : ১০৩।]
উত্তম জীবন।
আল্লাহ বলেন :
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿97﴾ ( سورة النحل : 97)
যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব। [সূরা নাহল : ৯৭।]
(১০) তাদের উপর কাফেরদের চাপিয়ে না দেয়া কিংবা তাদের বিরুদ্ধে কাফেরদের কর্তৃত্ব প্রদান না করার অঙ্গীকার।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَلَنْ يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلًا ﴿141﴾ ( سورة النساء : 141)
আর আল্লাহ কখনো মুমিনদের বিপক্ষে কাফিরদের জন্য পথ (কর্তৃত্ব) রাখবেন না। [সূরা নিসা : ১৪১।]
(১১) অনেক কল্যাণ ও বরকত অর্জন হওয়া।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آَمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ ﴿96﴾ ( سورة الأعراف : 96)
আর যদি জনপদসমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি অবশ্যই আসমান ও যমীন থেকে বরকতসমূহ তাদের উপর খুলে দিতাম; কিন্তু তারা অস্বীকার করল। অত:পর তারা যা অর্জন করত তার কারণে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। [সূরা আ’রাফ : ৯৬।]
(১২) আল্লাহ তাআলার বিশেষ সাহচর্য লাভ।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَأَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿19﴾ ( سورة ألأنفال : 19)
আর নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন। [সূরা আনফাল: ১৯।]