hadith book logo

মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৬

ঈমান বিল মালাইকার উপকারিতা :

১। ফেরেশতাকুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার মাধ্যমে মহান রাববুল আলামীন আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব, মহত্ব, ক্ষমতা, শক্তি, সামর্থ ও প্রজ্ঞা-কৌশল সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। তিনি ফেরেশতা সৃষ্টি করেছেন যাদের সংখ্যা তিনি ব্যতীত আর কেউ জানে না। তাদের মধ্যে হতে আরশ বহনকারী নিযুক্ত করেছেন যাদের একজনের আকৃতি হচ্ছে ‘‘তার কানের লতি হতে কাঁধের দূরত্ব সাতশত বৎসরের ভ্রমণ পথ’’ তাহলে আরশের বিশালতা কিরূপ? আর আরশের উপর যিনি আছেন তাঁর অবস্থা কি? তাঁর বড়ত্ব ও বিশালতা কেমন? সে আল্লাহর মহিমা ও পবিত্রতা বর্ণনা করছি সকল রাজত্ব ও কর্তৃত্ব যার।

وَلَهُ الْكِبْرِيَاءُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿37﴾ ( سورة الجاثية : 37)

আর আসমানসমূহ ও যমীনের সকল অহঙ্কার তাঁর; তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। [সূরা জাছিয়া-৩৭।]

২। আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে মানবজাতির রক্ষণাবেক্ষণ, সাহায্য ও আমল লেখার কাজে নিয়োজিত করার মাধ্যমে তাদের উপর যে অনুগ্রহ করেছেন তার উপর আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ পাওয়া যায় এবং এর জন্য মনে তাগিদ অনুভূত হয়।

৩। ফেরেশতাকুলের প্রতি মুহাববত সৃষ্টি হয় কারণ তাঁরা আল্লাহ তাআলার ইবাদত সম্পাদন করে, আল্লাহর নিকট দুআ করে এবং মুমিনদের জন্য গুনাহ মার্জনার প্রার্থনা করে। যেমন আল্লাহ তাআলা আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের সম্বন্ধে বলেছেন।

الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آَمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ ﴿7﴾ رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدْتَهُمْ وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آَبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿8﴾ وَقِهِمُ السَّيِّئَاتِ وَمَنْ تَقِ السَّيِّئَاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهُ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿9﴾ ( سورة غافر : 7-9)

যারা আরশকে ধারণ করে এবং যারা এর চার পাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখে। আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা চেয়ে বলে, ‘হে আমাদের রব, আপনি রহমত ও জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে পরিব্যপ্ত করে রয়েছেন। অতএব যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর জাহান্নামের আযাব থেকে আপনি তাদেরকে রক্ষা করুন। হে আমাদের রব, আর আপনি তাদেরকে স্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করান, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন। আর তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নি ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করেছে তাদেরকেও। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আর আপনি তাদের অপরাধের আযাব হতে রক্ষা করুন এবং সেদিন আপনি যাকে অপরাধের আযাব হতে রক্ষা করবেন, অবশ্যই তাকে অনুগ্রহ করবেন। আর এটিই মহাসাফল্য। [সূরা গাফের : ৭-৯।]