hadith book logo

মুখতাসারুল ফিক্হিল ইসলামী

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৭

(চার) আল্লাহ তাআলার নাম ও সিফাতের প্রতি বিশবাস স্থাপন :

আসমা ও সিফাতের প্রতি ঈমানের অর্থ হচ্ছে,

আল্লাহর তাআলার নির্ধারিত নাম ও সিফাতগুলোকে বুঝা-অনুধাবন করা, হিফজ করা, সাথে সাথে এগুলো একমাত্র আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য মর্মে স্বীকৃতি প্রদান করা। এসবের মাধ্যমে তাঁর দাসত্ব প্রকাশ করা এবং তাদের চাহিদা মুতাবেক আমল করা। এতে করে আল্লাহ তাআলাকে বুঝা সম্ভব হবে। তাঁর প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি হবে, এবং তাঁর ইবাদতের প্রতি আগ্রহ জন্মাবে....

যেমন, তাঁর মহত্ব, বড়ত্ব, মহিমা, মর্যাদার গুণাবলি সম্পর্কে ধারণা থাকলে তাঁর সম্মান ও তার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধায় মন ভরে যাবে।

তাঁর শক্তিমত্তা, ক্ষমতা ও প্রতাপের গুণাবলী সম্পর্কে জানা থাকলে অন্তরাত্মা বিনয়, নম্রতা ও স্বীয় পালনকর্তার সামনে হীনতায় পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।

দয়া, বদান্যতা, উদারতা এবং দানশীলতার গুনাবলি সম্পর্কে জানা থাকলে আল্লাহর অনুগ্রহ-ইহসান, দান-দক্ষিনার প্রতি হৃদয়-মন আগ্রহান্বিত হবে।

জ্ঞান ও পরিবেষ্টন সম্পর্কীয় গুণাবলি সম্পর্কে ধারণা বান্দাকে তার নড়া-চড়া, চলা ফেরা বরং সকল কাজে স্বীয় রবের নজরদারি (মুরাকাবা)-কে আবশ্যিক করে। অর্থাৎ বান্দা যখন সকল কিছুকে পরিবেষ্টনকারী আল্লাহ তাআলার জ্ঞান সম্পর্কে ধারণা লাভ করবে তখন যে কোন কাজ করার পূর্বে তার মনে জেগে উঠবে যে আল্লাহ তাআলা দেখছেন, ফলে মন্দকাজ হলে বিরত থাকবে। আর ভাল কাজ হলে পূর্ণ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে সম্পাদন করবে।

এ সকল গুণাবলি (সম্পর্কীয় জ্ঞান) বান্দাকে নিজ পালনকর্তাকে ভালবাসা, তাঁর প্রতি উৎসাহ, তাঁর সাথে সম্পর্ক স্থাপন, তার উপর তাওয়াক্কুল, এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করতে বাধ্য করে।

যে সকল নাম ও গুণাবলি আল্লাহ তাআলা নিজের জন্যে অথবা তাঁর রাসূল তাঁর জন্যে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আমরাও সেগুলো প্রতিষ্ঠিত করি। সেসবের উপর ঈমান রাখি, সেগুলো যে অর্থ ও নিদর্শনকে প্রমাণ করে সবগুলোর উপরও ঈমান রাখি-হৃদয় মন থেকে বিশ্বাস করি। যেমন আমরা বিশ্বাস করি যে আল্লাহ ‘‘রাহীম’’। এর অর্থ হচ্ছে তিনি দয়াশীল। আর এর প্রতিক্রিয়া হচ্ছে ‘তিনি যাকে ইচ্ছা, দয়া করেন’। অবশিষ্ট সকল নামের ক্ষেত্রেও একই বক্তব্য প্রযোজ্য। আমরা এগুলো বিকৃত, ক্রিয়াশূণ্য, (রূপক অর্থে গ্রহণ, এবং উপমা স্থির করি না। বরং তাঁর বক্তব্য-

ليسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ﴿11﴾

‘‘কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়, তিনি দেখেন ও শুনেন।’’ (সূরা : শুরা- ১১) এর আলোকে তাঁর শানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করে প্রমাণ করি।

আমরা জানি ও বিশ্বাস করি আল্লাহ তাআলার অনেক সুন্দর সুন্দর নাম ও অনেক সুমহান সিফাত আছে। এ গুলোর সাহায্যে আমরা তাঁকে ডেকে থাকি।

১। আল্লাহ বলেন ,

وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿180﴾ ( سورة الأعراف : 180)

‘আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যার তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে।’ [সূরা-আরাফ : ১৮০]

২।

وعن أبى هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : إن لله تسعة وتسعين اسما مائة إلا واحدا من أحصاها دخل الجنة . متفق عليه

‘আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন,। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলার নিরানববই -এক কম একশত- নাম আছে। যে ব্যক্তি এগুলো সংরক্ষন করবে (অর্থাৎ এগুলো সম্পর্কে জানবে, বুঝবে, বিশ্বাস করবে এবং এর চাহিদানুযায়ী আমল করবে) সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [(১) হাদীস বুখারী এবং মুসলিম উভয়ে বর্ণনা করেছেন। বুখারী হাদীস নং ৭৩৯২, মুসলিম হাদীস নং ২৬৭৭।]