hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০৯

ভূমি-রাজস্ব

রাষ্ট্রের সকল প্রকার ভূমির ভোগ-ব্যবহারের বিনিময়ে রাষ্ট্র-সরকারকে যে কর দেওয়া হয়, তাহাকেই ভূমি রাজস্ব বলে। ইসলামী রাষ্ট্রের ভূমিকে প্রধানত দুইভাগে বিভক্ত করা যাইতে পারে- ওশরি জমি ও খারাজী জমি।

যে জমির মালিক মুসলমান, মুসলমানই যে জমি সর্ব প্রথম আবাদ ও চাষোপযোগী করিয়া তুলিয়াছে, মুসলমান যথারীতি অস্ত্র-প্রয়োগ করিয়া যে সব জমি দখল করিয়াছে, এবং যে জমির মালিক ইসলাম গ্রহণ করিয়াছে, কিংবা রাষ্ট্র সরকার যে জমি নাগরিককে চাষাবাদের জন্য দান করিয়াছে তাহা সবই ‘ওশরি জমি’ নামে অভিহিত হইবে। কিন্তু যে জমির মালিক অমুসলিম, অমুসলিমগণিই যে জমি আবাদ ও চাষোপযোগী করিয়া লইয়াছে অথবা ইসলামী রাষ্ট্র যেসব জমি অমুসলিমদের পাট্টা দিয়াছে এবং তাহাদের কবুলিয়ত লইয়া তাহাদিগকে চাষাবাদ করার জন্য হস্তান্তরিত করিয়া দিয়াছে তাহা সবই ‘খারাজী’ হইবে।

‘ওশর’ অর্থ এক-দশমাংশ, মুসলমানদের কর্ষিত জমির ফসলের এক-দশমাংশের অর্ধেক পরিমাণ কর বা রাজস্ব গ্রহণ করা হয় বলিয়া উহাকে ‘ওশর’ বলা হয়।

ভূমি রাজস্ব সম্পর্কে কুরআন মজীদে আল্লাহ তা’আলা বলিয়াছেন:

(আরবী)

হে ঈমানদারগণ, তোমদের নিজেদের উপার্জিত ধন-সম্পদ এবং ভূমির উৎপন্ন ফসল হইতে উত্তম ও উৎকৃষ্ট অংশ (আল্লাহর পথে) ব্যয় কর।

এই আয়অতের প্রথম অংশ হইতে যাবতীয় নগদ ধন-সম্পদ এবং ভূমির উৎপন্ন ফসল হইতে উত্তম ও উৎকৃষ্ট অংশ (আল্লাহর পথে) ব্যয় কর।

এই আয়াতের প্রথম অংশ হইতে যাবতীয় নগদ ধন-সম্পদ বা টাকা পয়সার যাকাত ফরয হয়। শেষাংশ হইতে ভুমি রাজস্ব বা ওশর দেওয়ার আদেশ প্রমাণিত হয়।

ভূীম রাজস্ব আদায় করার আদেশ নিম্নলিখিত আয়াতে অধিক সুস্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছে:

(আরবী)

ফসল পাকিয়া গেলে তাহা খাও, ফসল কাটিবার দিন উহা হইতে আল্লাহর ‘হক’ আদায় কর এবং এই ব্যাপারে আল্লাহ নির্ধারিত সীমা লংঘন করিও না। কেননা আল্লাহ সীমা লংঘনকারীদের আদৌ ভালবাসেন না।

এখানে ‘হক’ অর্থ জমির ফসল ভোগ করার বিনিময়। ইহা আল্লাহ কর্তৃক নির্দিষ্ট হইয়াছে এবং ইসলামী রাষ্ট্রের বায়তুল মালে ইহা আদায় করিতে হইবে।