১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫৬
ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ দান
সুদবিহীন ইসলামী ব্যাংক কেবল যে ব্যবসায়ী মূলধন সংগ্রগের কাজই করিবে তাহা নয়, এই ব্যাংক ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণের জন্য ও বিনাসুদে ঋণ দান করিবে।
বস্তুত সমাজের বহুলোকই ব্যক্দিগত প্রয়োজন পূরণের জন্য ঋণ গ্রহণ করিতে বাধ্য হ য়। তাহাদের হয়ত বিষয়-সম্পত্তি রহিয়াছে কিংবা ভবিষ্যতেও অর্থ আমদানীর আশা আছে। কিন্তু উপস্থিত প্রয়োজন পূরণের জন্য নগদ অর্থের প্রয়োজন হইয়া পড়িয়াছে এবং তাহার দারুণ সাময়িকভাবে স্বল্প মেয়াদী ঋণ গ্রহণ ছাড়া উপায়ন্তর নাই, তাহা ইসলামী সমাজে এসব ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণে বিনাসুদে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা থাকা একান্ত অপরিহার্য।
ব্যক্তিগতভাবে মানুষের যে প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহা দুই পর্যায়ের হইতে পারে: নিতান্ত মৌলিক প্রয়োজন এবং অন্যান্য সাধারণ ধরনের প্রয়োজন। এই উভয় পর্যায়ের প্রয়োজন যথার্থভাবে পূরণ হওয়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থা না হইলে জনগণের জীবনযাত্রা সুখ ও সমৃদ্ধি পূর্ণ হইতে পারে না। এই কারণে এইসব ক্ষেত্রেই জনগণের সহিত পুরাপুরি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা ইসলামী রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব বিশেষ।
ব্যাংক মূলতঃ একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। মুনাফা অর্জনই উহার আসল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। উহার উপর প্রধানত মুনাফঅজনক কাজ-কারবারে বিনাসুদে ঋণ প্রদানের দায়িত্ব অর্পিত। তাই ব্যাংক হইতে ঋণ পাওয়ার প্রধান অধিকারী হইলো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান; কিন্তু তাহা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণের সীমাবদ্ধ ক্ষেত্রেও বিনাসুদে ঋণ দানর কাজ করার দায়িত্ব উহার উপর চাপানো যাইতে পারে। এজন্য দুইটি পন্থা অবলম্বন করা সম্ভব।
প্রথম এই যে, যে ব্যাংক ঋণ গ্রহণের হিসাব খোলা রহিয়াছে, বিশেষ অবস্থায় উহা হইতে জমা টাকার অধিক (overdraft) গ্রহণের সুযোগ দেওয়া যাইতে পারে। ইহা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য হইবে। এইজন্য প্রয়োজন মত নির্ভরযোগ্য জামানত (security) ও গ্রহণ করা যাইতে পারে। ব্যাংকে বহু লেকের এমন বিপুল পরিমাণ অর্থও পড়িয়া থাকে, যাহা সাধারণত নিত্য-নৈমিত্তিক প্রয়োজনে তোলা হয় না এবং বিশেষ কোন ব্যবসায়েও তাহা লগ্নি করা হয় না। ব্যাংক এইসব টাকা লোকদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণার্থে বিনাসুদে ঋণ বাবদ দিতে পারে। ইহাতে ব্যাংকেরও যেমন কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, তেমনি টাকার মালিককেও এজন্য কোন ক্ষতি স্বীকার করিতে হয় না।
আর দ্বিতীয় এই হইতে পারে যে, ব্যাংক দ্রব্য ক্রয় সার্টিফিকেট জারী করিবে। কোন স্থায়ী ব্যবহার্য দ্রব্য বাকী, মূল্যে খরীদ করা হইলে সেই সার্টিফিকেট বিক্রেতাকে দিবে এবং বিক্রেতা উহা ব্যাংকে জমা করিয়া মুল্য আদায় করিয়া লইবে। ইহাতে দ্রব্যের ক্রেতার উপর অর্পিত হইবে।
এই উভয় প্রকার ব্যক্তিগত ঋণ শেষ পর্যন্ত যদি ঋণ গ্রহণ কারীর প্রকৃত আর্থিক অক্ষমতার দরুণ পরিশোধ করা না হয় তাহা হইলে উহা পরিশোধ করার দায়িত্ব ইসলামী রাষ্ট্রের উপর বর্তিবে। ইহা যেমন নূতন কিছু নয়, তেমনি অবাঞ্ছনীয়ও কিছু নয়। রাষ্ট্রের যাকাত-ফিতারার ফান্ড হইতে এই ধরনের ঋণ শোধ করা ইসলামী রাষ্ট্রের স্থায়ী নিয়ম। নবী করীম (ﷺ) রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবেই ঘোষণা করিয়াছিলেন:
আমি মুসলমান জনগণের তাহাদের নিজেদের তুলনায় অনেক নিকটবর্তী। অতএব কোন মুসলমান যদি ঋণ পরিশোধ না করিয়া মরিয়া যায়, তবে উহা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার উপর বর্তিবে। আর যে লোক সম্পদ রাখিয়া যাইবে, তাহা তাহার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টিত হইবে।
বস্তুত সমাজের বহুলোকই ব্যক্দিগত প্রয়োজন পূরণের জন্য ঋণ গ্রহণ করিতে বাধ্য হ য়। তাহাদের হয়ত বিষয়-সম্পত্তি রহিয়াছে কিংবা ভবিষ্যতেও অর্থ আমদানীর আশা আছে। কিন্তু উপস্থিত প্রয়োজন পূরণের জন্য নগদ অর্থের প্রয়োজন হইয়া পড়িয়াছে এবং তাহার দারুণ সাময়িকভাবে স্বল্প মেয়াদী ঋণ গ্রহণ ছাড়া উপায়ন্তর নাই, তাহা ইসলামী সমাজে এসব ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণে বিনাসুদে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা থাকা একান্ত অপরিহার্য।
ব্যক্তিগতভাবে মানুষের যে প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহা দুই পর্যায়ের হইতে পারে: নিতান্ত মৌলিক প্রয়োজন এবং অন্যান্য সাধারণ ধরনের প্রয়োজন। এই উভয় পর্যায়ের প্রয়োজন যথার্থভাবে পূরণ হওয়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থা না হইলে জনগণের জীবনযাত্রা সুখ ও সমৃদ্ধি পূর্ণ হইতে পারে না। এই কারণে এইসব ক্ষেত্রেই জনগণের সহিত পুরাপুরি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা ইসলামী রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব বিশেষ।
ব্যাংক মূলতঃ একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। মুনাফা অর্জনই উহার আসল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। উহার উপর প্রধানত মুনাফঅজনক কাজ-কারবারে বিনাসুদে ঋণ প্রদানের দায়িত্ব অর্পিত। তাই ব্যাংক হইতে ঋণ পাওয়ার প্রধান অধিকারী হইলো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান; কিন্তু তাহা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণের সীমাবদ্ধ ক্ষেত্রেও বিনাসুদে ঋণ দানর কাজ করার দায়িত্ব উহার উপর চাপানো যাইতে পারে। এজন্য দুইটি পন্থা অবলম্বন করা সম্ভব।
প্রথম এই যে, যে ব্যাংক ঋণ গ্রহণের হিসাব খোলা রহিয়াছে, বিশেষ অবস্থায় উহা হইতে জমা টাকার অধিক (overdraft) গ্রহণের সুযোগ দেওয়া যাইতে পারে। ইহা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য হইবে। এইজন্য প্রয়োজন মত নির্ভরযোগ্য জামানত (security) ও গ্রহণ করা যাইতে পারে। ব্যাংকে বহু লেকের এমন বিপুল পরিমাণ অর্থও পড়িয়া থাকে, যাহা সাধারণত নিত্য-নৈমিত্তিক প্রয়োজনে তোলা হয় না এবং বিশেষ কোন ব্যবসায়েও তাহা লগ্নি করা হয় না। ব্যাংক এইসব টাকা লোকদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণার্থে বিনাসুদে ঋণ বাবদ দিতে পারে। ইহাতে ব্যাংকেরও যেমন কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, তেমনি টাকার মালিককেও এজন্য কোন ক্ষতি স্বীকার করিতে হয় না।
আর দ্বিতীয় এই হইতে পারে যে, ব্যাংক দ্রব্য ক্রয় সার্টিফিকেট জারী করিবে। কোন স্থায়ী ব্যবহার্য দ্রব্য বাকী, মূল্যে খরীদ করা হইলে সেই সার্টিফিকেট বিক্রেতাকে দিবে এবং বিক্রেতা উহা ব্যাংকে জমা করিয়া মুল্য আদায় করিয়া লইবে। ইহাতে দ্রব্যের ক্রেতার উপর অর্পিত হইবে।
এই উভয় প্রকার ব্যক্তিগত ঋণ শেষ পর্যন্ত যদি ঋণ গ্রহণ কারীর প্রকৃত আর্থিক অক্ষমতার দরুণ পরিশোধ করা না হয় তাহা হইলে উহা পরিশোধ করার দায়িত্ব ইসলামী রাষ্ট্রের উপর বর্তিবে। ইহা যেমন নূতন কিছু নয়, তেমনি অবাঞ্ছনীয়ও কিছু নয়। রাষ্ট্রের যাকাত-ফিতারার ফান্ড হইতে এই ধরনের ঋণ শোধ করা ইসলামী রাষ্ট্রের স্থায়ী নিয়ম। নবী করীম (ﷺ) রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবেই ঘোষণা করিয়াছিলেন:
আমি মুসলমান জনগণের তাহাদের নিজেদের তুলনায় অনেক নিকটবর্তী। অতএব কোন মুসলমান যদি ঋণ পরিশোধ না করিয়া মরিয়া যায়, তবে উহা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার উপর বর্তিবে। আর যে লোক সম্পদ রাখিয়া যাইবে, তাহা তাহার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টিত হইবে।