hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯৪

কারবারী ইন্সিওরেন্সের জন্য পারস্পরিক সাহায্য সংস্থা

ব্যবসায়ী, কৃষক ও শিল্পপতিকে আকস্মিক বিপদ হইতে উদ্ধার করার জন্য পুঁজিবাদী সমাজে ইন্সিওরেন্সে বা বীমা কোম্পানী স্থাপন করা হয়: কিন্তু ইহাতে সুদ ও জুয়ার প্রাধান্য থাকায় উহার মূল উদ্দেশ্যই সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়। ইসলামী সমাজে ‘পারস্পরিক সংস্থার’ মারফতেই এই উদ্দেশ্য হাসিল করা যাইতে পারে, কিন্তু সুদ ও জুয়ার বিন্দুমাত্র অবকাশ তাহাদের থাকিবে না।

উদাহরণস্বরূপ বলা যাইতে পারে, বিশেষ এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীগণ প্রত্যেক শহরেই নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সাহায্যের জন্য এক একটি সংস্থা গঠন করিবে। ইহার একটি ফান্ড থাকিবে, প্রত্যেক ব্যবসায়ী নিজের মোট মূলধন হিসাবে কিংবা আমদানীর হার অনুযায়ী মাসিক কি ত্রৈমাসিক নিয়মে টাকার একটি পরিমাণ আকস্মিক বিপদ হইতে আত্মরক্ষা করার জন্য এই ফান্ড জমা করিবে এবং মূলত ইহা তাহার দান হিসাবেই গণ্য হইবে। অতঃপর এই সংস্থার কোন সদস্যের আমদানীর উপর Source of income যদি আকস্মিক বিপদে পতিত হইয়া যায়, তবে পুনরায় ব্যবসায় শুরু করিবার জন্য এই ফান্ড হইতে তাহাকে নির্দিষ্ট অনুযায়ী এককালীণ দান হিসাবে মূলধন দেওয়া হইবে। এক বৎসর কালের মধ্যে এই ফান্ডকে উক্ত রূপ যত সাহায্য দানই করিতে হইবে কার্যত তাহাতে উহা অপেক্ষা অনেক বেশী টাকা সঞ্চিত হওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা রহিয়াছে। ফলে এই ফান্ড ক্রমশ উন্নতি লাভ করিয়া বিপদগ্রস্ত লোকদের অশেষ কল্যাণ সাধন করিতে পারিবে। এই ফান্ডের অর্থ কোন নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়েও বিনিয়োগ করা যাইতে পারিবে। তাহাতে উহার পরিমাণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইবে।

উল্লিখিত উদ্দেশ্য অন্য এক উপায়ে লাভ করা যাইতে পারে। তাহা এই যে, এই সংস্থার প্রত্যেক সদস্য উহার ফান্ডে যে টাকাই জমা করিবে, সে নিজেই উহার মালিক হইবে এবং আকস্কি বিপদকালে নিয়ম অনুযায়ী তাহা হইতে বিনাসুদে ঋণ গ্রহণ করিবে। এই ঋণ তাহাকে সুযোগ সুবিধা মত এক দিন আদায় করিতে হইবে।

পারস্পরিক সাহায্যের এই স্থানীয় সংস্থাসমূহকে মিলাইয়া একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা গঠন করা যাইতে পারে। একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের অধীনে এই কাজ সমগ্র দেশব্যাপী সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন হইতে পার্