১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৩
শিল্প
পূর্বেই বলা হইয়াছে,মানুষের সর্ববিদ প্রয়োজনীয় উপাদান কোন না কোনরূপে প্রকৃতির বুকে বর্তমান রহিয়াছে। কিন্তু এই উপাদানসমূহ মানুষ উহাদের স্বাভাবিক অবস্থায় কখনও ব্যবহার করে না, ব্যবহার করে উহাদের বর্তমান রূপ পরিবর্তন করিয়া। ভেড়ার পশম কেহ ব্যবহার করে না,তাহা হইতে কম্বল বা বিভিন্ন প্রকার পোশাক-পরিচ্ছদ তৈয়ারকরা হইলে পরই তাহা মানুষের ব্যবহার আসে। খনির কাচা লৌহ মানুষের কোন কল্যাণই করিতে পারে না- যতক্ষণ না তাহা আগুনে জ্বালাইয়া উহা হইতে মানুষের ব্যবহারোপযোগী ও প্রয়োজনীয অস্ত্র-শস্ত্র, কল-কব্জা বা যন্ত্রপাতি নির্মাণ করা হইবে। কাষ্ঠ কাঁচামাল হিসাবে কেবল জ্বালানির কাজেই ব্যবহৃত হইতে পারে অথচ তাহাতে মানুষের বুদ্ধি ও শ্রমের যোগ হইলে তাহা হইতে নৌকা, জাহাজ, ঘরবাড়ি, দালান-কোঠার সরঞ্জাম এবং নানাবিধ মূল্যবান ও প্রয়োজনীয় ফার্ণিচার তৈয়ার করা সম্ভব। শুধু তাহাই নয়, সভ্যতার অপরিহার্য উপাদান কাগজ এবং এক প্রকার পোশাক ও ইহা হইতে প্রস্তুত করা যাইতে পারে।
বস্তুত কাঁচামাল প্রাকৃতি-উপাদানের স্বাভাবিক অবস্থা, উহার বাহ্যিক রূপ এবং আকৃতি ও আঙ্গিক পরিবর্তন সাধন করিলে উহার ব্যবহারিক মূল্য অত্যধিক বৃদ্ধি পায়। অর্তনীতির পরিভাষায ইহাকে বলা হয় শিল্প (Industries)। শিল্প-কার্যমানুষের অর্থোৎপাদনের একটি উপায় মাত্র নয়, মূলত অর্থনৈতিক দর্শনের দৃষ্টিতে ইহাই মানব-সভ্যতার অর্থনৈতিক ভিত্তি।
শিল্প প্রধানত দুই প্রকার। মানুষ ব্যক্তিগতভাবে কিংবা পারিবারিক পরিবেষ্টনীতে যেসব শিল্পকর্মসম্পন্ন করিয়া থঅকে তাহা কুটীর-শিল্প নামে অভিহিত হয়। আর সাধারণ ভাষায় ইহাকে বলা হয় হস্তশিল্প। কারণ প্রধানত এইকাজ হস্ত দ্বারাই সম্পন্ন করা হয়-কল-কব্জার ব্যবহার ইহাতে বিশেষ হয় না।বর্তমান সময়ের ছোট ছোট যন্ত্রের সাহায্যে এককভাবে বা ছোট আকারে (Small Scale Production) যেসব শিল্পোৎপাদন হয় তাহাও এই গার্হস্থ্য শিল্পেরই অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান মানুষের সামনে বিরাট বিরাট কল-কারখানা স্থাপন এবং বৃহদায়তন শিল্পোৎপাদনের সিংহদ্বার উদঘাটন করিয়া দিয়াছে। ইহাকে আমরা ‘যন্ত্র-শিল্প’ নামে উল্লেখ করিতে পারি। প্রথম প্রকার শিল্পোৎপাদনে অধিক মুলধনের আবশ্যক করে না; কিন্তু শেষোক্ত প্রকার শিল্পোৎপাদন পর্যাপ্ত ও প্রচুর মূলধন ব্যতীত কিছুতেই সম্ভভ হইতে পারে না।
বস্তুত এই উভয় প্রকার শিল্পেরই উল্লেখ পাওয়া যায় কুরআন মজীদে। মানব-সভ্যতার প্রাচীনতম কাল হইতেই এই উভয় প্রকার শিল্পকার্যের প্রওচলন হইয়অছে। তন্মধ্যে নৌকা, জাহাজ, লৌহ-দুর্গ, বয়লার, খেলনা, পানির কূপ, লৌহ চাদর, প্রাচীন ও বিরাট আকরে তৈজসপত্র প্রস্তুত করার বিষয় কুরআন মজীদে উল্লেখ পাওয়া যায়।
(আরবী)
শিল্পী-কারিগরগণ কারখানা মালিকের নির্দেশ অনুযায়ী দুর্গ, খেলনা, পানির পাত্র এবং বড় বড় বয়লার ইত্যাদি নির্মাণ করিতেছে।
(আরবী)
তোমরা আমর নিকট লৌহ-নির্মিত চাদর উপস্থিত কর, (তাহা আনিয়া এক প্রাচীর নির্মাণ করা হইলে) যখন উভয়ের মধ্যখানে এই প্রাচীর উহাদেরই সমান উচু করা হইল তখন লোকদিগকেবলা হইল, এখন আগুনের কুণ্ডলি উত্তপ্ত কর। শেষ পর্যন্ত যখন এই লৌহ প্রাচীর সম্পূর্ণরূপে আগুনের মত লাল হইয়া উঠিল,তখন সে বলিল, আন, আমি ইহার উপর গলিত তামা ঢালিয়া দিব।
এই আয়াতটি লৌহ ও তাম্র ব্যবহার ও উহার শিল্প গড়িয়া তোলার দিকে সুস্পষ্ট ইংগিত করিতেছে। বর্তমান সভ্যতার চরম মাত্রার উন্নতির মূলে লৌহ ও তাম্র শিল্পের গুরুত কোন ক্রমেই অস্বীকার করা যায় না।
বস্তুত কাঁচামাল প্রাকৃতি-উপাদানের স্বাভাবিক অবস্থা, উহার বাহ্যিক রূপ এবং আকৃতি ও আঙ্গিক পরিবর্তন সাধন করিলে উহার ব্যবহারিক মূল্য অত্যধিক বৃদ্ধি পায়। অর্তনীতির পরিভাষায ইহাকে বলা হয় শিল্প (Industries)। শিল্প-কার্যমানুষের অর্থোৎপাদনের একটি উপায় মাত্র নয়, মূলত অর্থনৈতিক দর্শনের দৃষ্টিতে ইহাই মানব-সভ্যতার অর্থনৈতিক ভিত্তি।
শিল্প প্রধানত দুই প্রকার। মানুষ ব্যক্তিগতভাবে কিংবা পারিবারিক পরিবেষ্টনীতে যেসব শিল্পকর্মসম্পন্ন করিয়া থঅকে তাহা কুটীর-শিল্প নামে অভিহিত হয়। আর সাধারণ ভাষায় ইহাকে বলা হয় হস্তশিল্প। কারণ প্রধানত এইকাজ হস্ত দ্বারাই সম্পন্ন করা হয়-কল-কব্জার ব্যবহার ইহাতে বিশেষ হয় না।বর্তমান সময়ের ছোট ছোট যন্ত্রের সাহায্যে এককভাবে বা ছোট আকারে (Small Scale Production) যেসব শিল্পোৎপাদন হয় তাহাও এই গার্হস্থ্য শিল্পেরই অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান মানুষের সামনে বিরাট বিরাট কল-কারখানা স্থাপন এবং বৃহদায়তন শিল্পোৎপাদনের সিংহদ্বার উদঘাটন করিয়া দিয়াছে। ইহাকে আমরা ‘যন্ত্র-শিল্প’ নামে উল্লেখ করিতে পারি। প্রথম প্রকার শিল্পোৎপাদনে অধিক মুলধনের আবশ্যক করে না; কিন্তু শেষোক্ত প্রকার শিল্পোৎপাদন পর্যাপ্ত ও প্রচুর মূলধন ব্যতীত কিছুতেই সম্ভভ হইতে পারে না।
বস্তুত এই উভয় প্রকার শিল্পেরই উল্লেখ পাওয়া যায় কুরআন মজীদে। মানব-সভ্যতার প্রাচীনতম কাল হইতেই এই উভয় প্রকার শিল্পকার্যের প্রওচলন হইয়অছে। তন্মধ্যে নৌকা, জাহাজ, লৌহ-দুর্গ, বয়লার, খেলনা, পানির কূপ, লৌহ চাদর, প্রাচীন ও বিরাট আকরে তৈজসপত্র প্রস্তুত করার বিষয় কুরআন মজীদে উল্লেখ পাওয়া যায়।
(আরবী)
শিল্পী-কারিগরগণ কারখানা মালিকের নির্দেশ অনুযায়ী দুর্গ, খেলনা, পানির পাত্র এবং বড় বড় বয়লার ইত্যাদি নির্মাণ করিতেছে।
(আরবী)
তোমরা আমর নিকট লৌহ-নির্মিত চাদর উপস্থিত কর, (তাহা আনিয়া এক প্রাচীর নির্মাণ করা হইলে) যখন উভয়ের মধ্যখানে এই প্রাচীর উহাদেরই সমান উচু করা হইল তখন লোকদিগকেবলা হইল, এখন আগুনের কুণ্ডলি উত্তপ্ত কর। শেষ পর্যন্ত যখন এই লৌহ প্রাচীর সম্পূর্ণরূপে আগুনের মত লাল হইয়া উঠিল,তখন সে বলিল, আন, আমি ইহার উপর গলিত তামা ঢালিয়া দিব।
এই আয়াতটি লৌহ ও তাম্র ব্যবহার ও উহার শিল্প গড়িয়া তোলার দিকে সুস্পষ্ট ইংগিত করিতেছে। বর্তমান সভ্যতার চরম মাত্রার উন্নতির মূলে লৌহ ও তাম্র শিল্পের গুরুত কোন ক্রমেই অস্বীকার করা যায় না।