১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯২
পারস্পরিক সাহায্য সংস্থা
অস্বাভাবিক ও চরমবাদী অর্থনীতির একদিক হইতেছে পরিপূর্ণ ব্যষ্টিবাদ এবং অপর দিক হইতেছে, নিরংকুশ সমষ্টিবাদ (Collectivism) এই উভয় চূড়ান্ত সীমারে মধ্যে মধ্যপন্থী যে নীতি একটি সুস্থ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাজ গঠন করিতে সমর্থ হয়,তাহা হইতেছে পারস্পরিক সাহয্য সংস্থা। বর্তমান সময়ে দুনিয়া পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক সমাজে এই নামে বহু সংস্থার বাস্তব প্রতিষ্ঠা হইয়াছে এবং উহার ফলাফলও দৃষ্টিগোচর হইয়াছে। এইসব প্রতিষ্ঠানের সর্বাপেক্ষা লক্ষ্যণীয় বৈশিষ্ট্য এই যে, ইহার সাহায্যে বহুবিধ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন এবং জনগণের জটিল সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করা খুব সহজ হইয়া থাকে।
কি পুঁজিবাদী সমাজে, কি সমাজতান্ত্রিক সমাজে- যেখানেই ইহা প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। সর্বত্রই নিছক বস্তুবাদী মতবাদ ও দৃষ্টিসঙ্গীই হইতেছে ইহার ভিত্তিপ্রস্তর। কোন না কোন বৈষয়িক স্বার্থলাভই ইহার প্রতিষ্ঠার মূলে বিশেষভাবে সক্রিয় হইয়া রহিয়াছে। জীবনে সর্বদিকে প্রভাবশীল কোন নৈতিক আবেদনই উক্ত সমাজের ব্যক্তিগণকে পারস্পরিক সাহায্য সংস্থা প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করে নাই।
কিন্তু ইসলামী সমাজে এই সংস্থা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে নিছক পার্থিক স্বার্থকেই ভিত্তি হিসাবে গণ্য করা হয় না। সেখানে নৈতিক, আধ্যাত্মিক- তথা মানবিক ভাবধারাই হইবে উহার সর্বপধান নিয়ামক পারস্পরিক সাহায্য সংস্থঅর অনুকূল ভাবধারা সৃষ্টির ব্যাপার কোনরুপ কৃত্রিম উপায়ই এখানে অবলম্বন করা হয় না, বরং সমাজের ব্যক্তিদের হৃদয় মনে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এই ভাবধারা ফুটিয়া উঠে এবং রাষ্ট্রশক্তির আনুকুল্যে ইহা বাস্তব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইসলামী সমাজে যেসব মতবাদ ও বিশ্বসের ভিত্তিতে স্থাপিত, তাহা স্বতঃই মানুষের মধ্যে গভীর ভ্রাতৃভাব জাগাইয়া দেয়। এক আল্লাহর বান্দাহ আমরা, এক আদমের সন্তান আমরা, আমাদের এই জনীবন কঠিনতম পরীক্ষার জীবন, যতদূর সম্ভব পরবর্তী অনন্তকালের জন্য কল্যাণেল পুঁজি সংগ্রহ করাই আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য এবং অনন্তর আমাদিগকে একই আদালতের নিকট জবাবাদিহি হইতে হইবে- এই বিশ্বাসই ইসলামী সমাজের বিক্ষিপ্ত লোকদের মধ্যে গভীর ঐক্য, বন্ধুত্ব সহানুভূতিও সহৃদয়তার অন্তঃসলীলা ফল্গুধারা প্রবাহিত করে।
ইসলামী জীবনধঅরা মূলতই সামাজিক ও সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। এই সমাজের কোন ব্যক্তিই নিজেকে একাকী ও নিঃসঙ্গ বলিয়া মনে করে না। প্রত্যেকেই নিজেকে অসংখ্য লোকের একজন এবং প্রত্যেকের জন্য দায়ী বলিয়া অনুভব করে। ইসলামের প্রায় সকল ইবাদাত অনুষ্ঠানই জনগণের মধ্যে এই ভাবধারা প্রতিনিয়ত শক্তিশালী করিয়া তোলে। মুসলমানের মধ্যে পারস্পরিক যে কর্তব্য ও অধিকার নির্ধারণ করা হইয়াছে,তাহা এই ভাবধারা অধিকৃত দৃঢ় করিয়া দেয়।
আধুনিক শিল্পনীতি পুঁজিদার ও শ্রমিক-মজুরদিগকে দুইটি স্থায়ী ও পরস্পর বিরোধী স্বার্থ সম্পন্ন গোষ্ঠীতে পরিণতগ করিয়াছে। ইহার প্রকৃত ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সম্পূর্ণ বিপরীত। ইসলামী সমাজের কোন অর্থশালী ব্যক্তি মুনাফা লুন্ঠনকেই নিজ জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্যরূপে গ্রহণ করিতে পারে না।
কি পুঁজিবাদী সমাজে, কি সমাজতান্ত্রিক সমাজে- যেখানেই ইহা প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। সর্বত্রই নিছক বস্তুবাদী মতবাদ ও দৃষ্টিসঙ্গীই হইতেছে ইহার ভিত্তিপ্রস্তর। কোন না কোন বৈষয়িক স্বার্থলাভই ইহার প্রতিষ্ঠার মূলে বিশেষভাবে সক্রিয় হইয়া রহিয়াছে। জীবনে সর্বদিকে প্রভাবশীল কোন নৈতিক আবেদনই উক্ত সমাজের ব্যক্তিগণকে পারস্পরিক সাহায্য সংস্থা প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করে নাই।
কিন্তু ইসলামী সমাজে এই সংস্থা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে নিছক পার্থিক স্বার্থকেই ভিত্তি হিসাবে গণ্য করা হয় না। সেখানে নৈতিক, আধ্যাত্মিক- তথা মানবিক ভাবধারাই হইবে উহার সর্বপধান নিয়ামক পারস্পরিক সাহায্য সংস্থঅর অনুকূল ভাবধারা সৃষ্টির ব্যাপার কোনরুপ কৃত্রিম উপায়ই এখানে অবলম্বন করা হয় না, বরং সমাজের ব্যক্তিদের হৃদয় মনে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এই ভাবধারা ফুটিয়া উঠে এবং রাষ্ট্রশক্তির আনুকুল্যে ইহা বাস্তব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইসলামী সমাজে যেসব মতবাদ ও বিশ্বসের ভিত্তিতে স্থাপিত, তাহা স্বতঃই মানুষের মধ্যে গভীর ভ্রাতৃভাব জাগাইয়া দেয়। এক আল্লাহর বান্দাহ আমরা, এক আদমের সন্তান আমরা, আমাদের এই জনীবন কঠিনতম পরীক্ষার জীবন, যতদূর সম্ভব পরবর্তী অনন্তকালের জন্য কল্যাণেল পুঁজি সংগ্রহ করাই আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য এবং অনন্তর আমাদিগকে একই আদালতের নিকট জবাবাদিহি হইতে হইবে- এই বিশ্বাসই ইসলামী সমাজের বিক্ষিপ্ত লোকদের মধ্যে গভীর ঐক্য, বন্ধুত্ব সহানুভূতিও সহৃদয়তার অন্তঃসলীলা ফল্গুধারা প্রবাহিত করে।
ইসলামী জীবনধঅরা মূলতই সামাজিক ও সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। এই সমাজের কোন ব্যক্তিই নিজেকে একাকী ও নিঃসঙ্গ বলিয়া মনে করে না। প্রত্যেকেই নিজেকে অসংখ্য লোকের একজন এবং প্রত্যেকের জন্য দায়ী বলিয়া অনুভব করে। ইসলামের প্রায় সকল ইবাদাত অনুষ্ঠানই জনগণের মধ্যে এই ভাবধারা প্রতিনিয়ত শক্তিশালী করিয়া তোলে। মুসলমানের মধ্যে পারস্পরিক যে কর্তব্য ও অধিকার নির্ধারণ করা হইয়াছে,তাহা এই ভাবধারা অধিকৃত দৃঢ় করিয়া দেয়।
আধুনিক শিল্পনীতি পুঁজিদার ও শ্রমিক-মজুরদিগকে দুইটি স্থায়ী ও পরস্পর বিরোধী স্বার্থ সম্পন্ন গোষ্ঠীতে পরিণতগ করিয়াছে। ইহার প্রকৃত ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সম্পূর্ণ বিপরীত। ইসলামী সমাজের কোন অর্থশালী ব্যক্তি মুনাফা লুন্ঠনকেই নিজ জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্যরূপে গ্রহণ করিতে পারে না।