১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৯
ইসলামী অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত মালিকানার অবকাশ
পূর্বোক্ত বিস্তারিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামী অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত মালিকানার তাৎপর্য, গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য অনুধাবনীয়। ব্যক্তিগত ভোগাধিকার ভিত্তিক মালিকানা মানুষের স্বভাব ও মনস্তত্বের সহিত পুরা-পুরিভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্যক্তির এই অধিকার হরণ করা মানব-প্রকৃতির সম্পুর্ণ পরিপন্থী। যেখানেই ইহা কার্যকর করা হইয়াছে, সেখানেই মানুষের প্রকৃতি বিদ্রোহী হইয়া উঠিয়াছে- সে বিদ্রোহের বহিঃপ্রকাশ পারিপার্শ্বিক প্রভাবের দরুন যত বিলম্বেই ঘটুক না কেন। এই কারণে ইসলামী অর্থনীতে ব্যক্তির এই অধিকার গোটা অর্থব্যবস্থার অন্যতম বুনিয়াদ। ইহাকে অস্বীকার করা হইলে ইসলামী অর্থব্যবস্থার গোটা প্রাসাদই ধূলিস্সাৎ হইতে বাধ্য। যাকাত, হজ্জ, মীরাস, আল্লাহর পথে অর্থব্যয়, সাদকা, পারস্পরিক করয দিয়া সাহায্য করা, ক্রয়-বিক্রয়ের সমতা রক্ষা এবং এই পর্যায়ের কুরআন-হাদীসের যাবতীয় ঘোষণাবলী অর্থনীতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মালিকানা অধিকারের সহিত নিবিড়ভঅবে সম্পৃক্ত। ইহাকে অস্বীকার করার অর্থ জীবন সম্পর্কে ইসলামের ধারণা এবং ইসলাম নির্ধারিত জীবন-লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে অস্বীকার করা। পক্ষান্তরে, ইহাকে সত্য বলিয়া মানিয়া লইলে ব্যক্তিগত ভোগাধিকার ভিত্তিক মালিকানা অধিকারকেও অনিবার্যভাবে মানিয়া লইতে হইবে। কেননা একদিকে উহা মানিয়া লওয়া এবং অপরদিকে ব্যক্তিগত মালিকানাকে অস্বীকার করা মৌলিকভাবেই পরস্পরে বিরোধী। শুধু তাহাই নয়, এই ব্যক্তিগত মালিকানা কুরআন হাদীসের ভিত্তিতে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত এবং এক অনস্বীকার্য সত্যও বটে।
বস্তুত, আল্লাহ তা’আলা মানুষের জন্য যাহা কিছু করিয়াছেন, মানুষ যে পূর্বোক্ত অর্থে উহার মালিক হইতে পারে, নিম্নলিখিত আয়াত হইতে তাহা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়।
(আরবী)
তাহারা কি ভাবিয়া দেখে নাই যে, আমিই আমার নিজস্ব ক্ষমতায় তাহাদের জন্য জন্তু-জানোয়অর (প্রভৃতি নিয়ামত ও যাবতীয় ধন-সম্পদ) সৃষ্টি করিয়াছি, অতঃপর তাহারা-ই সেই সবের মালিক হইয়াছে। এবং এইগুলিকে তাহারে জন্য অনুগত, অনুকূল ও অধূন বানাইয়া দিয়াছি। ইহার দরুন-ই তাহারা উহা হইতে যানবাহন ও খদ্যবস্তু গ্রহণ করিতে পারিতেছে।
অর্থাৎ গোটা সৃষ্টিলোক ও উহার যাবতীয় দ্রব্য-সামগ্রী, জন্তু জানোয়অর- সব কিছুই একমাত্র আল্লাহর সৃষ্টি। মানুষ এই সবের উপর আল্লাহর নিয়োজিত খলীফা। তাহারা এইসব সৃস্টি জিনিস আল্লাহর দেওয়া আইন-বিধান মুতাবিক উপার্জন করিবে, ভোগ ও ব্যবহার করিবে, খাইবে, পান করিবে, যানবাহন রূপে কাজে লাগাইবে ও ইহা হইতে সত্যকার কল্যাণ লাভ করিবে। আল্লাহর সৃষ্ট জিনিসকে এইরূপে উপার্জন ও ভোগ-ব্যবহার করার অধিকার স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার দেওয়া অধিকার এবং এই হিসাবেই মানুষ এইসবের মালিক। সে মালিক সামষ্টিকভাবে এবং ব্যক্তি সমাজেরই একজন হিসাব ব্যক্তিগতভাবেও।
কুরআনে সর্বজনমান্য তাফসীরকারগণও উপরোক্ত আয়অতের এই অর্থই বুঝিয়াছেন। ইমাম খাজেন এই আয়তের তাফসীর লিখিয়াছেন:
(আরবী)
আল্লাহ বলেন, আমরা এই সবকিছু মানুষের কল্যাণের জন্যই সৃষ্টি করয়াছি। অতঃপর তাহাদিগকে এই সবকিছুর মালিক বানাইয়া দিয়াছি। অততএব তাহারা মালিকানা অধিকারের ভিত্তিতে এইসবে ভোগ ও ব্যবহার করিতে থাকিবে।
ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিীখয়াছেন:
(আরবী)
জন্তু-জানোয়অর ইত্যাদি সৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহর নিয়ামত দানের কাজ পূর্ণ করার কথাই এই আয়তে বলা হইয়াছে। কেননা আল্লাহ যদি এইসব সৃষ্টি করিতেন আর মানুষ যদি এই সবের ব্যবহারাধিকার হিসাবে মালিক না হইত তাহা হইলে মানুষ আল্লাহর সৃষ্টিধারা হইতে কিছুমাত্র উপকৃত হইতে পারিত না।
বস্তুত, আল্লাহ তা’আলা মানুষের জন্য যাহা কিছু করিয়াছেন, মানুষ যে পূর্বোক্ত অর্থে উহার মালিক হইতে পারে, নিম্নলিখিত আয়াত হইতে তাহা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়।
(আরবী)
তাহারা কি ভাবিয়া দেখে নাই যে, আমিই আমার নিজস্ব ক্ষমতায় তাহাদের জন্য জন্তু-জানোয়অর (প্রভৃতি নিয়ামত ও যাবতীয় ধন-সম্পদ) সৃষ্টি করিয়াছি, অতঃপর তাহারা-ই সেই সবের মালিক হইয়াছে। এবং এইগুলিকে তাহারে জন্য অনুগত, অনুকূল ও অধূন বানাইয়া দিয়াছি। ইহার দরুন-ই তাহারা উহা হইতে যানবাহন ও খদ্যবস্তু গ্রহণ করিতে পারিতেছে।
অর্থাৎ গোটা সৃষ্টিলোক ও উহার যাবতীয় দ্রব্য-সামগ্রী, জন্তু জানোয়অর- সব কিছুই একমাত্র আল্লাহর সৃষ্টি। মানুষ এই সবের উপর আল্লাহর নিয়োজিত খলীফা। তাহারা এইসব সৃস্টি জিনিস আল্লাহর দেওয়া আইন-বিধান মুতাবিক উপার্জন করিবে, ভোগ ও ব্যবহার করিবে, খাইবে, পান করিবে, যানবাহন রূপে কাজে লাগাইবে ও ইহা হইতে সত্যকার কল্যাণ লাভ করিবে। আল্লাহর সৃষ্ট জিনিসকে এইরূপে উপার্জন ও ভোগ-ব্যবহার করার অধিকার স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার দেওয়া অধিকার এবং এই হিসাবেই মানুষ এইসবের মালিক। সে মালিক সামষ্টিকভাবে এবং ব্যক্তি সমাজেরই একজন হিসাব ব্যক্তিগতভাবেও।
কুরআনে সর্বজনমান্য তাফসীরকারগণও উপরোক্ত আয়অতের এই অর্থই বুঝিয়াছেন। ইমাম খাজেন এই আয়তের তাফসীর লিখিয়াছেন:
(আরবী)
আল্লাহ বলেন, আমরা এই সবকিছু মানুষের কল্যাণের জন্যই সৃষ্টি করয়াছি। অতঃপর তাহাদিগকে এই সবকিছুর মালিক বানাইয়া দিয়াছি। অততএব তাহারা মালিকানা অধিকারের ভিত্তিতে এইসবে ভোগ ও ব্যবহার করিতে থাকিবে।
ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিীখয়াছেন:
(আরবী)
জন্তু-জানোয়অর ইত্যাদি সৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহর নিয়ামত দানের কাজ পূর্ণ করার কথাই এই আয়তে বলা হইয়াছে। কেননা আল্লাহ যদি এইসব সৃষ্টি করিতেন আর মানুষ যদি এই সবের ব্যবহারাধিকার হিসাবে মালিক না হইত তাহা হইলে মানুষ আল্লাহর সৃষ্টিধারা হইতে কিছুমাত্র উপকৃত হইতে পারিত না।