১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৮০
বিলাস দ্রব্যের রফতানী
বর্তমান যুগের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের ব্যাপারে বিলাসদ্রব্যের এইজন্য গুরুত্ব রহিয়াছে যে, ইহা অত্যদিখ মুনাফা লাভের দরুন একটি দেশের মূলধন বাড়াইয়া দিতে পারে। এইজন্য প্রত্যেক দেশই নিজের অর্থনৈতিক অবস্থার উৎকর্ষ সাধনের জন্য বিলাসদ্রব্য রফতানী করিতেই প্রাণপনে চেষ্টা করে। বিলাদ্রব্য রফতানী করিলে দেশের শ্রমিক, মজুর ও ব্যবসায়ীদের প্রচুর মুনাফা হইতে পারে- নিছক এই দৃষ্টিতে যদি চিন্তা করা ও নীতি নির্ধারণ করা হয়, তাহা হইলে উহা এক অপরিহার্য কর্তব্য হইয়া পড়ে, সন্দেহ নাই; কিন্তু ইসলামী অর্থনীতি কোন একটি ব্যাপারে উহার নৈতিক দর্শনকে উপেক্ষা করিতে পার না, নৈতিক নিয়ম-বিধানকে পরিত্যাগ করিতে পারে না। ইসলামী সমাজ-ব্যবস্থায় মানুষের জীবনের নৈতিক চরিত্র, সর্ববিধ কল্যাণ ও মঙ্গল সাধন করার জন্যই চেষ্টা করা হইবে। এইজন্যই বিলাসদ্রব্যের উৎপাদন ও আমদানী ও রফতানীকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করিতে হইবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, একজন মুসলমান নিজে মদ উৎপাদন করিতে পারে না। তাহাকে প্রথমেই এই কথা চিন্তা করিতে হইবে যে, যে যে দ্রব্য উৎপন্ন করা হইয়াছে, মূলত তাহা মানুষের পক্ষ্যে কল্যাণকর না ক্ষতিকর। কল্যাণকর হইলে উহার উৎপাদন ও ব্যাপক প্রচার করা হইবে আর ক্ষতিকর হইলে তাহা সর্বতোভাবে বর্জন করিতে হইবে। তাহা উৎপন্ন করিয়া বিদেশের বাজারে চালন দিয়া যদি অপরিমিত অর্থ লাভও সম্ভব বা সহজ হয়, তবুও ইসলামী রাষ্ট্র তাহা কিছুতেই করিতে পারে না।