১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬০
সমাজতান্ত্রিক দেশ ও ইসলামী সমাজের মধ্যে পার্থক্য সোভিয়েত রাশিয়ার শ্রমিকদের অবস্থা
প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করা যাইতে পারে যে, ইসলামী অর্থনীতি মজুর শ্রমিকদিগকে ব্যক্তি-স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মত বাঁচিবার অধিকারও দেয়, সর্বাধিক সুযোগ-সুবিধা দান করে, জীবিকা-নির্বাহের প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহের দায়িত্ব গ্রহণ করে। নিজেদের অভাব-অভিযোগের কথা প্রকাশ করা এবং সরকারী অব্যবস্থার সমালোচনা করাও পূর্ণ অধিকার দেয়, কিন্তু সোভিয়েত রাশিয়র কমিউনিজমের ছায়ার তলে শ্রমিকদের জীবন বড়ই দুঃসহ, তাহাদের অবস্থা অতিশয় মর্মান্তিক। সেখানে মজুর-শ্রমিক ও চাষীদের ব্যক্তি-স্বাধীনতা বলিতে কিছুরই অস্তিত্ব নাই। এক কাজ ছাড়িয়া অন্য কাজ গ্রহণ করার কোন অধিকারও তাহাদিগকে দেওয়া হয় না। কেহ তাহা করিলে- ২৬শে জুন ১৯৪০ সনের গৃহীত একটি আইন অনুযায়ী- তাহাকে চার মাসের কারদন্ডে দন্ডিত করা হয়। সামরিক রেলওয়ে এবং পানি-সরবরাহকারী বিভাগসমূহের মজুরগণ বিনা অনুমতিতে কাজ পরিবর্তন করিলে তাহাকে পাঁচ হইতে আট বৎসরের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া যাইতে পারে। কোন মজুর যদি একমাসে তিনবার কিংবা দুইমাসে চারবার কাজে ২০ মিনিট সময় দেরী করিয়া আসে, তবে উপরোক্ত আইনের বলে তাহাকে সেই স্থানেই ছয়মাস কালের শিক্ষামূলক শস্তি দেওয়া হয় এবং এক চতুর্থাংশ বেতন কাটিয়া লওয়া হয়। সোভিয়েত রাশিয়ার মজুরগণ সরকারের হস্তে নিস্প্রাণ কাঁচামালের মতই ব্যবহৃত হয়। সেখানে মজুরের বাসস্থানে সুবিধা-অসুবিধার প্রতি লক্ষ্য না রাকিয়া সরকারের ইচ্ছামতই যেখানে সেখানে মজুরকে বদলি করা হয় এবং তথায় উপস্থিত হইয়া কাজে নিযুক্ত হইতে মজুরকে বাধ্য করা হয়।
কিন্তু এইরূপ রাষ্ট্রের নির্মম অক্টোপাসে বাধা কলুর বলদ- মজুর-শ্রমিকগণ-সেখানে কিরূপ মজুরী পাইয়া থাকে? ইহার উত্তরে শোনা যায়ঃ অনেক, তুলনাহীন এবং তাহা হইতেছে দুই-দুইশ, চার-চারশ রুবল ইত্যাদি। কিন্তু প্রকৃত ব্যাপর এই যে, একজন মজুর হয়ত মাত্র ৬০.১ রুবলেরও কম এবং অন্য একজন ১১০,০.১ রুবলেরও বেশী বেতন পাইয়া থাকে। মনে রাখিতে হইবে যে, এই রুবলের আন্তর্জাতিক মুল্য বাংলাদেশী টাকার অপেক্ষাও অনেক কম। আর দেশের অভ্যন্তরে উহার ক্রময়-ক্ষমতা আরো অনেক কম। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, রাশিয়ার একজন মজুরকে এক কিলোগ্রাম [২.২] পরিমাণ মাখন খরিদ করার জন্য যেখানে ২৩ ঘন্টা ২৩ মিনিটের অর্থাৎ তিনদিনের শ্রমোপার্জিত অর্থের আবশ্যক, সেখানে একজন ইংরেজ মজুর মাত্র এক ঘন্টা ১৩ মিনিটের মজুরী দ্বারাই অত পরিমাণ মাখন খরিদ করিতে পারে।[Sovie Trade Union by Maurice Dobb]
কিন্তু এইরূপ রাষ্ট্রের নির্মম অক্টোপাসে বাধা কলুর বলদ- মজুর-শ্রমিকগণ-সেখানে কিরূপ মজুরী পাইয়া থাকে? ইহার উত্তরে শোনা যায়ঃ অনেক, তুলনাহীন এবং তাহা হইতেছে দুই-দুইশ, চার-চারশ রুবল ইত্যাদি। কিন্তু প্রকৃত ব্যাপর এই যে, একজন মজুর হয়ত মাত্র ৬০.১ রুবলেরও কম এবং অন্য একজন ১১০,০.১ রুবলেরও বেশী বেতন পাইয়া থাকে। মনে রাখিতে হইবে যে, এই রুবলের আন্তর্জাতিক মুল্য বাংলাদেশী টাকার অপেক্ষাও অনেক কম। আর দেশের অভ্যন্তরে উহার ক্রময়-ক্ষমতা আরো অনেক কম। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, রাশিয়ার একজন মজুরকে এক কিলোগ্রাম [২.২] পরিমাণ মাখন খরিদ করার জন্য যেখানে ২৩ ঘন্টা ২৩ মিনিটের অর্থাৎ তিনদিনের শ্রমোপার্জিত অর্থের আবশ্যক, সেখানে একজন ইংরেজ মজুর মাত্র এক ঘন্টা ১৩ মিনিটের মজুরী দ্বারাই অত পরিমাণ মাখন খরিদ করিতে পারে।[Sovie Trade Union by Maurice Dobb]