১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২৬
সরকারী ঋণের প্রকারভেদ
রাষ্ট্র-সরকার যে ঋণ গ্রহণ করে, তাহা সাধারণত দুই প্রকার হইয়া থাকে। হয় তাহা দেশে অতিরিক্ত অর্থোৎপানের কাজে নিয়োগ করা হয়, নয় তাহা বিশেষ প্রয়োজনের কাজে ব্যয় করা হয়। ইসলামী রাষ্ট্র –সরকারের বায়তুলমাল হইতে জনগণ এই উভয় উদ্দেশ্যেই ঋণ গ্রহণ করিত। অতএব জনসাধারণ যদি রাষ্ট্রীয় বায়তুলমাল হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারে তাহা হইলে বায়তুলমালও প্রয়োজন অনুারে জনগণের নিকট হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারে এবং এই ঋণ গ্রহণের ব্যাপারে উহাকেও সেই সব শর্ত পালন করিয়অ চলিতে হইবে যাহা সে ঋণ গৃহীতা জনগণের উপর আরোপ করিয়া থাকে।
আধুনিক কালের রাষ্ট্রসরকারসমূহ জনস্বার্থের খাতিরে এবং সাধারণ উন্নয়নমূলক পরিকল্পন্ন কার্যকর করিবার জন্য ঋণ গ্রহণ করিয়া থাকে। যথা- সেচ পরিকল্পনার জন্য খাল ও পুকুর খনন, বাঁধ বাধা, রাস্তাঘাট ও পুল নির্মাণ, সামুদ্রিক বন্দর ও বিমানঘাঁটি তৈয়ার করা, প্রাচীর ও সামরিক ঘাঁটি তৈয়ার করা, রেল লাইন, ট্রাম লাইন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র স্থাপন, প্রভৃতি অর্থোৎপাদক কাজের জন্য প্রত্যেক সরকারই জনগণের নিকট সাময়িক ঋণের দাবি করে এবং এই ঋণ গ্রহণের পর সিকিউরিটি সার্টিফিকেট জারী ও সার্টিফিকেট গ্রহণকারীদিগকে নির্দিষ্ট হারে সুদ দিয়া থাকে।
ইসলামী রাষ্ট্রও প্রয়োজন হইলে এইরূপ অর্থোৎপাদক কাজের জন্য জনগণের নিকট হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারে। কিন্তু সে ঋণ কোন মতেই সুদভিত্তিক ঋণ হইবে না। বরং তাহার পরিবর্তে সম্মিলিত মূলধনের ভিত্তিতে পারস্পরিক ব্যবসায় হিসাবেই এই ঋণ গ্রহণ করিতে হইবে এবং প্রকল্পের মূল মুনাফা হইতে নির্দিষ্ট অংশ ঋণ-দাতাদের মধ্যে বন্টন করিতে হইবে। এই মূল প্রতিষ্ঠান হইতে সরকার নিজের সাংগঠনিক শ্রম ও দায়িত্বের বিনিময় গ্রহণ করিতে পারিবে। সরকার যদি সাধারণ ঋণের সুদ দেওয়ার পরিবর্তে মূল ব্যবসায়ের লাভ-লোকসানে সমানভাবে শরীক থাকিবার ‘সিকিউরিটি’ দান করে, তাহা হইলে জনসাধারণ তাহাতে মুনাফার আশায় মূলধন বিনিয়োগ করিতে- অন্ততঃ সাময়িক ঋণ দিতে- বিশেষভাবে উৎসাহিত হইবে, তাহাতে কোনই সন্দেহ থাকিতে পারে না।
অনুৎপাদক কাজের জন্য- যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, ঝড় প্লাবন প্রভৃতি জাতীয ও আকস্মিক বিপদ-আপদ প্রতিরোধের জন্যও রাষ্ট্র সরকার জনগণের নিকট হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারে। এই ঋণ দান এবং উহা পরিশোধ করা সম্পর্কে নিম্নলিখিত আয়াতই মূলনীতি হিসাবে স্বীকৃত হইবে:
(আরবী)
তোমরা কাহারো উপর জুলুম করিবে না এবং তোমাদের উপর জুলুম করা হইবে না।
আধুনিক কালের রাষ্ট্রসরকারসমূহ জনস্বার্থের খাতিরে এবং সাধারণ উন্নয়নমূলক পরিকল্পন্ন কার্যকর করিবার জন্য ঋণ গ্রহণ করিয়া থাকে। যথা- সেচ পরিকল্পনার জন্য খাল ও পুকুর খনন, বাঁধ বাধা, রাস্তাঘাট ও পুল নির্মাণ, সামুদ্রিক বন্দর ও বিমানঘাঁটি তৈয়ার করা, প্রাচীর ও সামরিক ঘাঁটি তৈয়ার করা, রেল লাইন, ট্রাম লাইন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র স্থাপন, প্রভৃতি অর্থোৎপাদক কাজের জন্য প্রত্যেক সরকারই জনগণের নিকট সাময়িক ঋণের দাবি করে এবং এই ঋণ গ্রহণের পর সিকিউরিটি সার্টিফিকেট জারী ও সার্টিফিকেট গ্রহণকারীদিগকে নির্দিষ্ট হারে সুদ দিয়া থাকে।
ইসলামী রাষ্ট্রও প্রয়োজন হইলে এইরূপ অর্থোৎপাদক কাজের জন্য জনগণের নিকট হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারে। কিন্তু সে ঋণ কোন মতেই সুদভিত্তিক ঋণ হইবে না। বরং তাহার পরিবর্তে সম্মিলিত মূলধনের ভিত্তিতে পারস্পরিক ব্যবসায় হিসাবেই এই ঋণ গ্রহণ করিতে হইবে এবং প্রকল্পের মূল মুনাফা হইতে নির্দিষ্ট অংশ ঋণ-দাতাদের মধ্যে বন্টন করিতে হইবে। এই মূল প্রতিষ্ঠান হইতে সরকার নিজের সাংগঠনিক শ্রম ও দায়িত্বের বিনিময় গ্রহণ করিতে পারিবে। সরকার যদি সাধারণ ঋণের সুদ দেওয়ার পরিবর্তে মূল ব্যবসায়ের লাভ-লোকসানে সমানভাবে শরীক থাকিবার ‘সিকিউরিটি’ দান করে, তাহা হইলে জনসাধারণ তাহাতে মুনাফার আশায় মূলধন বিনিয়োগ করিতে- অন্ততঃ সাময়িক ঋণ দিতে- বিশেষভাবে উৎসাহিত হইবে, তাহাতে কোনই সন্দেহ থাকিতে পারে না।
অনুৎপাদক কাজের জন্য- যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, ঝড় প্লাবন প্রভৃতি জাতীয ও আকস্মিক বিপদ-আপদ প্রতিরোধের জন্যও রাষ্ট্র সরকার জনগণের নিকট হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারে। এই ঋণ দান এবং উহা পরিশোধ করা সম্পর্কে নিম্নলিখিত আয়াতই মূলনীতি হিসাবে স্বীকৃত হইবে:
(আরবী)
তোমরা কাহারো উপর জুলুম করিবে না এবং তোমাদের উপর জুলুম করা হইবে না।