hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫০

বিনিয়োগকারীদের অবস্থা

ইসলামী ব্যাংক মূলন সংগ্রহের জন্য dedentures ইস্যু করিবে না। কেননা তাহাতে নির্দিষ্ট পরিমাণের মুনাফঅ দেওয়ার প্রশ্ন দেখা দেয়। ইসলামী ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী মূলধন পাওয়ার জন্য জনগণকে নির্দিষ্ট মেয়াদ কিংবা নির্দিষ্ট উৎপাদনী কাজে মুনাফা ভিত্তিতে অর্থ বিনিয়োগের আহ্বান জানাইতে পারে। ব্যাংক এইসব কাজ হইতে লব্ধ মুনাফার অংশ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তাহাদের মূলধন অনুপাতে ভাগ করিয়া দিবে। ইহাদের নামে বিনিয়োগ সনদ (Investment certificate) দেওয়া যাইবে এবং এক বৎসর হইতে পাঁচ বৎসর পর্যন্ত চলিতে পারিবে।

সমাজে এমন বহুলোক রহিয়াছে যাহারা নিজেদের উদ্বৃত্ত মূরধন সংরক্ষণ ও মুনাফামূলক ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করার উপায় সন্ধান করিতেছে। ইসলামী ব্যাংক যেহেতু জনগণের নিকট খুবই বিশ্বাস্য ও আস্থাভাজন হইবে, তাই ইহা এই শ্রেণীর লোকদের মূলধন রাখা ও ব্যবসায়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিবেচিত হইতে পারিবে। ফলে ব্যাংক এইসব মূলধন পাইয়া উহার সুষ্ঠু ব্যবহার ও নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট লোকদের বিরাট কল্যাণ সাধন করিতে পারে এবং সেই সংগে এ ধরনের অবশিষ্ট আরও বহু লোকের নিকটও আস্থাভাজন হইয়া তাহাদেরও মূলধন গ্রহণের বিপুল সুযোগ পাইতে পারে; ব্যাংক এই ব্যক্তিদের নামে investment certificate ইস্যু করিতে পারে। ইহা দীর্ঘ মেয়াদী কিংবা অনির্দিষ্ট কালের জন্য হইতে পারে, হইতে পারে ৫বা ১০ বৎসরের মেয়াদের জন্যও। এই সনদধারী লোকেরা ব্যাংকৈর মূল মুনাফার আনুপাতিক অংশীদার হইবে। অবশ্য সময় ও অন্যান্য কার্য-কারণের প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া মুল অংশীদার এবং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফার হার বন্টন করিতে হইবে।

ব্যাংকের মূলধন সংগ্রহের জন্য ইহা খুবই কার্যকর ও বাস্তব পন্থা বিশেষ। পাশ্চাত্য দেশের কোন কোন ব্যাংক এই পন্থাকে কাজে লাগাইয়াছে এবং এই উপায়ে তাহার বিপুল পরিমাণ মূলধন সংগ্রহ করিতেছেন। তাহাতে Investment certificates কিংবা Investment bonds জারী করা হয় এবং তাহা করা হয় নির্দিষ্ট রেটের rate সুদের (interest) ভিত্তিতে।

বর্তমান যুগে অর্থনীতির ক্ষেত্রে ঋণ বা অগ্রিম মূলধন পাওয়ার ‍ গুরুত্ব অত্যধিক। কয়েকটি অত্যুন্নত দেশে শিল্প ও ব্যবসায়ের সম্প্রসারণ ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা সর্বাধিক কল্যাণকর প্রমাণিত হইয়াছে। সেই সব দেশে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনক সুফল পাওয়া গিয়াছে। কাজেই ইসলামী রাষ্ট্রেও ব্যাংকের মাধ্যমে এই সুবিধা (facilities) ও সুযোগ জনগণের জন্য নিশ্চয় করিতে হইবে। দেশের অপেক্ষাকৃত অনুন্নত অঞ্চলে এই cresit facelities সম্প্রসারিত হইলে অধিক কল্যাণ লাভের সম্ভাবনা। ব্যবসায় বাণিজ্য ও শিল্পের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি লাভের উদ্দেশ্যে এ কাজ বিশেষ জরুরী এবং ইসলামী ব্যাংককে এ কাজ অবশ্যই করিতে হইবে।

ইসলাম নির্দিষ্ট মুনাফা (Interest, usury)-(সুদ) হারাম করিয়াছে। কিন্তু তাহার অর্থ এই নয় যে, অগ্রিম ভিত্তিতে ব্যবসায় বা শিল্পে অর্থবিনিয়োগেরও নিষেধ করিয়াছে। ইসলঅমে সর্বপ্রকার অর্থ বিনিয়োগ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হইতে হইবে। মুনাফা হইলে উভয় পক্ষই তাহা পাইবে এবং লোকসান হইলে উভয়ই তাহার বোঝা বহন করিবে। মন্দা অবস্থার ঝুঁকি কেবল একটি পক্ষের উপর চাপাইয়া দেওয়া কোনদিক দিয়াই সংগত হইতে পারে না।

অংশীদারদের অংশের টাকা আমানতদারী জমা এবং বিনিয়োগকারীদের দেওয়া মূলধন হস্তগত হওয়া এবং ব্যাংকের নিজস্ব সম্পদ ও ইহার সহিত যোগ হওয়ার পর কোন নির্ভরযোগ্য মুনাফা-সম্ভব শিল্প কর্মে তাহা লগ্নি করিতে হইবে। এলাকার ব্যবসায় ও শিল্পে বিনিয়োগ প্রয়োজন পূর্ণার্থেও ব্যাংক টাকা লাগাইতে পারে- ঠিক যেমন ব্যবসায়ী ব্যাংক (Commercial bank) করিয়া থাকে।

অতঃপর এখানে আমরা স্বল্প-মেয়াদী মুলধন বিনিয়োগ এবং তাহার পর দীর্ঘ-মেয়াদী বিনিয়োগ সম্পর্কে আলোচনা করিব।