hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬৮

যাকাত ব্যয়ের পরিকল্পনা

বাৎসরিক যাকাতরে যে পরিমাণ সম্পর্কে উপরে একটি ধাণা দেওয়া হইল উহাকে সঠিকভাবে ও সুষ্ঠু পন্থায় উপযুক্ত লোকদের মধ্যে বিতরণের জন্য একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনা রচনা করা একান্তই আবশ্যক। বর্তমান সন্দভে আমি ইহার একটি আভাস মাত্র পাঠকদের সম্মুখে পেশ করিতে চেষ্টা করিব।

ইহাতে কোনই দ্বিমত নাই যে, দেশের গরীব, মিসকীন, অন্ধ, অসহায়, শিশু, বৃদ্ধ, বিধবা, পংগু, আতুর, বিপদগ্রস্ত পথিক এবং প্রয়োজন পরিমাণ অর্থোৎপার্জনে অসমর্থ লোকদের মধ্যে যাকাতের টাকা বিতরণ করিতে হইবে। এই ধরনের লোক রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগে, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে এবং দেশের প্রতি কেন্দ্রে ছাড়াইয়া রহিয়াছে। আমরা অনায়াসে ইহাদের দুইটি শ্রেণীতে বিভক্ত করিতে পারি। প্রথম শ্রেণীতৈ তাহাদের গণ্য করিতে পারি- যাহারা বিভিন্ন সরকারী বিভাগ এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বেতনভোগী কর্মচারী হিসাবে প্রয়োজন পরিমাণ অর্থ হইতে বঞ্চিত হইয়া বহু কষ্টে কালাতিপাত করিতেছে। যাকাতের মোট টাকার অর্ধেক তাহাদের জীবনযাত্রার মান-উন্নয়নে ব্যয় করা হইবে এবং তাহাদের জন্য গঠিত পারস্পরিক সাহায্য-সংস্থায় তাহাদেরই নামে এই টাকা নির্দিষ্ট হারে জমা করা হইবে, যেন ইহার সুফল তাহারাই ভোগ করিতে পারে। গরীকবদের বিনামূল্যে শিক্ষা, চিকিৎসা, আদালতী বিচার লাভের সুযোগ করিয়া দেওয়া যাইতে পারে। সাধারণ গরীবদের জন্য নির্দিষ্ট অসংখ্য প্রকার কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠা গড়িয়া তোলা এই ফান্ডের দ্বারা সম্ভব। বলাবাহুল্য, যাকাত আদায়ের জন্য যে কর্মচারী নিযুক্ত হইবে তাহাদের বেতনও এই টাকা হইতেই দেওয়া হইবে।

বাকী অর্থের টাকা নিম্নলিখিত রূপে দুই ভাগে ভাগ করা যাইতে পারে:

(১) গরীবদের জন্য স্থায়ীভাবে ধনোৎপাদনের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে এবং

(২) ব্যক্তিগতভাবে তাদের নগদ টাকা বা প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করিয়া দেওয়ার খাতে ব্যয় করা হইবে।