hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৩

সরকার পর্যায়ে জমি বন্টন

এই আলোচনার শেষ ভাগে সরকারী পর্যায়ে জমি বন্টন সম্পর্কে আরো কয়েকটি জরুরী কথা বলা আবশ্যক।

সরকারী পর্যায়ে কেবলমাত্র সেই সব জমিই বন্টন করা যাইতে পারে যাহার কোন ব্যক্তিই মালিক নয় এবং তাহা বন্টন করা যাইবে কেবল সেই সব ভূমিহীন বা স্বল্প ভূমি মালিক লোকদের মধ্যে যাহারা উহা আবাদ ও চাষোপযোগী করিয়া তুলিতে এবং উহা হইতে ফসল ফলাইতে ইচ্ছুক ও সক্ষম বিবেচিত হইবে। উপরন্তু উহা নির্দিষ্ট মিয়াদের মধ্যে আবাদ করার শর্তেই দেওয়া যাইতে পারে। এই শর্তের কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হইয়াচে। এই মিয়াদ শেষ হইয়া যাওয়ার পর্বে যদি তাহা আবার করা সম্ভব না হইয়া থাক তাহা হইলে উহা সরকারের নিকট প্রত্যার্পিত হইবে এবং সরকার উহা অপর লোকদের মধ্যে পূণর্বন্টন করিবে।

নবী করীম (ﷺ) ও খুলাফায়ে রাশেদুনের আমলে জমি বন্টনের নিয়ম পুরামাত্রায় প্রচলিত ছিল।

এই জমি বন্টনের ব্যাপারে জরুরী শর্ত হইল:

(ক) সেই জমি কোন রাগরিকের মালিকানাভুক্ত হইবে না।

(খ) উহা সাধারণ জন-মানুষের কল্যাণের সহিত সম্পর্কিত হইবে না। এ ধরনের কোন জমি বিশেষ কোন নাগরিককে ব্যক্তিগতভাবে মালিকানা হিসাবে দান করার সরকারের কোন অধিকা নাই। এবং

(গ) এই জমি এমন হইবে না যেখানে সাধারণ জন-মানবের জন্য অপরিহার্য কোন ধাতু বা সম্পদের খনি অবস্থিত। এইরূপ হইলে সেই জমি ব্যক্তিগতভাবে কাহাকেও দেওয়া যাইবে না।

এই তিন প্রকারের জমি ছাড়া অন্যা্য সকল প্রকার জমিই সরকার যাহাকে ইচ্ছা ভোগ দখলের জন্র দান করিতে পারে। কিন্তু তাহাও খাতির, প্রীতি, আত্মীয়তা, ঘুষ-রিশওয়াত, সুপারিশ ও ধরপাকড়ে বা দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে কাহাকেও দেওয়া যাইতে পারে না। বরং এই জমি বন্টনের ব্যাপারেও শহর-নগর উন্নয়ন, অধিক ফসল ফলাও ও সাধারণ জনমানুষের কল্যাণ হইতে হইবে আসল লক্ষ্য।