১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
উৎপাদনের উৎস ও উপকরণ
মানুষের জীবন অপরিহার্য প্রয়োজন ও আবশ্যকতাকে কেন্দ্র করিয়া চক্রাকারে ঘুরিতেছে। মানুষেরঅসংখ্য ও বিভিন্নপ্রকার প্রয়োজনকে মোটামুটিভাবে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়- বৈষয়কি বা বস্তুতান্ত্রিক এবং নৈতিক বা মানবিক প্রয়োজন। এই প্রয়োজনসমূহ যথাযথভাবে পূর্ণ না করিয়া কোন মানুষই- সে সভ্য হউক, অসভ্য হউক- এক মুহূর্তের তরেওজীবন যাপন করিতে পারে না, বাঁচিয়া থাকিতে পারে না।
মানুষের এই প্রয়োজন কেবল ব্যক্তিজীবনেই অনুভূত হয় না- সমাজ ও জাতীয়জীবনেও ইহা শাশ্বত ও অনিবার্য। একই দেশের বা ইকই সমাজের ব্যক্তিদের নিজস্ব প্রয়োজন পূর্ণ হয় সমাজের লোকদের পারস্পরিক আদান প্রদানের মাধ্যমে, আর জাতীয়ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য অপরিহার্য আ্তর্জাতিক লেন-দেন। এইকারণে প্রত্যেকটি প্রয়োজনেই দুইটি অবশ্যম্ভাবী। একটি দিক উহার জাতীয় বা অভ্যন্তরণী আর অপরটি আন্তর্জাতিক। এই উভয় দিকে যাবতীয প্রয়োজন যথাযথভাবে পূর্ণ হওয়া একন্তা আবশ্যক। অন্যথায় মানুষের ব্যক্তি-জীবন ও রাষ্ট্রীয়-জীবনকঠিন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হইতে বাধ্য।
মানুষের এই উভয়বিধ-সর্ববিধ-প্রয়োজন পূর্ণ করর জন্য যাবতীয অপরিহার্য উপায়-উপাদন মানব-সমাজ ও বিশ্ব-প্রকৃতির বুকে পূর্ব হইতেই আল্লাহতাআলা একত্রিত করিয়া রাখিয়াছেন। মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য মুক্ত ও নির্মল বায়ু উদার প্রকৃতির বুকে সতত প্রবাহমান। জলীয় প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য রহিয়াছে অফুরন্ত জল। আলো ও উত্তাপ অনুরূপভঅবে সহজলভ্য। এই তিনটি প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য সাধারণভাবে মানুষকে বিশেষ কোন শ্রম-মেহনত বা চেষ্টা-সাধনা ব্যতীত পূর্ণ হইতে পারে না।
মানুষের খাদ্য ও আচ্ছাদনের প্রয়োজন পূর্ণ করিবার জন্য যে সকল উপাদানের আবশ্যক তাহা যদিও বিশ্ব-প্রকৃতির বুকে অফুরন্তভাবে ছড়াইয়অ রহিয়াছে, কিন্তু মোটামুটিভাবে তাহা উপার্জন সাপেক্ষ, মানুষের শ্রম-মেহনতের সাহায্যেই উহাকে ব্যবহারোপযোগী করিয়া তোলা আবশ্যক। উহার সহিত মেহনত যুক্ত না হইলে তাহা মানুষের কোন প্রয়োজনই পূরণ করিতে পারে না। উপরন্তু, মানুষের কেবল বাঁচিয়া থাকারই প্রয়োজন নয়, যেন-তেন প্রকারের শুধু জীবন ধারণ করাই মানুষের কাম্য নয়। এই উন্নত, সুসভ্য-সর্বোপরি বিশ্বের সেরা সৃষ্টি হিসেবে, উচ্চতর সংস্কৃতি-সম্পন্ন জাতি হিসাবে বাঁচিয়া থাকার জন্যওতাহার বহুবি উপাদান উপকরণ আবশ্যক। এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় উপাদনসমূহও ব্যবহারোপযোগী হইতে পারে স্বভাবজাত উপকরণের সহিত মানুসের শ্রম, বুদ্ধিমত্তা ও কর্মমুশলতার যোগ হইলে।
বস্তুত মানুষের প্রয়োজন পূরণের জন্য সম্পদ-উৎপাদন আবশ্যক। উৎপন্ন অর্থ-সম্পদ ওদ্রব্য-সামগ্রীর ভোগ-ব্যবহারের জন্য আবশ্যক সম্পদ বন্টনের। সম্পদ বন্টন প্রসংগেই পারস্পরিক বিনময় ব্যবস্থাও অপরিহার্যহইয়া পড়ে এবং সর্বশেশে জাগে লব্ধ ধন-সম্পদ ব্যয় করার প্রশ্ন।
অর্থশাস্ত্রের এই বিভিন্ন পর্যায় ও দিক সম্মুখে রাখিয়াই ইসলামের অর্থনীতির আলোচনা করিতে হইবে। এই আলোচনা হইতেদুইটি কথা সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত হইবে। প্রথম এই যে, অর্থনৈতিক সমস্যার ইসলামীসমাধান অতি স্বাভাবিক, সুবিচারমুলক ও সহজসাধ্য; আর দ্বিতীয় এই যে, মানুষের সর্ববিধ অর্থনৈতিক সমস্যার সুষ্ঠু ও নির্ভরযোগ্য সমাধান একমাত্র ইসলামই দিতে সক্ষম- অন্য কোন ব্যবস্থঅ নয়।
মানুষের এই প্রয়োজন কেবল ব্যক্তিজীবনেই অনুভূত হয় না- সমাজ ও জাতীয়জীবনেও ইহা শাশ্বত ও অনিবার্য। একই দেশের বা ইকই সমাজের ব্যক্তিদের নিজস্ব প্রয়োজন পূর্ণ হয় সমাজের লোকদের পারস্পরিক আদান প্রদানের মাধ্যমে, আর জাতীয়ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য অপরিহার্য আ্তর্জাতিক লেন-দেন। এইকারণে প্রত্যেকটি প্রয়োজনেই দুইটি অবশ্যম্ভাবী। একটি দিক উহার জাতীয় বা অভ্যন্তরণী আর অপরটি আন্তর্জাতিক। এই উভয় দিকে যাবতীয প্রয়োজন যথাযথভাবে পূর্ণ হওয়া একন্তা আবশ্যক। অন্যথায় মানুষের ব্যক্তি-জীবন ও রাষ্ট্রীয়-জীবনকঠিন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হইতে বাধ্য।
মানুষের এই উভয়বিধ-সর্ববিধ-প্রয়োজন পূর্ণ করর জন্য যাবতীয অপরিহার্য উপায়-উপাদন মানব-সমাজ ও বিশ্ব-প্রকৃতির বুকে পূর্ব হইতেই আল্লাহতাআলা একত্রিত করিয়া রাখিয়াছেন। মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য মুক্ত ও নির্মল বায়ু উদার প্রকৃতির বুকে সতত প্রবাহমান। জলীয় প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য রহিয়াছে অফুরন্ত জল। আলো ও উত্তাপ অনুরূপভঅবে সহজলভ্য। এই তিনটি প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য সাধারণভাবে মানুষকে বিশেষ কোন শ্রম-মেহনত বা চেষ্টা-সাধনা ব্যতীত পূর্ণ হইতে পারে না।
মানুষের খাদ্য ও আচ্ছাদনের প্রয়োজন পূর্ণ করিবার জন্য যে সকল উপাদানের আবশ্যক তাহা যদিও বিশ্ব-প্রকৃতির বুকে অফুরন্তভাবে ছড়াইয়অ রহিয়াছে, কিন্তু মোটামুটিভাবে তাহা উপার্জন সাপেক্ষ, মানুষের শ্রম-মেহনতের সাহায্যেই উহাকে ব্যবহারোপযোগী করিয়া তোলা আবশ্যক। উহার সহিত মেহনত যুক্ত না হইলে তাহা মানুষের কোন প্রয়োজনই পূরণ করিতে পারে না। উপরন্তু, মানুষের কেবল বাঁচিয়া থাকারই প্রয়োজন নয়, যেন-তেন প্রকারের শুধু জীবন ধারণ করাই মানুষের কাম্য নয়। এই উন্নত, সুসভ্য-সর্বোপরি বিশ্বের সেরা সৃষ্টি হিসেবে, উচ্চতর সংস্কৃতি-সম্পন্ন জাতি হিসাবে বাঁচিয়া থাকার জন্যওতাহার বহুবি উপাদান উপকরণ আবশ্যক। এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় উপাদনসমূহও ব্যবহারোপযোগী হইতে পারে স্বভাবজাত উপকরণের সহিত মানুসের শ্রম, বুদ্ধিমত্তা ও কর্মমুশলতার যোগ হইলে।
বস্তুত মানুষের প্রয়োজন পূরণের জন্য সম্পদ-উৎপাদন আবশ্যক। উৎপন্ন অর্থ-সম্পদ ওদ্রব্য-সামগ্রীর ভোগ-ব্যবহারের জন্য আবশ্যক সম্পদ বন্টনের। সম্পদ বন্টন প্রসংগেই পারস্পরিক বিনময় ব্যবস্থাও অপরিহার্যহইয়া পড়ে এবং সর্বশেশে জাগে লব্ধ ধন-সম্পদ ব্যয় করার প্রশ্ন।
অর্থশাস্ত্রের এই বিভিন্ন পর্যায় ও দিক সম্মুখে রাখিয়াই ইসলামের অর্থনীতির আলোচনা করিতে হইবে। এই আলোচনা হইতেদুইটি কথা সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত হইবে। প্রথম এই যে, অর্থনৈতিক সমস্যার ইসলামীসমাধান অতি স্বাভাবিক, সুবিচারমুলক ও সহজসাধ্য; আর দ্বিতীয় এই যে, মানুষের সর্ববিধ অর্থনৈতিক সমস্যার সুষ্ঠু ও নির্ভরযোগ্য সমাধান একমাত্র ইসলামই দিতে সক্ষম- অন্য কোন ব্যবস্থঅ নয়।