hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

বন-জঙ্গল

জন্তু-জানোয়ারের ন্যায় বন-জঙ্গলেরগাছ-পালা ও লতগা-গুল্ম হইতেনানা ভাবে অর্থোৎপাদন হওয়া সম্ভব। শুধু তাহাই নয়, ইহা মানব-জীবনে তথা মানব-সভ্যতার পক্ষে এক অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। যুগ-যুগান্তকালহইতে ইহা নানাভাবে মানব-সমাজের প্রয়োজন পূর্ণ করিয়া আসিতেছে।বন-জঙ্গল হইতে প্রভূত পরিমাণেজ্বালনী কাষ্ঠ সংগ্রহ করা যাইতেহ পারে। কাষ্ঠ হইতে প্রচুর উত্তাপ সৃষ্টি হইতে পারে বলিয়া শক্তি-সম্পদ হিসাবেও ইহারমূল্য যথেষ্ট। যে কয়লাভিন্নআধুনিক সভ্যতার প্রায় সকলকাজই আচল হইয়া পড়ে, তাহাও এই শক্ত কাঠেরই রূপান্তর।কুরআনে বলা হইয়াছে:

(আরবী)

কাঁচাসবুজবৃক্ষ হইতে তোমাদের জন্য আল্লাহ অগ্ন্যুৎপাদনের ব্যবস্থা করয়া দিয়াছেন। তাই তাহাই তোমরাজ্বালাইয়া থাক।

জ্বালানি কাষ্ঠ ছাড়াও বিপুল পরিমাণ শক্তকাঠ বন-জঙ্গলে পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র,দালান-কোঠার দরজা-জানালা ও কড়িকাঠ, রেল লাইনস্থাপন, নৌকা, পুল ইত্যাদিক নির্মাণ করা- প্রভৃতি অসংখ্য কাজে এই কাষ্ঠ ব্যবহার করা হয়।

কুরআনহাদীসে বন-সম্পদের অর্থনৈতিক মূল্যের বিশেষ উল্লেখ রহিয়াছে। নবী করীম (ﷺ) বলিয়াছেন, “আল্লাহর শপথ, রশি লইয়া জঙ্গলে গিয়া কাষ্ঠ আহরণ করা এবং নিজ কাঁধে বহন করিয়া আনিয়া বিক্রয় করিয়া অর্থলাভ করা অপরের সম্মুখের ভিক্ষা হস্ত প্রসারিত করা হইতে অধিক কউত্তম” (বুখারী শরীফ)। এতদ্ব্যতীত নানাবিধ ফল-মূল, শাকসব্জি এবংকফিও এই বন-সম্পদেরই অন্তর্ভুক্ত। কুরআন মজীদে এই দিকে লক্ষ্য করিয়াই বলা হইয়াছে:

(আরবী)

আকাশ হইতে আল্লাহ তা’আলা বৃষ্টিপাত করেন এবং উহার সাহায্যে বিবিধ প্রকার উদ্ভিদ, বৃক্ষলতা ও শাক-সব্জি উৎপাদন করেন। হে মানুষ, তোমরা ইহা নিজেরা খাও এবং তোমাদের জন্তু-জানোয়ারকেও খাইতে দাও।