hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

বায়ু, বিদ্যুৎ ও বৃষ্টি

বায়ু, বৃষ্টি ও বিদ্যুৎ মানুষের প্রয়োজনীয় সম্পদ উৎপাদনের কাজে অপরিহার্য। বায়ু এবং বৃষ্টি না হইলে প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন রক্ষা পাইতে পারে না। ইহাদের বাঁচিয়া থাকার জন্য অপরিহার্য খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর উৎপাদদদনের জন্যও ইহার আবশ্যকতা অনস্বীকার্য। কুরআন মজীদেএইজন্র স্পষ্ট ভাষায় উল্লিখিত হইয়াছে:

(আরবী)

এবং বায়ুর প্রবাহ ও আবর্তন এবং আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে আবদ্ধ ও নিয়মানুবর্তী মেঘমালা প্রভৃতিতে বুদ্ধিমান ও মননশীল জনগণের পক্ষে আল্লাহর অস্তিত্বের অনেক নিদর্শন এবং গবেষণার প্রভূত বিষয়বস্তু ও উপকরণ বর্তমান রহিয়াছে।

বিদ্যুৎও অনুরূপ একটি অতি প্রয়োজনীয় বস্তু- ইহা বর্তমান সভ্যতার পক্ষে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, সন্দেহ নাই। বিদ্যুৎ আবিষ্কৃত ও ব্যবহৃত না হইলে বর্তমানে সভ্যতা ও বিজ্ঞানের এই অদ্ভূত চরম উন্নতি উৎকর্ষ লাভ যে মোটেই সম্ভব হইত না, তাহা বলাই বাহুল্য। এইজন্য কুরআনের ভাষায়, বিদ্যুৎ মানুষ জাতির আশা ভরসার প্রধান কেন্দ্র এবং অপূর্ব সম্ভাবনার উৎসবিশেষ। ইহার সদ্ব্যবহারে মানুষের যে বিরাট কল্যাণের সম্ভাবনা নিহিত রহিয়াছে,কুরআন শরীফে তাহারও উল্লেখ করা হইয়াছে। পরন্তু এই বিদ্যুতের অপব্যবহারহইলেবা পাশবিক দৃষ্টিতে ইহার ব্যবহার করা হইলে যে বিশ্ব-মানবতার ধ্বংস সাধন হইতে পারে কুরআন মজীদে সেদিকেও ইংগিত রহিয়াছে। বলা হইয়াছে:

(আরবী)

তাঁহার নিদর্শনাবলীর মধ্যে ইহাও একটি যে, আল্লাহ তা’আলা তোমাদিগকে বিদ্যুৎ প্রদর্শন করেন ভয় ও আতংকের জিনিসরূপে এবং আশা ও আকাঙ্ক্ষার উৎসসরূপে এবং তিনি উর্ধ্বলোক হইতে পানি বর্ষণ করেন, পরে উহার সাহায্যেমৃত জমি সঞ্জীবিত করেন। বস্তুত ইহাতে আল্লাহ তা’আলার অস্তিত্বের নিদর্শন বর্তমান; চিন্তাশীল লোকদের জন্য গবেষণার বহু বিষয়ও ইহাতে রহিয়াছে।

প্রাকৃতিক উপাদানকে মানুষ আজ নানাভাবে ব্যবহার করে, তাহা হইতে নানাবিধ শক্তি আহরণ করিয়া অসংখ্য কাজে নিয়োগ করে। পানি ও আগুনের ব্যবহারেবাষ্প ও বিদ্যুৎ এবং ঝর্ণাধারা, তীব্র জলস্রোত ও বায়ু প্রবাহ হইতে বিরাট শক্তি উৎপন্ন হইয়া মানব-সভ্যতাকে আজ অপূর্ব সম্ভাবনাময় করিয়া তুলিয়াছে। সূর্যকিরণ, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, আণবিক শক্তি প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তি নানাদিকক দিয়া মানুষ জীবনসমাজকে বিপুলভাবে উন্নত করিয়াছে।