hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯০

বক্তিগত প্রয়োজনে অর্থব্যয়

ধন-সম্পদ ব্যয় করার সকল নিষিদ্ধ পথ উল্লেখ করার পর আল্লাত তা’আলা মানুষকে লক্ষ্য করিয়া বলিয়াছেন:

(আরবী)

এই দুনিয়ায় ও দ্রব্য সামগ্রীতে তোমার জন্য যে অংশ নির্দিষ্ট করা হইয়াছে তাহা তুমি ভুলিয়া যাইও না।

অর্থাৎ ‍ দুনিয়ায় জীবন যাপনের জন্য নিখিল মানুষের বুনিয়াদী প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী এই পৃথিবীতেই সংরক্ষিত হইয়াছে, তাহা আহরণ করিয়া-অর্জন করিয়া- ভোগ –ব্যবহার করা প্রত্যেকটি মানুষের কর্তব্য। তাহা ভুলিয়া গিয়া বৈরাগ্যবাদে দীক্ষিত হওয়া মাত্রই বাঞ্ছনীয় নয়।

ইসলামী অর্থনীতি ধনব্যয় সম্পর্কে সর্বপ্রথম দায়িত্ব দিয়াছে ব্যক্তির উপর- ব্যক্তির নিজের ও নিজের পরিবার-পরিজনের প্রয়োজন পূর্ণ করার কাজে ব্যয় করার আদেশ ব্যক্তিকে দেওয়া হইয়াছে। একজন সাহাবী নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলেন: আমার নিকট মুদ্রা আছে, আমি তাহা কি করিব? উত্তরে নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করিলেন:

(আরবী)

নিজের জন্য নিজের প্রয়োজন পূর্ণ করার কাজে- উহা ব্যয় কর।

অন্য একটি হাদীসে অর্থব্যয় প্রসংগে নবী করীম (ﷺ) বলিয়াছেন:

(আরবী)

অর্থব্যয়ের কাজ নিজ হইতে শুরু কর। অর্থাৎ প্রথমে নিজের জীবিকা সংস্থানের কাজ ইহা ব্যয় কর।

ইসলামী অর্থনীতি উপার্জিত ধন-সম্পদের উপর স্বয়ং উপার্জনকারীরই প্রথম অধিকার স্বীকার করিয়াছে। আত্মহত্যা করা, অনশন ধর্মঘট করা এবং ইচ্ছামূলকভাবে অনাহারে মৃত্যুবরণ করা হারাম হওয়ারই ইহাই অন্যতম প্রধান কারণ। অতঃপর নিজের পরিবারবর্গ- স্ত্রী-পুত্র, কন্যা ও ব্যক্তির সহিত একত্রে বসবাসকারী লোকদের জন্য অর্থব্যয় করিতে হইবে। নবী করীম (ﷺ) বলিয়াছেন: (আরবী)

তোমার নিজের জন্য ব্যয় করার পর তোমার পরিবারবর্গের যে সব লোক তোমার উপর নির্ভরশীল, তাহাদে জন্য ব্যয় করিবে।

পরের জন্য অর্থ ব্যয় কাজ পরিবারবর্গের জন্য ব্যয় করার দ্বারা শুরু করিবে। [ইমাম ইবনে হাজার ইহার অর্থ লিখিয়াছেন:

(আরবী)

তোমার পরিবারবর্গের মধ্য হইতে যাহারা তোমার সঙ্গে থঅকে ও যাহাদের খরচ বহন করা তোমার কর্তব্য, প্রথমে তাহাদের জন্য ব্যয় করিবে। ইহার পর অবশিষ্ট থাকিলে তাহা অন্যদের জন্য ব্যয় করিবে।