hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮৭

বিদেশ হইতে পণ্য ক্রয়ের সুদী লেনদেন

কিন্তু বর্তমান সময়ে ব্যবসায়ীগণ বৈদেশিক পণ্যের বাজারে উহার মূল্য আদায় করার পরিবর্তে সাধারণত তাহার নিজ দেশের বাজারে পণ্য পৌঁছার পর উহা খালাস করিয়া লওয়ার সময় মূল্য আদায় করিয়া থাকে। ফলে তাহাকে পণ্যের আসল মূল্য, ভাড়া ও অন্যান্য খরচ ব্যতীতও। পণ্য মূল্য বিলম্বে আদায় করার কারণে- এই মধ্যবর্তী সময়ের সুদ আদায় করিতে হয়। পণ্যের মোট মূল্যের উপরই এই সুদ ধার্য হয়। ব্যবসায়ীগণ ইহাকে অপরিহার্য উপায় বলিয়া মনে করে। পূর্বেই বলিয়াছি, আন্তর্জাতিক পণ্য ক্রয় ও আমদানী করার প্রথমোল্লিখিত নীতি গ্রহণ করিলে কিছুমাত্র সুদ আদায় করার দরকার হয় না। কিন্তু তাহারা ইহা ত্যাগ করিতে প্রস্তুত নয়। ইহার মূলে একটি কারণ রহিয়াছে।

প্রকৃতপক্ষে এই সদ ব্যবসায়ীকে নিজের তহবিল হইতে আদায় করিতে হয় না। পণ্যের আসল ক্রয়-মূল্যের উপর অন্যান্য খরচের সহিত এই সুদ ও চাপাইয়া দেওয়া হয় এবং মোট ব্যয়িত মূলধনকে ক্রয়-মূল্য হিসাবে ধরা হয়। অতঃপর ইহার উপর আরো অতিরিক্ত পরিমাণ ধার্য করিয়া তবে মুনাফা হাসিল করা হয়। এইরূপ বৈদেশিক বাণিজ্যের বর্তমান রীতিতে দেশের অপরিমেয় মূলধন সুদ বাবদ বিদেশে চলিয়া যায় এবং ইহা হয় একমাত্র ব্যবসায়ীর নিজ স্বার্থপর নীতির দৌলতে। কারণ এই মধ্যবর্তী সময়ে তাহার মূলন দেশী বাজারে মুনাফা লুন্ঠনের কাজে নিযুক্ত থাকে। এই টাকা যদি পণ্য ক্রয়ের জন্য চলিয়া যাইত, তবে সে এই সময়ের অর্জিত মুনাফা কিরূপে লাভ করিতে পারিত?

কেবল এই অবকাশটুকু লাভ ক রার জন্যই সাধারণত ব্যবসায়ীরা পণ্য মূল্য আদায় করিতে এতদূর বিলম্ব করে এবং উহার বিনিময়ে জনগণের নিকট হইতে আদায় করা অর্থ হইতে বিপুল পরিমাণ সুদ দিয়া থাকে। এই ব্যবসায়ীগণ ব্যক্তিগতভাবে ‍ মুনাফা লুটিবার জন্য জাতি ও জনগণের অর্থ সম্পদের কি বিরাট ক্ষতি সাধন করিতেছে তাহা প্রত্যেকেই বুঝিতে পারেন। মোট কথা সুদ না দিয়াও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়-বাণিজ্য সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করা যাইতে পারে এবং ইহার ফলে এক একটি দেশের বিপুল অর্থ বাঁচিয়া যাইতে পারে। অন্ততঃ ইসলামী রাষ্ট্র সুদ ব্যতীতই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করিতে একান্তই বাধ্য হইবে। ‘ইসলামী ব্যাংকের পরিকল্পনা’ প্রবন্ধে এ বিষয়ে বাস্তব দৃষ্টিতে আলোচনা করা হইয়াছে।