১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৭
পরিবহন ও যানবাহন
পণ্যদ্রব্যের আমদানি-রপ্তানির জন্য মানুষ আল্লাহ-প্রদত্ত বুদ্ধি ও কৌশলের সাহায্যে বিভিন্ন জন্তু-জানোয়ার ব্যবহার করিতে পারে, পারে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার উদ্ভাবনীর মাধ্যমে বিভিন্ন ভারবাহী যন্ত্র ও যানবাহন প্রস্তুত করিতে।
পণ্যদ্রব্য স্থানান্তরিত করার জন্য প্রধানত দুইটি পথই ব্যবহৃত হইয়া থাকে- জলপথ ও স্থলপথ।
জলপথে নৌকা ও জাহাজই হইতেছে প্রধানতম বাহন। কালামে পাকে বলা হইয়াছে:
(আরবী)
এবং নৌকা, জাহাজ মানুষের পক্ষে প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর দ্রব্যসামগ্রী লইয়া নদী-সমুদ্রে চলাচল করে।
বস্তুত ভারী পণ্য-দ্রব্যের আন্হর্জাতিক বাণিজ্য সমুদ্রগামী বিরাট বিরাট জাহাজ ব্যতীত সম্ভব নয়।
স্থলপথে আমদানি-রফতানির কাজ সাধারণত এক এক দেশের অভ্যন্তরীণ এলাকার মধ্যেই সম্পন্ন হইতে পারে। এই কাজে প্রাচীনকালে- যন্ত্র সভ্যতার পূর্বকাল পর্যন্ত- চতুষ্পদ জন্তুই অধিকতর ব্যবহৃত হইয়াছে।
(আরবী)
ঘোড়া, খচ্চর(গরু, উট ইত্যাদিও) পরিবহন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করার জন্যই সৃষ্টি করা হইয়াছে।
যদিও বর্তমান যুগে এই চতুষ্পদ জন্তুই একমাত্র যানবাহন নয়- কিন্তু তাহা সত্ত্বেও এই ঘোড়া আজিও প্রাচ্যদেশসমূহ গতির এবং পাশ্চাত্য দেশসমূহে শক্তির প্রতীক হইয়া আছে। ‘হর্স পাওয়ার’ (Horse Power) কথাটি বর্তমানে সব দেশেই প্রচলিত, ঘোড়া-খচ্চর-গরু-গাধা যানবাহন হিসাবে আজ পর্যন্তও সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয় নাই; বর্তমানেও তাহা যথেষ্ট ব্যবহৃত হইতেছে। বর্তমান সময়ে মোটর, ট্রাক, রেলগাড়ী প্রভৃতি বাষ্পচালিত যানবাহন এই কাজ অত্যন্ত সহজ করিয়া দিয়াছে। এইসব আধুনা-আবিষ্কৃত যানবাহনের সাহায্যে অধিক ভারী দ্রব্যাদি বিপুল পরিমাণে ও অতি অল্প সময়ে দূরবর্তী স্থানসমূহের মধ্যে আমদানী-রফতানি করা চলে। এক কথায় বর্তমান সভ্যতার রক্তচলাচল এইসব যানবাহন ব্যতীত মাত্রই সম্ভব নয়। এই জন্যই আল্লাহ তা’আলা বলিয়াছেন:
(আরবী)
এইসব যানবাহন তোমাদের দ্রব্য-সামগ্রী দূরবর্তী এমন সব শহর ও স্থান পর্যন্ত বহন করিয়া লইয়া যায়, যে পর্যন্ত তাহা বহন করিয়া নেওয়া তোমাদের পক্ষেবিশেষ কষ্টকর ব্যাপার ছিল; কিন্তু তোমাদের রব্ব বড়ই অনুগ্রহশীল ও দয়াময় (বলিয়াই তিনি এইসব যানবাহনের ব্যবস্থা করিয়া দিয়াছেন)।
মানুষের জীবন সুখী ও সমৃদ্ধিশালীকরিয়া তুলিবার জন্য আল্লাত তা’আলা প্রকৃতির রুদ্ধদ্বার উদারভাবে উন্মুক্ত করিয়া দিয়াছেন। জল ও স্থলের উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব স্থাপিত করিয়া মানুষ এখন অন্তরীক্ষের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়াছে। বায়ুকে করায়ত্ব করিয়া-উহার উপর বিজয় রথ চালাইয়া- দিগ দিগন্তকে একই কেন্দ্রবিন্দুর সহিত নিবিরভাবে সংযুক্ত করিয়া দিয়াছে। বস্তুত এই আকাশপথ –এই ব্যোমযানেই-পৃথিবীর দূর-দূরান্তরে অবস্থিত বিক্ষিপ্ত মানব সমাজকে পরস্পরের অতি নিকটবর্তী করিয়া দিয়াছে। এই কথাই বলা হইয়াছে কালামে পাকের নিম্নলিখিত আয়াতে:
(আরবী)
বায়ুকে মানুষের কল্যাণের জন্য নিয়ন্ত্রণাধীন করিয়া রাখিয়াছি। তাহা আল্লাহর প্রাকৃতিক নিয়মানুযায়ী খুবই হালকা ও নম্রবাবে প্রবাহিত হয়, যেখানেই উহা পৌঁছায়।
মাটি, পানি ও বায়ুকে আয়ত্তাধীন করিয়া মানুষ অগ্নিকেও কাজে প্রয়োগ করিয়াছে এবং আগুন ও পানির সম্মিলনে বাষ্প সৃষ্টি করিয়া এক বিরাট শক্তি (Power) লাভ করিয়াছে। ইহার দরুন এক দেশের উদ্বৃত্ত বা অপ্রয়োজনীয়পণ্য অন্য দেশে রফতানি করা সম্ভবপর হইতেছে। যানবাহনের এই উন্নত শক্তির সাহায্যে প্রত্যেক দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন পূরণ করা যেমন সহজ হইয়অছে, বিরাট আকারে অর্থকরী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার পথও অনুরূপভাবে সুগম হইয়া গিয়াছে। পৃথিবীর জাতিসমূহের এবং একই রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলসমূহের পারস্পরিক অর্থনৈতিক অসাম্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অভাব দূর করা ইহার সাহায্যে অতীব সহজসাধ্য হইয়া পড়িয়াছে।
পণ্যদ্রব্য স্থানান্তরিত করার জন্য প্রধানত দুইটি পথই ব্যবহৃত হইয়া থাকে- জলপথ ও স্থলপথ।
জলপথে নৌকা ও জাহাজই হইতেছে প্রধানতম বাহন। কালামে পাকে বলা হইয়াছে:
(আরবী)
এবং নৌকা, জাহাজ মানুষের পক্ষে প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর দ্রব্যসামগ্রী লইয়া নদী-সমুদ্রে চলাচল করে।
বস্তুত ভারী পণ্য-দ্রব্যের আন্হর্জাতিক বাণিজ্য সমুদ্রগামী বিরাট বিরাট জাহাজ ব্যতীত সম্ভব নয়।
স্থলপথে আমদানি-রফতানির কাজ সাধারণত এক এক দেশের অভ্যন্তরীণ এলাকার মধ্যেই সম্পন্ন হইতে পারে। এই কাজে প্রাচীনকালে- যন্ত্র সভ্যতার পূর্বকাল পর্যন্ত- চতুষ্পদ জন্তুই অধিকতর ব্যবহৃত হইয়াছে।
(আরবী)
ঘোড়া, খচ্চর(গরু, উট ইত্যাদিও) পরিবহন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করার জন্যই সৃষ্টি করা হইয়াছে।
যদিও বর্তমান যুগে এই চতুষ্পদ জন্তুই একমাত্র যানবাহন নয়- কিন্তু তাহা সত্ত্বেও এই ঘোড়া আজিও প্রাচ্যদেশসমূহ গতির এবং পাশ্চাত্য দেশসমূহে শক্তির প্রতীক হইয়া আছে। ‘হর্স পাওয়ার’ (Horse Power) কথাটি বর্তমানে সব দেশেই প্রচলিত, ঘোড়া-খচ্চর-গরু-গাধা যানবাহন হিসাবে আজ পর্যন্তও সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয় নাই; বর্তমানেও তাহা যথেষ্ট ব্যবহৃত হইতেছে। বর্তমান সময়ে মোটর, ট্রাক, রেলগাড়ী প্রভৃতি বাষ্পচালিত যানবাহন এই কাজ অত্যন্ত সহজ করিয়া দিয়াছে। এইসব আধুনা-আবিষ্কৃত যানবাহনের সাহায্যে অধিক ভারী দ্রব্যাদি বিপুল পরিমাণে ও অতি অল্প সময়ে দূরবর্তী স্থানসমূহের মধ্যে আমদানী-রফতানি করা চলে। এক কথায় বর্তমান সভ্যতার রক্তচলাচল এইসব যানবাহন ব্যতীত মাত্রই সম্ভব নয়। এই জন্যই আল্লাহ তা’আলা বলিয়াছেন:
(আরবী)
এইসব যানবাহন তোমাদের দ্রব্য-সামগ্রী দূরবর্তী এমন সব শহর ও স্থান পর্যন্ত বহন করিয়া লইয়া যায়, যে পর্যন্ত তাহা বহন করিয়া নেওয়া তোমাদের পক্ষেবিশেষ কষ্টকর ব্যাপার ছিল; কিন্তু তোমাদের রব্ব বড়ই অনুগ্রহশীল ও দয়াময় (বলিয়াই তিনি এইসব যানবাহনের ব্যবস্থা করিয়া দিয়াছেন)।
মানুষের জীবন সুখী ও সমৃদ্ধিশালীকরিয়া তুলিবার জন্য আল্লাত তা’আলা প্রকৃতির রুদ্ধদ্বার উদারভাবে উন্মুক্ত করিয়া দিয়াছেন। জল ও স্থলের উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব স্থাপিত করিয়া মানুষ এখন অন্তরীক্ষের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়াছে। বায়ুকে করায়ত্ব করিয়া-উহার উপর বিজয় রথ চালাইয়া- দিগ দিগন্তকে একই কেন্দ্রবিন্দুর সহিত নিবিরভাবে সংযুক্ত করিয়া দিয়াছে। বস্তুত এই আকাশপথ –এই ব্যোমযানেই-পৃথিবীর দূর-দূরান্তরে অবস্থিত বিক্ষিপ্ত মানব সমাজকে পরস্পরের অতি নিকটবর্তী করিয়া দিয়াছে। এই কথাই বলা হইয়াছে কালামে পাকের নিম্নলিখিত আয়াতে:
(আরবী)
বায়ুকে মানুষের কল্যাণের জন্য নিয়ন্ত্রণাধীন করিয়া রাখিয়াছি। তাহা আল্লাহর প্রাকৃতিক নিয়মানুযায়ী খুবই হালকা ও নম্রবাবে প্রবাহিত হয়, যেখানেই উহা পৌঁছায়।
মাটি, পানি ও বায়ুকে আয়ত্তাধীন করিয়া মানুষ অগ্নিকেও কাজে প্রয়োগ করিয়াছে এবং আগুন ও পানির সম্মিলনে বাষ্প সৃষ্টি করিয়া এক বিরাট শক্তি (Power) লাভ করিয়াছে। ইহার দরুন এক দেশের উদ্বৃত্ত বা অপ্রয়োজনীয়পণ্য অন্য দেশে রফতানি করা সম্ভবপর হইতেছে। যানবাহনের এই উন্নত শক্তির সাহায্যে প্রত্যেক দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন পূরণ করা যেমন সহজ হইয়অছে, বিরাট আকারে অর্থকরী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার পথও অনুরূপভাবে সুগম হইয়া গিয়াছে। পৃথিবীর জাতিসমূহের এবং একই রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলসমূহের পারস্পরিক অর্থনৈতিক অসাম্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অভাব দূর করা ইহার সাহায্যে অতীব সহজসাধ্য হইয়া পড়িয়াছে।