১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯২
সামাজিক প্রয়োজনে অর্থব্যয়- যাকাত
এইভাবে ব্যক্তির ধন-সম্পদ ব্যয় করার ক্ষেত্র অধিকার বিশাল ও বিস্তীর্ণ হইয়া পড়ে। বস্তুত ইহা ব্যক্তির উপর সমাজের অধিকার। এই অধিকার পূর্ণ করা ইসলামী সমাজের প্রত্যেকটি মানুষেরই কর্তব্য। এই কর্তব্য পালন করার জন্য প্রথমতঃ ব্যক্তির উপর ‘যাকাত’ ফরয করা হইয়াছে। যাকাত কেবল সঞ্চিত অর্থ সম্পদের উপরই আরোপ করা হয় নাই, ব্যক্তির নিকট যে পুঁজিই সঞ্চিত ও পুঞ্জীভূত হইয়া রহিয়াছে- তাহা পালিত জন্তু জানোয়ার হউক, জমি ক্ষেত-খামার হউক, ব্যবসায়-বাণিজ্যের পণ্য হউক, খনিজ দ্রব্য হউক কিংবা পুঞ্জীকৃত নগদ টাকা আর স্বর্ণ-রৌপ্য হউক- এই সব কিছুরই উপর যাকাত ফরয করা হইয়াছে। এই যাকাতের অর্থ ব্যয় করার যে ক্ষেত্র ইসলাম নির্দিষ্ট করিয়া দিয়াছে, দুনিয়ার কোন অর্থনীতিতেই তাহার তুলনা মেলে না।
মূলত ইসলামী অর্থনীতিতে যাকাতের স্থায়ী ব্যবস্থা পুঁজিবাদ ধ্বংস করার সর্বপ্রধান হাতিয়ার। কোন সমাজে এই ব্যবস্থা যথাযথরূপে কার্যকর হইলে তথায় পুঁজিবাদ কখনই মাথাচাড়া দিয়া উঠিতে পারে না। যাকাত ব্যক্তির শ্রম-মেহনত এবং সৎভাবে ও সদুপায়ে উপার্জিত স্তুপীকৃত ধন-সম্পদ অনিবার্যরূপে বিগলিত করিয়া সমাজের প্রতি রন্ধে-রন্ধে ও কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাইয়া দেয়- সূর্যতাপ পূর্বতশৃংগে অবস্থিত বরফস্তুপ গলাইয়া যেমন করিয়া প্লাবিত করে দিগ্-দিগন্তকে।
কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে: (আরবী)
নামায কায়েম কর এবং যাকাত আদায় কর।
বস্তুত যাকাত-আদায় করা দ্বীন ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত। তাই কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে:
(আরবী)
যদি তাহারা নামায কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে, তবে তাহারা তোমাদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত ভাই হইবে।
ইহার পরিষ্কার অর্থ এই যে, মুসলিম সমাজের অন্তর্ভুক্ত হইতে হইলে যাকাত আদায় করা কর্তব্য। অন্যথায় কেহ মুসলমানেই হইতে পারে না। [বলা বাহুল্য, যাহাদের উপর যাকাত ফরয হয়, যাকাত আদায় করার এই আদেশ কেবল তাহাদেরই জন্য।] আল্লাত তা’আলা যাকাতের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বের কথা এত বলিষ্ঠভাবে বলিয়া দিয়াছেন যে, ইহা সঠিকভাবে আদায না করিলে সে মুশরিক বা কাফির হইয়া যাইবে বলিয়া ঘোষণা করিয়াছেন:
(আরবী)
যে সব মুশরিক যাকাত দেয় না এবং পরকালকে অস্বীকার করে, তাহারা কাফির, তাহাদের জন্য কঠিন শাস্ত নির্দিষ্ট রহিয়াছে।
‘যাকাত’ শব্দের অভিধানিক অর্থ, পাক বা পবিত্র করা ও উৎকর্ষ সাধন করা, এই জন্য ইসলামী শরীয়াতের পরিভাষায় ‘যাকাত’ বলা হয় সেই আর্থিক ইবাদাতকে, যাহা আল্লাহ ও বান্দাহর হক আদায় করিয়া ধন-সম্পদ পবিত্র করার জন্য এবং নিজের নফস ও সমাজ পরিবেশকে সকল প্রকার কৃপণতা, স্বার্থপরতা, সংকীর্ণতা, কুটিলতা ও দারিদ্রের পংকিলতা হইতে পবিত্র করার উদ্দেশ্যে সমর্থ লোকদের উপর কর্তব্য বলিয়া দেওয়া হইয়াছে। ‘মুসলমান’ হইয়াও যাহারা যাকাত দেয় না পূর্বোক্ত আয়াতে তাহাদিগকেই মুশরিক বলা হইয়াছে।
বস্তুত যাকাত-বাবদ আদায়কৃত অর্থ যদি একটি নিয়ম-শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ভিত্তিতে ব্যয় করা যায়, তবে ইহা দ্বারা বিরাট জাতীয় কল্যাণকর কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। দেশের এয়াতীম, মিসকীন, অক্ষম, পংগু, অন্ধ, অসহায় সম্বলহীন বিধবা ইত্যাদি সকল মানুষের জন্যই স্থায়ী সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা চালু করা সম্ভবপর।
ইসলামী অর্থনীতিতে যাকাত যদিও (ধনী) ব্যক্তির প্রতি ফরয করা হইয়াছে, কিন্তু মূলত ইহা একটি সামাজিক ও জাতীয় কল্যাণ-ব্যবস্থা। কাজেই ব্রক্তিগতভাবে আদায় না করিয়া সামাজিক ও জাতীয় ও জাতীয় কল্যাণ-ব্যবস্থা। কাজেই ব্যক্তিগতভাবে আদায় না করিয়া সামাজিক ও জাতীয় প্রতিষ্ঠান- ইসলামী রাষ্ট্রের বায়তুল মালের’ –মাধ্যমেই আদায় করা ইসলামের নির্দেশ।[এই গ্রন্থের অর্থনৈতিক দৃষ্টিদে যাকাত দ্রষ্টব্য।]
মূলত ইসলামী অর্থনীতিতে যাকাতের স্থায়ী ব্যবস্থা পুঁজিবাদ ধ্বংস করার সর্বপ্রধান হাতিয়ার। কোন সমাজে এই ব্যবস্থা যথাযথরূপে কার্যকর হইলে তথায় পুঁজিবাদ কখনই মাথাচাড়া দিয়া উঠিতে পারে না। যাকাত ব্যক্তির শ্রম-মেহনত এবং সৎভাবে ও সদুপায়ে উপার্জিত স্তুপীকৃত ধন-সম্পদ অনিবার্যরূপে বিগলিত করিয়া সমাজের প্রতি রন্ধে-রন্ধে ও কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাইয়া দেয়- সূর্যতাপ পূর্বতশৃংগে অবস্থিত বরফস্তুপ গলাইয়া যেমন করিয়া প্লাবিত করে দিগ্-দিগন্তকে।
কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে: (আরবী)
নামায কায়েম কর এবং যাকাত আদায় কর।
বস্তুত যাকাত-আদায় করা দ্বীন ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত। তাই কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে:
(আরবী)
যদি তাহারা নামায কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে, তবে তাহারা তোমাদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত ভাই হইবে।
ইহার পরিষ্কার অর্থ এই যে, মুসলিম সমাজের অন্তর্ভুক্ত হইতে হইলে যাকাত আদায় করা কর্তব্য। অন্যথায় কেহ মুসলমানেই হইতে পারে না। [বলা বাহুল্য, যাহাদের উপর যাকাত ফরয হয়, যাকাত আদায় করার এই আদেশ কেবল তাহাদেরই জন্য।] আল্লাত তা’আলা যাকাতের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বের কথা এত বলিষ্ঠভাবে বলিয়া দিয়াছেন যে, ইহা সঠিকভাবে আদায না করিলে সে মুশরিক বা কাফির হইয়া যাইবে বলিয়া ঘোষণা করিয়াছেন:
(আরবী)
যে সব মুশরিক যাকাত দেয় না এবং পরকালকে অস্বীকার করে, তাহারা কাফির, তাহাদের জন্য কঠিন শাস্ত নির্দিষ্ট রহিয়াছে।
‘যাকাত’ শব্দের অভিধানিক অর্থ, পাক বা পবিত্র করা ও উৎকর্ষ সাধন করা, এই জন্য ইসলামী শরীয়াতের পরিভাষায় ‘যাকাত’ বলা হয় সেই আর্থিক ইবাদাতকে, যাহা আল্লাহ ও বান্দাহর হক আদায় করিয়া ধন-সম্পদ পবিত্র করার জন্য এবং নিজের নফস ও সমাজ পরিবেশকে সকল প্রকার কৃপণতা, স্বার্থপরতা, সংকীর্ণতা, কুটিলতা ও দারিদ্রের পংকিলতা হইতে পবিত্র করার উদ্দেশ্যে সমর্থ লোকদের উপর কর্তব্য বলিয়া দেওয়া হইয়াছে। ‘মুসলমান’ হইয়াও যাহারা যাকাত দেয় না পূর্বোক্ত আয়াতে তাহাদিগকেই মুশরিক বলা হইয়াছে।
বস্তুত যাকাত-বাবদ আদায়কৃত অর্থ যদি একটি নিয়ম-শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ভিত্তিতে ব্যয় করা যায়, তবে ইহা দ্বারা বিরাট জাতীয় কল্যাণকর কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। দেশের এয়াতীম, মিসকীন, অক্ষম, পংগু, অন্ধ, অসহায় সম্বলহীন বিধবা ইত্যাদি সকল মানুষের জন্যই স্থায়ী সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা চালু করা সম্ভবপর।
ইসলামী অর্থনীতিতে যাকাত যদিও (ধনী) ব্যক্তির প্রতি ফরয করা হইয়াছে, কিন্তু মূলত ইহা একটি সামাজিক ও জাতীয় কল্যাণ-ব্যবস্থা। কাজেই ব্রক্তিগতভাবে আদায় না করিয়া সামাজিক ও জাতীয় ও জাতীয় কল্যাণ-ব্যবস্থা। কাজেই ব্যক্তিগতভাবে আদায় না করিয়া সামাজিক ও জাতীয় প্রতিষ্ঠান- ইসলামী রাষ্ট্রের বায়তুল মালের’ –মাধ্যমেই আদায় করা ইসলামের নির্দেশ।[এই গ্রন্থের অর্থনৈতিক দৃষ্টিদে যাকাত দ্রষ্টব্য।]