১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭৯
আমদান ও রফতানী
উদাহরণস্বরূপ বলা যাইতে পারে, আমদানী অপেক্ষা রফতানী বেশী হইলে দেশীয় মূলধন বৃদ্ধি পায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার উদ্বৃত্তি সম্ভব হয়। কিন্তু ইহার বিপরীত, রফতানী অপেক্ষা আমদানী বেশী হইলে দেশের ধনভান্ডার শূণ্য হইয়া যায় এবং উহার বৈদেশিক মুদ্রা মারাত্মক রূপে হ্রাস পায়।
রফতানী বাণিজ্যে প্রত্যেকটি দেশ সাধারণত তিন প্রকারের পণ্য বিক্রয় করিতে পারে: (১) শিল্পপণ্য, (২) কাঁচামাল ও (৩) বিলাস দ্রব। কিন্তু কোন দেশ যদি কেবল কাঁচামালই বিক্রয় করে, তবে নিজদেশের কোন দিনই শিল্পের উন্নতি সম্ভব হয় না। তখন নিজ দেশের কাঁচামাল বিক্রয় করিয়া বেদেশিক পণ্য ক্রয় করিতে সে স্বতঃই বাধ্য হইবে। কার্পাস উৎপাদনকারী দেশ যদি উৎপন্ন কার্পাসের শতকরা ৯৫ ভাগ বৈদেশিক বাজারে বিক্রয় করিয়া দেশের প্রয়োজনীয বস্ত্র ক্রেতা দেশের নিকট হইতেই খরীদ করিতে থাকে, তাহা হইলে উহার পরিণাম সে দেশের পক্ষে মারাত্মক হইতে বাধ্য। ইহার অন্য অর্থ এই যে, একটি ভিন্ন দেশ কাঁচামাল খরীদ করিয়া বস্ত্র উৎপাদন করে, এবং সেই বস্ত্রই পুনরায় কার্পাস উৎপাদক দেশের নিকট বিক্রয় করিয়া মুনাফা লুটে। এইজন্য প্রত্যেকটি দেশের মৌলিক প্রয়োজনের দিকে দেশবাসীর লক্ষ্য থাকা এবং দেশের অপরিহার্য পণ্য নিজ দেশেই উৎপন্ন করার ব্যবস্থা করা একান্ত আবশ্যক। কিন্তু যতদিন পর্যন্ত নিজ দেশের যাবতীয় প্রয়োজনীয় পণ্য দেশের অভ্যন্তরে উৎপন্ন কর সম্ভব না হয়, ততদিন বৈদেশিক পণ্য আমদানীর ব্যাপারে এমন নিয়ন্ত্রণ চালু করা প্রয়োজন, যেন দেশী শিল্প-প্রসারের অুকূলে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। সে নিয়ন্ত্রণ নিম্নলিখিত ধারায় হইতে হইবে:
১. কাঁচামাল রফতানী নিয়ন্ত্রিত করিতে হইবে, যেন দেশী শিল্পোৎপাদনের প্রয়োজন অনুপাতে যথেষ্ট পরিমাণ কাঁচামাল সংগ্রহ করিতে কোনরূপ অসুবিধা না হয় নবেং তাহা যেন যথাসম্ভব কমমূল্যে সংগ্র করা যায়।
২. দেশের প্রয়োজনাতিরিক্ত শিল্পপণ্য বৈদেশিক বাজারে বিক্রয় করার সুবন্দোবস্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
৩. দেশের যাবতীয় শিল্পপণ্য যথেষ্ট পরিমাণে উৎপন্ন হওয়া আবশ্যক, যেন তাহা দ্বারা দেশবাসীর প্রয়োজন অনায়অসেই পূর্ণ হইতে পারে।
এইরূপ ব্যবস্থা না করা হইলে- (১) অন্যান্য দেশ এই দেশেরই কাঁচামাল ক্রয় করিয়া অপেক্ষাকৃত সস্তা দরে তাহাদের উৎপন্ন পণ্য এই দেশেই বিক্রয় করিবে। ফলে এই দেশে শিল্পোৎপাদনের অগ্রগতি প্রতি হত হইবে। (২) বৈদেশিক পণ্য নিজ দেশে এইভাবে বিক্রয় হইতে থাকিলে দেশের কারিগর ও শ্রমিক-মজুর বেকার সমস্যার সম্মুখীন হইবে এবং দেশী কাঁচামাল রফতানীরর বিনিময়ে বৈদেশিক পণ্য আমানদানীর ব্যবস্থা করা তখন অপরিহার্য হইয়া পড়িবে।
রফতানী বাণিজ্যে প্রত্যেকটি দেশ সাধারণত তিন প্রকারের পণ্য বিক্রয় করিতে পারে: (১) শিল্পপণ্য, (২) কাঁচামাল ও (৩) বিলাস দ্রব। কিন্তু কোন দেশ যদি কেবল কাঁচামালই বিক্রয় করে, তবে নিজদেশের কোন দিনই শিল্পের উন্নতি সম্ভব হয় না। তখন নিজ দেশের কাঁচামাল বিক্রয় করিয়া বেদেশিক পণ্য ক্রয় করিতে সে স্বতঃই বাধ্য হইবে। কার্পাস উৎপাদনকারী দেশ যদি উৎপন্ন কার্পাসের শতকরা ৯৫ ভাগ বৈদেশিক বাজারে বিক্রয় করিয়া দেশের প্রয়োজনীয বস্ত্র ক্রেতা দেশের নিকট হইতেই খরীদ করিতে থাকে, তাহা হইলে উহার পরিণাম সে দেশের পক্ষে মারাত্মক হইতে বাধ্য। ইহার অন্য অর্থ এই যে, একটি ভিন্ন দেশ কাঁচামাল খরীদ করিয়া বস্ত্র উৎপাদন করে, এবং সেই বস্ত্রই পুনরায় কার্পাস উৎপাদক দেশের নিকট বিক্রয় করিয়া মুনাফা লুটে। এইজন্য প্রত্যেকটি দেশের মৌলিক প্রয়োজনের দিকে দেশবাসীর লক্ষ্য থাকা এবং দেশের অপরিহার্য পণ্য নিজ দেশেই উৎপন্ন করার ব্যবস্থা করা একান্ত আবশ্যক। কিন্তু যতদিন পর্যন্ত নিজ দেশের যাবতীয় প্রয়োজনীয় পণ্য দেশের অভ্যন্তরে উৎপন্ন কর সম্ভব না হয়, ততদিন বৈদেশিক পণ্য আমদানীর ব্যাপারে এমন নিয়ন্ত্রণ চালু করা প্রয়োজন, যেন দেশী শিল্প-প্রসারের অুকূলে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। সে নিয়ন্ত্রণ নিম্নলিখিত ধারায় হইতে হইবে:
১. কাঁচামাল রফতানী নিয়ন্ত্রিত করিতে হইবে, যেন দেশী শিল্পোৎপাদনের প্রয়োজন অনুপাতে যথেষ্ট পরিমাণ কাঁচামাল সংগ্রহ করিতে কোনরূপ অসুবিধা না হয় নবেং তাহা যেন যথাসম্ভব কমমূল্যে সংগ্র করা যায়।
২. দেশের প্রয়োজনাতিরিক্ত শিল্পপণ্য বৈদেশিক বাজারে বিক্রয় করার সুবন্দোবস্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
৩. দেশের যাবতীয় শিল্পপণ্য যথেষ্ট পরিমাণে উৎপন্ন হওয়া আবশ্যক, যেন তাহা দ্বারা দেশবাসীর প্রয়োজন অনায়অসেই পূর্ণ হইতে পারে।
এইরূপ ব্যবস্থা না করা হইলে- (১) অন্যান্য দেশ এই দেশেরই কাঁচামাল ক্রয় করিয়া অপেক্ষাকৃত সস্তা দরে তাহাদের উৎপন্ন পণ্য এই দেশেই বিক্রয় করিবে। ফলে এই দেশে শিল্পোৎপাদনের অগ্রগতি প্রতি হত হইবে। (২) বৈদেশিক পণ্য নিজ দেশে এইভাবে বিক্রয় হইতে থাকিলে দেশের কারিগর ও শ্রমিক-মজুর বেকার সমস্যার সম্মুখীন হইবে এবং দেশী কাঁচামাল রফতানীরর বিনিময়ে বৈদেশিক পণ্য আমানদানীর ব্যবস্থা করা তখন অপরিহার্য হইয়া পড়িবে।