hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫

প্রাকৃতিক উপাদান

মানুষ প্রাকৃতিক জীবসমূহের অন্যতম। মানবদেহ যেসব মৌলিক উপাদানের সমন্বয়ে সৃষ্টি করা হইয়াছে, খাদ্য ‍ ও পানীয়ের মাধ্যমে তাহাই দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করার উপরই মানুষের দৈহিক-জীবন একান্তভাবে নির্ভর করে। এই উপাদানসমূহ আল্লাহ তা’আলা প্রকৃতির বুকে সৃষ্টি করিয়া রাখিয়াছেন। মানুষের বস্তুতই যে সব দ্রব্য-সামগ্রীর প্রয়োজন, তাহা সবকিচু প্রকৃতিরবুকে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হইয়া রহিয়াছে। আকাশ, পৃথিবী,বায়ু, পানি,চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, প্রভৃতি সবকিছুই মানুষের জৈবিক প্রয়োজন পূর্ণ করার আয়োজন সতত কর্মনিরত হইয়া আছে। আল্লাহ তা’আলা বলিয়াছেন:

(আরবী)

পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহাসবই আল্লাহ তা’আলা- হে মানুষ, তোমাদেরইকল্যাণ বা প্রয়োজন পূরণ করার জন্য সৃষ্টি করিয়াছেন।

বিশ্ব-প্রকৃতির প্রত্যেকটি অণূ-পরমাণূ, প্রত্যেকটি পদার্থ বিশেষকরিয়া সূর্য এবংচন্দ্রকে, উভয়ের আবর্তনকে- এক স্থায়ী নিয়মের শৃঙ্কলে আবদ্ধ করিয়া রাখা হইয়াছে। বলা হইয়াছে:

(আরবী)

এবং তোমাদের জন্য সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়ন্ত্রিত ও অভিন্ন নিয়ামনুবর্তী বানানো হইয়াছে।

এই জন্যই প্রকৃতির সকল উপাদান মানুষেরই জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী হিসাবে সৃষ্টি করা হইয়াছে। কুরআনের ঘোষণা:

(আরবী)

দুনিয়অর এই সব দ্রব্য-সামগ্রী দুনিয়ার জীবন যাপনের উপাদান ছাড়া আরকিছুই নয়।

প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী কেবল মানুষেরই নয়- সকল প্রকার জীবজন্তুরই জৈবিকপ্রয়োজন পূরণেরজাগতিক ব্যবস্থা করারদায়িত্ব স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাইগ্রহণ করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন:

(আরবী)

পৃথিবীরসকল জীবের রিযিক-জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান-পরিবেশন করার দায়িত্ব আল্লাহ তা’আলার।

অর্থাৎ বিশ্ব-প্রকৃতির সকল প্রকার জীবন-জন্তুও বস্তব্যবহার করা, যাবতীয কাজ সম্পাদন করা এবং প্রয়োজনীয় উপাদান লাভ করার জন্য তাহা প্রয়োগ করামানুষের কর্তব্য। কারণ মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা ইহাতেই নিহিত রহিয়াছে। ইহার প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উৎপাদন না করা আল্লাহর উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত;’ তাহা বৈরাগ্যবাদ, অতএব ইসলামে তাহা শুধু পরিত্যজ্যই নয়: প্রকৃতপক্ষে তাহা অপরাধজনকও নিঃসন্দেহে।

(আরবী)

আল্লাহ তা’আলা মানুষের জীবনকে সুন্দর, সমৃদ্ধ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করিয়া তোলার জন্য যেসব উপাদান ওদ্রব্য-সামগ্রী সৃষ্টি করিয়াছেন এবং এখানে যেসব পবিত্র ও উৎকৃষ্ট খাদ্য-দ্রব্য রহিয়াছে, সেসবকে হারাম ও নিষিদ্ধ করিয়া দিতে পারে কে?

বস্তুত, এই সকল দ্রব্য-সামগ্রী ও উপায়-উপাদানকে হারাম ও নিষিদ্ধ মনে করার প্রবণতাকেই বলা হয় বৈরাগ্যবাদ। এবং

(আরবী)

বৈরাগ্যবাদ তাহাদের নিজেদেরই মনগড়া, আমি আল্লাহ তাহাদিগকে এইরূপ করার কোন নির্দেশ দানকরি নাই।