১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭
মানব জীবনে অর্থনীতির গুরুত্ব
অর্থনীতির পূর্বোদ্ধৃত সংজ্ঞা হইতে একথা পরিস্ফুট হইয়াছে যে, ইহা মানব-জীবনের অসংখ্য দিক ও বিভাগের মধ্যে অন্যতম। উপরন্তুইহা মানুষের জীবন-যাত্রা নির্বাহের মৌলিক প্রয়োজন সম্পর্কে আলোচনা করে বলিয়া ইহার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। তাই ইহাকে মানবজীবনের সমস্যা সমষ্টির মধ্যে একটি অংশ- অবশ্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ অংশ- নিঃসন্দেহে মানিয়া লইতে হয়। কিন্তু ইহাকে যখন জীবনের সকলসমস্যা- সমস্ত জটিলতার একমাত্র মূল উৎস মনে করিয়া উহারই উপর সমস্ত গুরুত্ব আরোপ করা হয় এবং উহার ভিত্তিতে অন্যান্য ‘সকল সমস্যার সমাধান করার ব্যর্থ চেষ্টায় মনোনিবেশকরা হয়, তখনি মানব-সমাজে সর্বাত্মক ভাঙন ও বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়া অবশ্যম্ভাবী। কাজেই যাহারা মনে করেন, সকল ক্ষেত্রে সকল সমস্যারই মূলে রহিয়াছে অর্থব্যবস্থা, অর্থব্যবস্থাই সমগ্র জীবনকে নিয়ন্ত্রিত করে’-তাহাদের উচ্ছ্বাসিত ভাবাবেগ মানব-সমাজে একটা ক্ষণিক আলোনের সৃষ্টি করে বটে; কিন্তু তাহা কখনও প্রকৃত তথ্য ও সত্যিকার সমাধান পথের সন্ধান আনিয়া দেয় না।
প্রথমতঃ বর্তমান যুগের পরিস্থিতিপর্যবেক্ষণ করিলেই আমরা এই কথার সত্যতা নিঃসন্দেহে বুঝিতে পারি। আমরা দেখিতেছিঃ বর্তমান সময় শিক্ষিত সমাজে অর্থনীতি সর্ববিধজ্ঞান-বিজ্ঞানের উপর সর্বাধিকগুরুত্ব লাভ করিয়াছে। এ যুগের মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞানেরউপর সর্বাধিক গুরুত্ব লাভ করিয়াছে। এ যুগের মানুসের জ্ঞান-চর্চার ধারা, বিন্তার গতি ও ঝোক প্রবণতা লক্ষ্য করিলে পরিস্কার মনে হয়- ইহাদের দৃষ্টিতে অর্থনীতি অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর কিছুই নাই। অথচ পৃথিবীর ইতিহাসে ইহার এতখানি গুরুত্ব বোধ হয আর কোনদিই লাভ করিতে পারে নাই। ইতিহাসের একটা গতিধারায় এই ব্যতিক্রমের মূলে কতকগুলি কারণ রহিয়াছে, তাহা অস্বীকার করিবার উপায় নাই। বস্তুত আজিকার সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক দিক দিয়া এক চরম সংকটের সম্মুখীন। দারিদ্র, অবাব-অনটন এবং দুঃসহ জঠরজ্বালা আজিকার মানুষকে জর্জরিত, লাঞ্ছিত ও পর্যদুস্ত করিয়া দিয়াছে। নির্লিপ্ত শান্তিতে জীবন যাপন করা তো দূরের কথা, দুবেলা পেট ভর্তি করিয়া খাদ্য লাভ করাও আজ দুঃসাধ্য হইয়া পড়িয়াছে। এহেন অর্থনৈতিক সংকটই এ যুগের চিন্তাশীল মানুষকে চিন্তাভারাক্রান্ত ও ভারসাম্যহীন করিয়া তুলিয়াছে এবং তাহাদিগকে এই সমস্যার সমাধান পথের সন্ধানার্যে সকল শক্তি ও প্রতিভা একান্তভাবে নিযুক্তকরিতে বাধ্য করিয়াছে।
দ্বিতীয়তঃ বর্তমান সমাজের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব-সামগ্রীর উৎপাদন, সংগ্রহ ও উপার্জনের পন্থা প্রতিনিয়ত জটলতর হইয়া পড়িতেছে। জীবিকার্জনের উপায় উত্তরোত্তর সংকটপূর্ণ ও অধিকতর কষ্টসাধ্য হইয়া দেখা দিতেছে। আলঅ-আলোচনা ও গ্রন্থ-প্রণয়ন বর্তমান সময় এত প্রবল আকার ধারণ করিয়াছে যে, অতীত ইতিহাসে ইহারেকান দৃষ্টান্তই খুঁজিয়া পাওয়া যায় না এবং উহার ফলে মানব জীবনের অন্যান্য যাবতীয সমস্যা উহার সম্মুখে একেবারে ম্লান হইয়া গিয়াছে। অর্থনৈতিক জটিলতা মানুষের সকল শক্তি ও প্রতিভাকে গভীরভাবে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিয়াছে।
কিন্তু এতদসত্ত্বেও এইরূপ অস্বাভাবিক ও অভূতপূর্ব গুরুত্ব আরোপ করার পরও মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যার কিছুমাত্র সমাধান আজ পর্যন্ত হইতে পারে নাই- এ কথা তিক্ত হইলেও সন্দেহাতীত সত্য। বস্তুত এই সমস্যা আজিও ঠিক ততখানিই অসমাধ্য হইয়া রহিয়াছে, যতখানি ছিল ইহার প্রথম পর্যায়ে। আধুনিক যুগের অর্থনীতিবিদদের গম্ভীর ও জটিলতর পরিবাষা, শাস্ত্রীয় বিতর্ক ও আলোচনা এবং গভীর পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুশীলন অর্থনীতিকে একটি আধুনিক বিজ্ঞানের পর্যায়ে উন্নীত করিয়াছে একথা ঠিক; কিন্তু তাহা সত্ত্বেও মানুষের নিত্যনৈমিত্তিক অর্থ-সমস্যার কোন সমাধানই হয় নাই, ইহাও অনস্বীকার্য।
প্রথমতঃ বর্তমান যুগের পরিস্থিতিপর্যবেক্ষণ করিলেই আমরা এই কথার সত্যতা নিঃসন্দেহে বুঝিতে পারি। আমরা দেখিতেছিঃ বর্তমান সময় শিক্ষিত সমাজে অর্থনীতি সর্ববিধজ্ঞান-বিজ্ঞানের উপর সর্বাধিকগুরুত্ব লাভ করিয়াছে। এ যুগের মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞানেরউপর সর্বাধিক গুরুত্ব লাভ করিয়াছে। এ যুগের মানুসের জ্ঞান-চর্চার ধারা, বিন্তার গতি ও ঝোক প্রবণতা লক্ষ্য করিলে পরিস্কার মনে হয়- ইহাদের দৃষ্টিতে অর্থনীতি অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর কিছুই নাই। অথচ পৃথিবীর ইতিহাসে ইহার এতখানি গুরুত্ব বোধ হয আর কোনদিই লাভ করিতে পারে নাই। ইতিহাসের একটা গতিধারায় এই ব্যতিক্রমের মূলে কতকগুলি কারণ রহিয়াছে, তাহা অস্বীকার করিবার উপায় নাই। বস্তুত আজিকার সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক দিক দিয়া এক চরম সংকটের সম্মুখীন। দারিদ্র, অবাব-অনটন এবং দুঃসহ জঠরজ্বালা আজিকার মানুষকে জর্জরিত, লাঞ্ছিত ও পর্যদুস্ত করিয়া দিয়াছে। নির্লিপ্ত শান্তিতে জীবন যাপন করা তো দূরের কথা, দুবেলা পেট ভর্তি করিয়া খাদ্য লাভ করাও আজ দুঃসাধ্য হইয়া পড়িয়াছে। এহেন অর্থনৈতিক সংকটই এ যুগের চিন্তাশীল মানুষকে চিন্তাভারাক্রান্ত ও ভারসাম্যহীন করিয়া তুলিয়াছে এবং তাহাদিগকে এই সমস্যার সমাধান পথের সন্ধানার্যে সকল শক্তি ও প্রতিভা একান্তভাবে নিযুক্তকরিতে বাধ্য করিয়াছে।
দ্বিতীয়তঃ বর্তমান সমাজের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব-সামগ্রীর উৎপাদন, সংগ্রহ ও উপার্জনের পন্থা প্রতিনিয়ত জটলতর হইয়া পড়িতেছে। জীবিকার্জনের উপায় উত্তরোত্তর সংকটপূর্ণ ও অধিকতর কষ্টসাধ্য হইয়া দেখা দিতেছে। আলঅ-আলোচনা ও গ্রন্থ-প্রণয়ন বর্তমান সময় এত প্রবল আকার ধারণ করিয়াছে যে, অতীত ইতিহাসে ইহারেকান দৃষ্টান্তই খুঁজিয়া পাওয়া যায় না এবং উহার ফলে মানব জীবনের অন্যান্য যাবতীয সমস্যা উহার সম্মুখে একেবারে ম্লান হইয়া গিয়াছে। অর্থনৈতিক জটিলতা মানুষের সকল শক্তি ও প্রতিভাকে গভীরভাবে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিয়াছে।
কিন্তু এতদসত্ত্বেও এইরূপ অস্বাভাবিক ও অভূতপূর্ব গুরুত্ব আরোপ করার পরও মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যার কিছুমাত্র সমাধান আজ পর্যন্ত হইতে পারে নাই- এ কথা তিক্ত হইলেও সন্দেহাতীত সত্য। বস্তুত এই সমস্যা আজিও ঠিক ততখানিই অসমাধ্য হইয়া রহিয়াছে, যতখানি ছিল ইহার প্রথম পর্যায়ে। আধুনিক যুগের অর্থনীতিবিদদের গম্ভীর ও জটিলতর পরিবাষা, শাস্ত্রীয় বিতর্ক ও আলোচনা এবং গভীর পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুশীলন অর্থনীতিকে একটি আধুনিক বিজ্ঞানের পর্যায়ে উন্নীত করিয়াছে একথা ঠিক; কিন্তু তাহা সত্ত্বেও মানুষের নিত্যনৈমিত্তিক অর্থ-সমস্যার কোন সমাধানই হয় নাই, ইহাও অনস্বীকার্য।