hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮২

মুদ্রার গুরুত্ব

নবী করীম (ﷺ)-এর অর্থনৈতিক কার্যক্রক গভীরভাবে পর্যালোচনা করিলে মনে হয়, তিনি পণ্যদ্রব্যের পারস্পরিক বিনিময়ে পরিবর্তে মুদ্রার মাধ্যমে বিনিময় কার্য সম্পাদনের প্রথা চালু করিবার পক্ষপাতী ছিলেন। ইসলামী অর্থনীতি এবং শরীয়াতী বিধানে যাকাত, দেন-মহর প্রভৃতিক যাহা কিছুর আদেশ করা হইয়াছে, তাহা পণ্যের পরিবরর্তে মুদ্রা দ্বারাই আদায় করা হয়। খারাজ, জিজিয়া ও শুল্ক ইত্যাদিরও মুদ্রায় আদায় করা ভিন্ন উপায় নাই। এতদ্ব্যতীত মজুরী, পারস্পরিক ব্যবসায় কিংবা একজনের মূলথনে অপরের ব্যবসায় পরিচালনাও ইহারই সাহায্যে সম্ভব। ইসলামী অর্থনীতিতে মুদ্রার গুরুত্ব ইহা হইতে অনুধাবন করা যায়।

এ কথা বলা নিষ্প্রয়োজন যে, এই মুদ্রা প্রস্তুত করা, উহার মূল্য নির্ধারণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উহার প্রবর্তন করার অধিকার একমাত্র ইসলামী রাষ্ট্রেরই রহিয়াছে। রাষ্ট্রীয় সনদ ব্যতীত কোন মুদ্রাই জনগণের মধ্যে চালু এবং পণ্য বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হইতে পারে না।

উপরন্তু প্রয়োজন অনুভূত হইলে ধাতব মুদ্রার পরিবর্তে কাগজের নোটও ব্যবহার করা যাইতে পারে। হযরত উমর ফারূক (রা) প্রয়োজন দৃষ্টে চর্মনির্মিত ‘নোট’ ব্যবহার করিয়াছিলেন।[আলকাত্তানী: কিতাবুল তারাতীবুল ইদারিয়া, ১ম খণ্ড]

ইসলামের প্রথম অধ্যায়ে নোটের পরিবর্তে আর একটি জিনিস ববহার করা হইত। কোন ব্যক্তি বহুদূর পথে ভ্রমণোদ্দেশ্যে যাত্রা করিলে সে স্বর্ণ-রৌপ্যের ন্যায় ভারী মুদ্রা সঙ্গে না নিয়া তাহা হইতে অত্যধিক মূল্যে হীরা-জহরত খরীদ করিয়া লইয়া যাইত এবং লক্ষ্যস্থলে পৌঁছিয়া তাহা বিক্রয় করিয়া সেই দেশের প্রচলিত নগদ মুদ্রা লাভ করিত। [জর্জি জায়দান: তারীকুত তামাদ্দুনিল ইসলামী ৫ম খণ্ড]

বর্তমান কালের লোক ব্যাংকের নোট বা চেক নিয়া অনুরূপ সুবিধা লাভ করিয়া থাকে।