hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮০

রেশনিং প্রথা

উপরে বলা হয়েছে, ইসলামী অর্থনীতি দেশবাসীকে প্রয়োজনীয় পণ্য দ্র্রব্যের স্বাধীনতা ও অবাধ ক্রয়-বিক্রয় করার অধিকার দিয়াছে। বিশেষ কোন কারণ- কোন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির উদ্ভব না হইলে এই অধিকারে হস্তক্ষেপ করা ইসলামী অর্থনীতির আদর্শসম্মত নয়। কিন্তু বাস্তবিকই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির উদ্ভব হইলে এবং অবাধ ক্রয়-বিক্রয় করা অপরিহার্য বোধ হইলে তাহা নিশ্চয় করিতে হইবে। অস্বাভাবিত পরিস্থিতির পর্যায়ে দুর্ভিক্ষ, সর্বাত্মক প্লাবন ও যুদ্ধবিগ্রহই বিশেষভাবে উল্লেখ্য। ইহার কোন একটির দরুন জরুরী অবস্থার সৃষ্টি হইলে ইসলামী রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কিছুমাত্র পশ্চাদপদ হইবে না। ইসলামী রাষ্ট্র তখন গোটা অর্থনীতির উপর পূর্ণ কন্ট্রোল প্রবর্তন করিতে কিছুমাত্র দ্বিধা করিবে না। বিশেষ করিয়া খাদ্যদ্রব ও মানুষের জীবন-যাত্রা নির্বাহের পক্ষে অপরিহার্য অন্যান্য দ্রব্য কন্ট্রোল করিবে এবং রেশনিং ব্যবস্থা চালু করিবে। নবী করীম (ﷺ)-এর সময় তাঁহার প্রেরিত এক সৈন্যবাহিনীতে খাদ্যাভাব দেখা দেওয়ায় সেনাধ্যক্ষ হযরত আবূ উবাইদাহ (রা) সৈনিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থার প্রবর্তন করিয়াছিলেন। অনুরূপ একটি বাহিনী সমুদ্রোপকূলে প্রেরিত হইয়াছিল হযরত জাবির ইব্‌নে আবদুল্লাহ (রা)-এর নেতৃত্বে। পথিমধ্যে ইহাদরে খাদ্যদ্রব্যের যে খাদ্যদ্রব্য অবশিষ্ট ছিল, তাহা একস্থানে স্তূপীকৃত করিবার জন্য সেনাপতি নির্দেশ দিয়াছিলেন, এবং তাহা দৈনিক নির্দিষ্ট কোন পরিমাণ অনুযায়ী সৈনিকদের মধ্যে বন্টন করার ব্যবস্থা করিয়াছিলেন। (বুখারী)

স্বয়ং নবী করীম (ﷺ)-এর জীবনেও অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটিয়াছিল এবং তিনিও চৌদ্দশত লোকের নিকট অবশিষ্ট খাদ্যদ্রব্য একত্রিত করিয়া উহা সকলের মধ্যে নিয়মিতরূপে বন্টন করিয়াছিলেন। (মুসলিম শরীফ)

হযরত উমর ফারূক (রা)-এর খিলাফতের সময় (১৮হিঃ) মদীনায় একবার ভীষণ ‍ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়াছিল। তখন বহু পরিশ্রম ও চেষ্টা-সাধনার পর চতুর্দিক হইতে খাদ্যশস্য সংগহ করা হইয়াছিল এবং তাহা প্রত্যেকের প্রয়োজন অনুসারে বন্টন করার জন্য রেশনকার্ড ইচ্যু করা হইয়াছিল।