hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৫

যন্ত্র-শিল্পের সমস্যা ও উহার সমাধান

বর্তমান যন্ত্র-সভ্যতা মানুষের জীবনে যে বিরাট ও জটিল সমস্যার সৃষ্টি করিয়াছে, সংক্ষেপে বলিতে গেলে তাহা এই যে, ইহার দরুন একদিকে গার্হস্থ্য ও ক্ষুদ্রায়তন শিল্পোৎপাদন ধ্বংস হইয়া পড়িয়াছে। অপরদিকে কারখানায় নিযুক্ত শ্রমিকদের জীবন শোষণমূলক শ্রমনীতির আঘাতে জর্জরিত হইয়া উঠিয়াছে। শ্রমিকদের দৈনিক কমপক্ষে আটঘন্টা করিয়া হাড়-ভাঙ্গা পরিশ্রম করিতে বাধ্যকরা হইতেছে; কিন্তু তাহাদের এত কমপরিমাণে মজুরী দেওয়া হইতেছে যে, তাহাদ্বারা তাহাদের নিম্নতম মৌলিক প্রয়অজনও কোনক্রমে পূর্ণ হইতে পারে না।

এই সমস্যার আসু সমাধান অপরিহার্য। বিশেষতঃ এক একটি দেশকে যখন নূতনভাবে শিল্পায়িত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয, তখন পূর্ব হইতেই এই সমস্যার সমাধান সম্পর্কে ধারণা লইয়া অগ্রসর হওয়া একান্তই বাঞ্ছনীয়। আমার মতে বৃহদায়তন যান্ত্রিক উৎপাদনের উল্লিখিত সমস্যার প্রাথমিক সমাধান একটি উপায়ে হইতে পারে।

প্রথম এই যে, শিল্পায়নের ফলে দেশের কত লোকের জীবন ও জীবিকা বিদপগ্রস্ত হইতেছে, সেদিকে সরকারকে তীব্র দৃষ্টি রাখিতে হইবে। শিল্পপতিকে কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া গেলেও দেশের কোটি কোটি লোককে জীবিকা হইতে বঞ্চিত করিয়া শুধু তাহারই খরিদ্দারে পরিণত করার কোনই অধিকার দেওয়া যাইতে পারে না। তাউ আইনের সাহায্যে জীবিকা বঞ্চিত সমস্ত লোককে কারখানার কার্যে নিযুক্ত করার জন্য কারখানা মালিককে বাধ্য করিতে হইবে। আমার মতে কাজ সুষ্ঠূরূপে সম্পন্ন হওয়অর জন্য বর্তমান কার্য সময় দৈনিক ৮ ঘন্টা হইতে কমাইয়অ মাত্র ৪ ঘন্টা নির্দিষ্ট করিয়া দেওয়া আবশ্যক। যে কারখানায় এক লক্ষ্য মজুর দৈনিক আট ঘন্টা করিয়া কাজ করে, দৈনিক চার ঘন্টা কার্যের সময় নির্দিষ্ট করিয়া দেওয়া হইলে সেখানে দুই লক্ষ মজুর কাজ করিবার সুযোগ পাইবে। ইহার ফলে প্রত্যেক কারখানায় দিগুণ মজুরের প্রয়োজন হওয়ায় বেকার সমস্যা অনেকখানি সমাধান হইয়া যাইবে, মজুরদের কার্য সময় কম হওয়ায় তাহাদের স্বাস্থ্য বর্তমানের ন্যায় নষ্ট হইব না এবং শ্রমিকদের নিম্নতম প্রয়োজন পূরণ ভিত্তিক মজুরী দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হইলে পুঁজি মালিকের নিকট হইতে জাতীয় অর্থ বিস্তারলাভ করিয়অ প্রকৃত অভাবী ও প্রয়োনশীল লোকদের হাতে পৌঁছিতে শুরু করিবে।

বস্তুত, এইরূপ ব্যবস্থা হইলে তাহা দ্বারা শুধু জনগণ ও মজুরগণই উপকৃত হইবে না, তাহার ফলে কারখানা মালিক ও গোটা মানবতাই বিশেষভাবে উপকৃত হইবে এবং বর্তমান সমস্যাসঙ্কুল পৃথিবীর অসংখ্য প্রকার জটিলতা ও অর্থনৈতিক সমস্যারও স্থায়ী সমাধান হইবে, তাহাতে সন্দেহ নাই।