১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯০
পণ্য বিনিময়ে (Barter System)
বর্তমান পৃথিবীর আন্তর্জাতিক শোষণ-লুণ্ঠন হইতে আত্মরক্ষা করার অন্যতম উপায় হইতেছে পণ্যের বিনিময়ে পণ্য গ্রহণ করা। ইহার পরও যদি কোন দেশের নিকট কিছু প্রাপ্য থাকিয়া যায়, তবে উহা সেই মূল্য বাবদ স্বর্ণ গ্রহণ করিতে হইবে। কিন্তু বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পণ্য বিনিমরে এই কাজ সুষ্ঠুরূপে আঞ্জাম দেওয়ার জন্য কয়েকটি দেশের পরস্পর চুক্তিবদ্ধ (Clearing Agreement) হিইয়া একটি ব্লক গঠন করিয়া লওয়া সর্বাপেক্ষা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। এই রাষ্ট্রে জোটের অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেকটি দেশ নিজ নিজ রফতানীযোগ্য পণ্য অন্য দেশের প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য প্রেরণ করিবে এবং সে দেশ হইতে উহার মুল্য বাবদ নিজ নিজ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানী করিবে। যেমন বাংলাদেশ যদি ইরানের নিকট তিন কোটি টাকার পাটজাত দ্রব্য বিক্রয় করে তবে সে উহার বিনিময়ে তিন কোটি টাকার তৈল গ্রহণ করিবে। তুরষ্ক যদি বাংলাদেশের নিকট হইতে দুই কোটি টাকার পাট ক্রয় করে, তবে মূল্য বাবদ সে তিন কোটি টাকার কাচা লৌহ কিংবা লৌহজাত পণ্য প্রেরণ করিবে। পক্ষান্তরে তুরস্ক যদি বাংলাদেশ হইতে দুই কোটি টাকা পাট ক্রয় করে আর বাংলাদেশ যদি উহার নিকট হইতে তিন কোটি টাকার লৌহ বা লৌহজাত পণ্য আমদানী করে,তবে বাংলাদেশ ইরানের নিকট হইতে গৃহীত তৈলের এক কোটটি টাকার পরিমণে তৈল তুরষ্ককে দিয়া পাওনা দেনা সমান করিয়া লইবে। ফলে কাহারো নিকট কাহারো কোন কিছু পাওনা অবশিষ্ট থাকিবে না। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটা স্বসিদ্ধ হইতেছে- EXPORT MUST FOR IMPORTS অর্থাৎ যা আমদানী করা হইবে উাহর মূল্য আদায় করার মত রপ্তানী হওয়া চাই। এই ভাবে ব্যবসায় সয়ক্রান্ত প্রতিনিধি [Trade commisson] প্রেরণ করিয়া বা প্রত্যেক দেশের পক্ষ হইতে বিদেশে প্রেরিত রাষ্ট্রেদূতের মারফতে এইরূপ আন্তর্জাতিক ব্যবসায় অনায়াসেই সুসম্পন্ন করা যাইতে পারে। ফলে কোন দেশে পক্ষেই আন্তর্জাতিক মুদ্রার প্রয়োজন হইবে না এবং বিনা সুদে আন্তর্জাতিক লেন-দেন ও মার চলাচল সুষ্ঠুরূপেই চলিতে পারিবে।
কোন দেশের উৎপন্ন কৃষিপণ্য বা শিল্প-পণ্যের চাহিদা যদি কম হয়- সম্পূর্ণরূপে বিক্রয় না হয়, তখন উক্ত প্রকার কৃষি-পণ্যের পরিবর্তে অন্য কোন প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের চাষ করিতে হইবে। যেমন খাদ্যপণ্যের চাহিদা কিংবা তাহাতে মুনাফা কম হইলেও তখন নিজ দেশে শিল্পসংক্রান্ত ও অন্যা্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাষ বৃদ্ধি করিতে হইবে। অনুরূপভাবে এক প্রকারের শিল্পপণ্যের চাহিদা না থাকিলে তখন উহার পরিবর্তে অন্যান্য প্রয়োজনীয় উৎপাদনের কাজে দেশের কারখানাকে নিযুক্ত করিতে হইবে। এইরূপ করিলেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মন্দভাব হইতে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হইবে।
এই ক্ষেত্রে ইসলামী রাষ্ট্রের কর্তব্য এমন সব দেশের সহিত নিজ পণ্য বিনিময়ের চুক্তি করা যেখান হইতে আন্তর্জাতিক প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানী করা সম্ভব হইবে। ইহার ফলে একদিকে যেমন উহার নিজের পণ্য বিক্রয় হইবে,অন্যদিকে উহার বিনিময়ে সে এমন পণ্য লাভ করিবে যাহার চাহিদা দুনিয়ার সর্বত্র না হইলেও অধিকাংশ দেশেই বর্তমান। ইহাতে উহার পক্ষে যথেষ্টভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হইবে। যেমন একটি দেশের নিকট পেট্রোল রহিয়াছে, বহু দেশই উহার খরীদ্দার। এখন অন্য একটি দেশ উহাকে খাদ্য-পণ্য দিয়া যদি পেট্রোল ক্রয় করে, তবে সে এ পেট্রোল হইতে যথেষ্ট মুনাফা লাভ করিতে পারে।
পণ্য বিনিময়ের এই রীতির বহুল প্রচার হইলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এই অনুসার ব্যাপকভাবে কাজ হইতে শুরু করিলে উহার ফল নানা দিক দিয়াই কল্যাণকর হওয়ার সম্ভাবনা রহিয়াছে। প্রথম ফল হইবে যে, যেসব শক্তিশালী দেশ নিজেদের আন্তর্জাতিক মুদ্রার একচেটিয়া কর্তৃত্বের দরুন অপেক্ষাকৃত দুর্বল হইয়া যাইবে। ইহার দরুন অনেকগুলি দেশ প্রকৃত স্বাধীনতার অধিকার এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা ও স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করিতে সক্ষম হইবে। মুদ্রা মূলতঃ ক্রয়-বিক্রয়ের সুবিধার জন্যই আবিষ্কৃত হইয়াছে, শোষন ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃ হওয়ার জন্য নয়। কিন্তু বর্তমানে ইহা শেষোক্ত কাজে ব্যবহৃত হইতেছে। এমতাবস্থায় উল্লিখিত উপায় অনুসারে আন্তর্জাতিক ক্রয়-বিক্রয় যদি মুদ্রা ছাড়াও সম্ভব হয় এবং ব্যবসায় বাণিজ্যকে যদি জাতীয় শোষন-পীড়ন ও গোলামীর বন্ধন হইতে মুক্ত করা যায় তবে আর ইহার প্রয়োজনথঅকিবে না। বস্তুতঃ মুদ্রাই তো আসল লক্ষ্য নয় প্রকৃত হইতেছে ব্যবসায়-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয়ের সুবিধা বিধান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যদি এই মুদ্রা ছাড়াও সুষ্ঠুরূপে চলিতে পারে, তাহা হইলে ইহা লইয়া কাহারো গৌরব করার অবকাশ থাকিবে না।
কোন দেশের উৎপন্ন কৃষিপণ্য বা শিল্প-পণ্যের চাহিদা যদি কম হয়- সম্পূর্ণরূপে বিক্রয় না হয়, তখন উক্ত প্রকার কৃষি-পণ্যের পরিবর্তে অন্য কোন প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের চাষ করিতে হইবে। যেমন খাদ্যপণ্যের চাহিদা কিংবা তাহাতে মুনাফা কম হইলেও তখন নিজ দেশে শিল্পসংক্রান্ত ও অন্যা্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাষ বৃদ্ধি করিতে হইবে। অনুরূপভাবে এক প্রকারের শিল্পপণ্যের চাহিদা না থাকিলে তখন উহার পরিবর্তে অন্যান্য প্রয়োজনীয় উৎপাদনের কাজে দেশের কারখানাকে নিযুক্ত করিতে হইবে। এইরূপ করিলেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মন্দভাব হইতে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হইবে।
এই ক্ষেত্রে ইসলামী রাষ্ট্রের কর্তব্য এমন সব দেশের সহিত নিজ পণ্য বিনিময়ের চুক্তি করা যেখান হইতে আন্তর্জাতিক প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানী করা সম্ভব হইবে। ইহার ফলে একদিকে যেমন উহার নিজের পণ্য বিক্রয় হইবে,অন্যদিকে উহার বিনিময়ে সে এমন পণ্য লাভ করিবে যাহার চাহিদা দুনিয়ার সর্বত্র না হইলেও অধিকাংশ দেশেই বর্তমান। ইহাতে উহার পক্ষে যথেষ্টভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হইবে। যেমন একটি দেশের নিকট পেট্রোল রহিয়াছে, বহু দেশই উহার খরীদ্দার। এখন অন্য একটি দেশ উহাকে খাদ্য-পণ্য দিয়া যদি পেট্রোল ক্রয় করে, তবে সে এ পেট্রোল হইতে যথেষ্ট মুনাফা লাভ করিতে পারে।
পণ্য বিনিময়ের এই রীতির বহুল প্রচার হইলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এই অনুসার ব্যাপকভাবে কাজ হইতে শুরু করিলে উহার ফল নানা দিক দিয়াই কল্যাণকর হওয়ার সম্ভাবনা রহিয়াছে। প্রথম ফল হইবে যে, যেসব শক্তিশালী দেশ নিজেদের আন্তর্জাতিক মুদ্রার একচেটিয়া কর্তৃত্বের দরুন অপেক্ষাকৃত দুর্বল হইয়া যাইবে। ইহার দরুন অনেকগুলি দেশ প্রকৃত স্বাধীনতার অধিকার এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা ও স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করিতে সক্ষম হইবে। মুদ্রা মূলতঃ ক্রয়-বিক্রয়ের সুবিধার জন্যই আবিষ্কৃত হইয়াছে, শোষন ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃ হওয়ার জন্য নয়। কিন্তু বর্তমানে ইহা শেষোক্ত কাজে ব্যবহৃত হইতেছে। এমতাবস্থায় উল্লিখিত উপায় অনুসারে আন্তর্জাতিক ক্রয়-বিক্রয় যদি মুদ্রা ছাড়াও সম্ভব হয় এবং ব্যবসায় বাণিজ্যকে যদি জাতীয় শোষন-পীড়ন ও গোলামীর বন্ধন হইতে মুক্ত করা যায় তবে আর ইহার প্রয়োজনথঅকিবে না। বস্তুতঃ মুদ্রাই তো আসল লক্ষ্য নয় প্রকৃত হইতেছে ব্যবসায়-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয়ের সুবিধা বিধান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যদি এই মুদ্রা ছাড়াও সুষ্ঠুরূপে চলিতে পারে, তাহা হইলে ইহা লইয়া কাহারো গৌরব করার অবকাশ থাকিবে না।