hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪০

বায়তুলমাল ও খলীফাতুল মুসলিমীন

বায়তুলমাল যদিও ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধানেরই নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে এবং তাহারই নির্দেশক্রমে পরিচালিত হয়; কিন্তু তবু ব্যক্তিগতভাবে তাহার নিজস্ব কোন কর্তৃত্বইউহার উপর স্বীকৃত বা কার্যকর হইতে পারে না। কারণ:

(আরবী)

ধন-সম্পদ মুসলিম জনগণ ও নাগরিকদের জন্য খলীফার নিকট আমানত স্বরূপ।[তাককাতে ইবনেসায়াদ, তৃতীয় খণ্ড।]

জাতীয় কোষাগারের উপর একজন বাদশাহ বা একজন ডিক্টেটরের যে স্বেচ্ছাকারমূলক কর্তৃত্ব স্থাপিত থাকে এবং তাহরা যেভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভোগ ব্যবহার করে, ইসলামী রাষ্ট্রের বায়তুলমালের উপর খলীফঅতুল মুসলেমীনের অনুরূপ কর্তৃত্ব স্থাপিত হইতে পারে না। তদ্রুপ যথেচ্ছ ভোগ-ব্যবহার করার অধিকারও তাহার নাই। রাজতন্ত্র ও ডিক্টেটরবাদ এবং ইসলামের মধ্যে এখানে মূলগত ও নীতিগত পার্থক্য সুস্পষ্ট।

হযরত উমর ফারূক ক(রা) একদা প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত সালমান ফারেসী (রা)-কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, ‘আমি বাদশা, না খলীফা?”

উত্তরে সালমান (রা) বলিয়াছিলেন, “ইসলামী রাষ্ট্রের বায়তুলমাল হইতে একটি মুদ্রা বা তদপেক্ষাও কম পরিমাণ অর্থ আপনি যদি অপব্যয় বা অপচয় করেন, তবে আপনি বাদশাহ; অন্যথায় আপনি খলীফা।” কথাটির গভীর তাৎপর্য অনুধাবনীয়।