hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

পশুর অর্থনৈতিক মূল্য

পশু ও জন্তু-জানোয়ার অর্থোৎপাদনের এক প্রাচীনতম উপাদান। পশু শিকার করিয়া আহার করা যাইতে পারে, বিক্রয় করিয়া অর্থলাভ করা যাইতে পারে, লালন-পালন ও উহার বংশ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করিয়া সম্পদ অর্জনের পথ সুগম করা যাইতে পারে। পমুর চামড়া, হাড়, পশমও দুগ্ধ ইত্যাদি মানব সভ্যতার প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহের অন্যতম, বিশেষ পশুকে যানবাহন ও ভার বহনের কাজেও ব্যবহার করা যায়। বিশেষত রেল-লাইন ও জলযানবিহীন এলকার অভ্যন্তরীণ পণ্য ও লোক চলাচলের বাহন হিাবে গরু, মহিষ, অশ্ব, গর্দভ প্রভৃতি আদিম কাল হইতেই ব্যবহৃত হইয়া আসিতেছে এবং বর্তমান কালেও এগুলোর বিশেষ প্রয়োজন রহিয়াছে। পশুর এই বহুবিধ ব্যবহার সম্পর্কে কুরআন মজীদে সুস্পষ্ট উল্লেখ রহিয়াছে।

(আরবী)

আল্লাত তা’আলা তোমাদেরই(ব্যবহার ও উপকারের) জন্য পশু সৃষ্টি করিয়াছেন। তাহাতে পশম রহিয়াছে এবং উহার আরো বহুবিধব্যবহারিক মূল্য বা পন্থা রহিয়াছে। (তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য এই যে) তোমরা উহা খাদ্য হিসাবেও ব্যবহার করিয়া থাক।

বলিয়াছেন:

(আরবী)

এমন সব চতুষ্পদ জন্তও সৃষ্টি করিয়াছেন, যাহা যানবাহন ও ভার বোঝা বহনের কাজে ব্যবহারকরা হয় এবং এমন জন্তুও, যাহা খাদ্য হিসাবে ও শয্যার সামগ্রী হিসাবে ব্যবহার করা হয়। আল্লাহর দেওয়া রিযিক হিসাবে তোমরা তা খাও।

অপর এক আয়াতে বলা হইয়াছে:

(আরবী০

ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা এই জন্য সৃষ্টি করা হইয়াছে যে, এই সবকে তোমরা যানবাহন কিংবা ভারবহনের কাজে ব্যবহার করিবে এবং ইহা তোমাদের জীবনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করিবে।

বস্তুত ঘোড়া ইতিহস-পূর্বকাল হইতে দ্রুতগামী যানবাহন হিসাবে ব্যবহৃত হইয়া আসিতেছে। স্থুল যুদ্ধে আজও ঘোড়া ব্যবহৃতহইতেছে।বর্তমান সভ্যতার অবদান মোটরবা রেলগাড়ী দ্রুতগতিবান যানবাহন হিসাবে ব্যবহৃত হইলেও অম্বের গতিশক্তি(Horse Power) শক্তি-পরিমাপের একক মানদন্ড হিসাবে এখনো গণ্য হইতেছে। আধুনিক বৈজ্ঞানিক সভ্যতা যে প্রাচীন সভ্যতার ক্রোড়েই লালিত-পালিত এবং উহারই প্রভাবাধীন হইয়া আছে, তাহা কি অস্বীকার করা যায়?