১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩৮
বায়তুলমালের সূচনা
অতএব এ কথা বলা যাইতে পারে যে, মদীনা নগরে প্রথম যেদিন ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপিত হইয়াছিল, মূলত সেই দিন হইতেই বায়তুলমালের সূচনা হইয়াছিল। কিন্তু প্রথম পর্যায়ে বায়তুলমালে কোনরূপ ধন-সম্পদ সঞ্চয় করিয়া রাখা হইত না, তাহার অবকাশও তখন ছিল না। কারণ তখন সাধারণ নাগরিক ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনের তুলনায় আয়ের অবস্থা অত্যন্ত নগন্য ছিল বলিয়াই ধন-সম্পদ হস্তগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নবী করীম (ﷺ) অভাবী লোকদের মধ্যে তাহা বন্টন করিয়া দিতেন।
হযরত আবূবকর (রা)-এর খিলাফতকালেই সর্ব প্রথম বায়তুলমাল বাস্তব রূপ লাভ করে এবং হযরত আবূ উবাইদাহ (রা)-কে উহার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু তখনো জাতীয প্রয়োজনের তীব্রতা হেতু আমদানীকৃত সম্পদ অবিলম্ব বন্টন করিয়া দেওয়া হইত। এই জন্য বায়তুলমালের দ্বারা প্রায় সব সময়ই তালাবদ্ধ হইয়া থাকিত। হযরত আবূ বকর(রা)-এর পর দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর ফারূক (রা) দায়িত্ব গ্রহণের পর বায়তুলমালকে একেবারে শুন্যে দেখিতে পাইয়াছিলেন।
দ্বিতীয় খলিফার সময়েই ইসলামী রাষ্ট্রের বায়তুলমালের প্রচুর আমদানী হইতে থাকে। ফলে প্রদেশসমূহেও বায়তুরমাল স্থাপিত হয়।
হযরত উমর ফারূক (রা) ও এই কথাই বলিয়াছিলেন তাঁহার এই বিপ্লবী ঘোষণায়:
(আরবী)
আল্লাহর নামে শপথ, এই রাষ্ট্রীয় সম্পদের উপর কেহ অপর কাহরো অপেক্ষা অধিক অধিকার লাভের দাবি করিতে পারে না। আমি নিজেও অপর কাহারো অপেক্ষা অধিক অধিকারেরদাবি নহি। আল্লাহর শপথ, প্রত্যেক মুসলিমেরই জন্য এই সম্পদে নির্দিষ্ট অংশ রহিয়াছে। আরআমি যদি বাঁচিয়া থাকি, তাহা হইলে ছান্য়া পর্বতের রাখাল নিজ স্থানে পশু চরাইবার কাজে ব্যস্ত থাকিয়াও এই মাল হইতে তাহার নিজের ন্যায্য অংশ লাভ করিত পারিবে।’
বস্তুত হযরত উমর (রা) প্রথমে উদ্ধৃত নবী করীমের বাণীটুকুর ভিত্তিতেই এই কথা বলিয়াছিলেন এবং তাঁহার ন্যায় চতুর্থ খলীফা হযরত আলী (রা)ও উহা হইতে এই অর্থই বুঝিতে পারিয়াছিলেন। তাই তিনিও বলিয়াছেন:
(আরবী)
জানিয়া রাখ, তোমাদের যাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ধনমালের চাবি আমার নিকট রক্ষিত। সেই সঙ্গে ইহাও জানিয়অ রাখিও যে, উহা হইতে তোমাদিগকে বাদ দিয়া বা বঞ্চিত করিয়া একটি পয়সাও গ্রহণ করা আমার কোন অধিকার নাই।
বস্তুত ইসলামে যাবতীয় ধনমালের প্রকৃত মালিক যে আল্লাহ এবং উহাতে যে সব মানুষেরই সমান অধিকর রহিয়াছে, তাহা এই সব সুস্পষ্ট বিপ্লবী ঘোষণা হইতে নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়। উপরন্তু ইহা যে কেবল মৌখিক ঘোষণাই ছিল না, ইহাই ছিল খুলাফায়ে রাশেদুনের আমলের অর্থনৈতিক নীতি, তাহাতেও কোন সন্দেহ নাই।
হযরত আবূবকর (রা)-এর খিলাফতকালেই সর্ব প্রথম বায়তুলমাল বাস্তব রূপ লাভ করে এবং হযরত আবূ উবাইদাহ (রা)-কে উহার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু তখনো জাতীয প্রয়োজনের তীব্রতা হেতু আমদানীকৃত সম্পদ অবিলম্ব বন্টন করিয়া দেওয়া হইত। এই জন্য বায়তুলমালের দ্বারা প্রায় সব সময়ই তালাবদ্ধ হইয়া থাকিত। হযরত আবূ বকর(রা)-এর পর দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর ফারূক (রা) দায়িত্ব গ্রহণের পর বায়তুলমালকে একেবারে শুন্যে দেখিতে পাইয়াছিলেন।
দ্বিতীয় খলিফার সময়েই ইসলামী রাষ্ট্রের বায়তুলমালের প্রচুর আমদানী হইতে থাকে। ফলে প্রদেশসমূহেও বায়তুরমাল স্থাপিত হয়।
হযরত উমর ফারূক (রা) ও এই কথাই বলিয়াছিলেন তাঁহার এই বিপ্লবী ঘোষণায়:
(আরবী)
আল্লাহর নামে শপথ, এই রাষ্ট্রীয় সম্পদের উপর কেহ অপর কাহরো অপেক্ষা অধিক অধিকার লাভের দাবি করিতে পারে না। আমি নিজেও অপর কাহারো অপেক্ষা অধিক অধিকারেরদাবি নহি। আল্লাহর শপথ, প্রত্যেক মুসলিমেরই জন্য এই সম্পদে নির্দিষ্ট অংশ রহিয়াছে। আরআমি যদি বাঁচিয়া থাকি, তাহা হইলে ছান্য়া পর্বতের রাখাল নিজ স্থানে পশু চরাইবার কাজে ব্যস্ত থাকিয়াও এই মাল হইতে তাহার নিজের ন্যায্য অংশ লাভ করিত পারিবে।’
বস্তুত হযরত উমর (রা) প্রথমে উদ্ধৃত নবী করীমের বাণীটুকুর ভিত্তিতেই এই কথা বলিয়াছিলেন এবং তাঁহার ন্যায় চতুর্থ খলীফা হযরত আলী (রা)ও উহা হইতে এই অর্থই বুঝিতে পারিয়াছিলেন। তাই তিনিও বলিয়াছেন:
(আরবী)
জানিয়া রাখ, তোমাদের যাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ধনমালের চাবি আমার নিকট রক্ষিত। সেই সঙ্গে ইহাও জানিয়অ রাখিও যে, উহা হইতে তোমাদিগকে বাদ দিয়া বা বঞ্চিত করিয়া একটি পয়সাও গ্রহণ করা আমার কোন অধিকার নাই।
বস্তুত ইসলামে যাবতীয় ধনমালের প্রকৃত মালিক যে আল্লাহ এবং উহাতে যে সব মানুষেরই সমান অধিকর রহিয়াছে, তাহা এই সব সুস্পষ্ট বিপ্লবী ঘোষণা হইতে নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়। উপরন্তু ইহা যে কেবল মৌখিক ঘোষণাই ছিল না, ইহাই ছিল খুলাফায়ে রাশেদুনের আমলের অর্থনৈতিক নীতি, তাহাতেও কোন সন্দেহ নাই।