hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৫

প্রতিশ্রুতি-পত্র (Letter of credit)

নগদ টাকার পরিবর্তে ‘ক্রেডিট’ নোটের মাধ্যমেও অনেক সময় পণ্য দ্রব্যের বিনিময় কিংবা শ্রমের মজুরীর আদান-প্রদান করা যায়। বর্তামন যুগে যখন ক্রেতা এক স্থানে এবং বিক্রেতা বহু দূরবর্তী অন্য এক দেশে থাকিয়াও পারস্পরিক ক্রয়-বিক্রয় করিতেছে এবং ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চালাইতেছে তখন ইহার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

‘ক্রেডিটে’র সংজ্ঞা প্রদান করিয়া অধ্যাপক ‘লক’ বলিয়াছেন- ‘এক সীমাবদ্ধ সময়ে মুদ্রা আদায় করার আশাই হইতেছে ক্রেডিকের মূল কথা। ভবিষ্যতে টাকা আদায় করার প্রতিশ্রুতিতে হুন্ডি, চেক, সরকারী প্রমিসরী নোট, ব্যাংকের জারী করা নোট এবং পোস্টাল অর্ডার ও মানি অর্ডার ইত্যদিই ক্রেডিটের বিভিন্ন রূপ।’ ডঃ থমাস্‌-এর কথায় ক্রেডিট নোট মূলত নগদ টাকারই বিকল্প।[Element of Economics] ইহার বৈশিষ্ট্য এই যে, ইহার সাহায্যে ব্যাপকভাবে বিনিময়কার্য সম্পন্ন করা সহজ এবং ঋণ-আদায় করাও প্রভূত সুবিধা হইয়া থাকে।

‘প্রমিসরি নোট, ইস্যু করার প্রথা ইসলামের প্রথম যুগে প্রচলিত ছিল। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা) মক্কা নগরে ইরাকগামী লোকদের নিকট হইতে টাকা গ্রহণ করিতেন। এবং সে সম্পর্কে তাঁহার ভ্রাতা ইরাকের গভর্ণর মুছয়ীব বিন জুবাইর (রা)-কে লিখিয়া পাঠাইতেন, লোকেরা তাহার নিকট হইতে এই টাকা আদায় করয়া লইত।(আবূ দাঊদ)

আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা) এক শহরে ব্যবসায়দিগকে পণ্য দিতেন, এবং অন্য এক শহরে উহার মূল্য গ্রহণ করিতেন। হযরত ইমাম হাসান (রা) হিজাজে লোকদের নিকট হইতে টাকা গ্রহণ করিতেন এবং ইরাকে তাহা আদয় করিতেন; কিংবা ইরাকে টাকা গ্রহণ করিতেন এবং হিজাজে তাহা প্রত্যাবর্তন করিতেন।

মোট কথা, হুন্ডির মারফত উল্লিখিতরূপে টাকার আদান-প্রদান করা ইসলামী অর্থনীতির দৃষ্টিতে নাজায়েয নহে।[মনে রাখিতে হইবে, ইহা একই প্রশাসন অধীন রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে হুন্ডীর ব্যবহার সম্পর্কে কথা। বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে হুন্ডীর কারবার চোরাচালানের পর্যয়ে গণ্য এবং নিষিদ্ধ।] হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)-কে ‘হুন্ডি’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হইলে তিনি বলিলেন: ‘ইহাতে কোন দোষ নাই।’ হযরত আলী (রা)-র মতও ইহাই ছিল।

ফকীর ইবনে সিরীন সম্পর্কে বলা হইয়াছে: (আরবী)

হুন্ডি-ব্যবহারে তিনি কোনরূপ দোষ মনে করিতেন না। অবশ্য যদি তাহা প্রচলিত নির্দোষ নিয়মে ব্যবহার করা হয়।

হযরত আলী (রা) বলিয়াছেন: (আরবী)

মদীনায় পণ্য দিয়া আফ্রিকায় তাহা (বা উহার মূল) গ্রহণ করায় কোন রূপ দোষ নাই।

বস্তুত এই কাজে কোনরূপ সুদ না লইয়া কমিশন বা খরচ-বাবদ কিছু গ্রহণ করিলে তাহা না জায়েয হওয়ার কোনই কারণ নাই। ব্যাংক, পোষ্ট অফিস প্রভৃতি সরকারী সিকিউরিটি সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মারফতে এক শহর হইতে অন্য শহরে পণ্য-দ্রব্য কিংবা নগদ টাকা স্থানান্তর করা এবং প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক মজুরী (Establishment Expenditure) বাবদ নির্দিষ্ট-হারে কমিশন লওয়া কোন রূপেই অসঙ্গত হইতে পারে না। অবশ্য তাহাতে সুদের প্রথা থাকিলে কিংবা এক দেশ হইতে অন্য দেশে প্রেরণ করার জন্য ‘বাট্টা’ গ্রহণ করিলে তাহা কোন মতেই জায়েয হইতে পারে না।