১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯৪
মীরাসী আইন
মীরাসী আইনের মনস্তাত্বিক ও সামাজিক ভিত্তি অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ। প্রত্যেকটি মানুষিই মৃত্যুমুখে পতিত হওয়ার সময় স্বভাবতই নিজের সন্তান সন্ততি ও নিকটতম আত্মীয়গণকে সচ্ছল অবস্থায় দেখিয়া যাইতে চাহে। অপরদিকে ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ার পর তাহার যোগ্য লোকগণ যদি সহসা নিঃস্ব ও অসহায় হইয়া পড়, তাহা হইলে তাহাদের ভরণ-পোষণের পূর্ণ দায়িত্ব অতি আকস্মিকভাবেই সমাজের উপর ন্যস্ত হয়। তখন এই অবস্থায় লোকগণ সমাজের উপর একটি দুর্বহ বোঝা হইয়া পড়ে। কিন্তু সমাজের পক্ষে এই দায়িত্ব পালন করা খুব সহজ কার্য নহে। এই জন্যই নিতান্ত স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যেক মানুষ নিজের প্রিয়তম ও নিকটতম লোকদের সচ্ছল ও পরমুখাপেক্ষিহীন দেখিতে ইচ্চুক হয়। নবী করীম (ﷺ) এই জন্যই ইরশাদ করিয়াছেন:
(আরবী)
উত্তরাধিকারীগণকে সচ্ছল ও পরমুখাপেক্ষীহীন রাখিয়া যাওয়া তাহাদিগকে নিঃস্ব ও দরিদ্র রাখিয়া যাওয়া অপেক্ষা অনেক উত্তম। কারণ, তাহাদিগকে দরিদ্র ও সর্বহারা করিয়া রাখিয়া গেলে তাহারা সমাজের লোকদের সম্মুখে ভিক্ষার হাত দরাজ করিতে বাধ্য হইবে।
বস্তুত ইসলামী অর্থ-ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মালিকানার যে অধিকার রহিয়াছে, তাহা ব্যক্তির নিজ জীবন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়, তাহা উত্তরাধিকার সূত্রে বংশানুক্রমিকভাবে অনন্তকাল পর্যন্ত চলিতে থাকিবে। ব্যক্তির নিজের জীবনে যেসব লোকের সহিত তাহার বৈষয়িক কিংবা আত্মিক অথবা রক্তের নিকট সম্পর্ক স্থাপিত হইয়াছে এবং যেসব লোক তাহার লাভ-লোকসাকে নিজের লাভ-লোকসান বলিয়া মনে করিয়াছে, তাহার মালিকানা ধন-সম্পত্তি তাহার মৃত্যুর পর ঐসব লোকের মধ্যে সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে বন্টন করা হইবে। এই উত্তরাধিকার আইন ব্যক্তির কেবল উৎপন্ন দ্রব্রের উপরই প্রবর্তিত হইবে না, উৎপাদন উপায়ের (Means of production) উপরও ইহা অনিবার্যরূপে কার্যকর হইবে।
ইসলামী জ্ঞান ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মীরাসী আইনের গুরুত্ব যে কত, তাহা নবী করীম(ﷺ)-এর নিম্নলিখিত বাণী হইতে সুস্পষ্টরূপে বুঝিতে পারা যায়। তিনি বলিয়াছেন:
(আরবী)
উত্তরাধিকার আইন নিজেরা শিখ, অন্যকে শিক্ষা দাও। কারণ ইহা ইসলাম সম্পর্কীয় যাবতীয় জ্ঞানের অর্ধেক।
নবী করীম (ﷺ) মীরাসী আইন অনুযায়ী ধন-সম্পদ বন্টন করার নির্দেশ দিয়া বলিয়াছেন:
(আরবী)
থন-সম্পদকে উহার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আল্লাহর বিধান অনুাযায়ী বন্টন কর।
অধ্যাপক টাসগ্ লিখিয়াছেন: উত্তরাধিকার আইনের প্রভাব সুদুর-প্রসারী। একমাত্র এই ব্যবস্থাই যে ধনী ও নিঃস্বদের মধ্যে চিরন্তনী ব্যবধানকে দূরীভূত করিতে পারে, তাহা সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত হইয়াছে।[টাগ্স-প্রিন্সিপাল্স অব ইকনমিকস্, ২য় খন্ড-২৪৬]
নিঃ রিম্জে “মোহামাডান ল” গ্রন্থের ভূমিকায় লিখিয়াছেন: ‘আধুনিক সভ্য পৃথিবী ধন-বন্টনের যদ নিয়ম ও পন্থা আবিষ্কার করিতে পারিয়াছে, ইসলামের উত্তরাধিকার আইন তন্মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক বৈজ্ঞানিক ও নির্ভুল। এই আইনের অন্তর্নিতিহ সৌন্দর্য ও নিখুঁত সামঞ্জস্য অপরিসীম। ইহা কেবল আইন শিক্ষার্থীদেরই শিক্ষণীয় বিষয় নয়, জ্ঞানান্বেষী সকল ব্যক্তির পক্ষেই ইহা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
(আরবী)
উত্তরাধিকারীগণকে সচ্ছল ও পরমুখাপেক্ষীহীন রাখিয়া যাওয়া তাহাদিগকে নিঃস্ব ও দরিদ্র রাখিয়া যাওয়া অপেক্ষা অনেক উত্তম। কারণ, তাহাদিগকে দরিদ্র ও সর্বহারা করিয়া রাখিয়া গেলে তাহারা সমাজের লোকদের সম্মুখে ভিক্ষার হাত দরাজ করিতে বাধ্য হইবে।
বস্তুত ইসলামী অর্থ-ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মালিকানার যে অধিকার রহিয়াছে, তাহা ব্যক্তির নিজ জীবন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়, তাহা উত্তরাধিকার সূত্রে বংশানুক্রমিকভাবে অনন্তকাল পর্যন্ত চলিতে থাকিবে। ব্যক্তির নিজের জীবনে যেসব লোকের সহিত তাহার বৈষয়িক কিংবা আত্মিক অথবা রক্তের নিকট সম্পর্ক স্থাপিত হইয়াছে এবং যেসব লোক তাহার লাভ-লোকসাকে নিজের লাভ-লোকসান বলিয়া মনে করিয়াছে, তাহার মালিকানা ধন-সম্পত্তি তাহার মৃত্যুর পর ঐসব লোকের মধ্যে সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে বন্টন করা হইবে। এই উত্তরাধিকার আইন ব্যক্তির কেবল উৎপন্ন দ্রব্রের উপরই প্রবর্তিত হইবে না, উৎপাদন উপায়ের (Means of production) উপরও ইহা অনিবার্যরূপে কার্যকর হইবে।
ইসলামী জ্ঞান ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মীরাসী আইনের গুরুত্ব যে কত, তাহা নবী করীম(ﷺ)-এর নিম্নলিখিত বাণী হইতে সুস্পষ্টরূপে বুঝিতে পারা যায়। তিনি বলিয়াছেন:
(আরবী)
উত্তরাধিকার আইন নিজেরা শিখ, অন্যকে শিক্ষা দাও। কারণ ইহা ইসলাম সম্পর্কীয় যাবতীয় জ্ঞানের অর্ধেক।
নবী করীম (ﷺ) মীরাসী আইন অনুযায়ী ধন-সম্পদ বন্টন করার নির্দেশ দিয়া বলিয়াছেন:
(আরবী)
থন-সম্পদকে উহার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আল্লাহর বিধান অনুাযায়ী বন্টন কর।
অধ্যাপক টাসগ্ লিখিয়াছেন: উত্তরাধিকার আইনের প্রভাব সুদুর-প্রসারী। একমাত্র এই ব্যবস্থাই যে ধনী ও নিঃস্বদের মধ্যে চিরন্তনী ব্যবধানকে দূরীভূত করিতে পারে, তাহা সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত হইয়াছে।[টাগ্স-প্রিন্সিপাল্স অব ইকনমিকস্, ২য় খন্ড-২৪৬]
নিঃ রিম্জে “মোহামাডান ল” গ্রন্থের ভূমিকায় লিখিয়াছেন: ‘আধুনিক সভ্য পৃথিবী ধন-বন্টনের যদ নিয়ম ও পন্থা আবিষ্কার করিতে পারিয়াছে, ইসলামের উত্তরাধিকার আইন তন্মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক বৈজ্ঞানিক ও নির্ভুল। এই আইনের অন্তর্নিতিহ সৌন্দর্য ও নিখুঁত সামঞ্জস্য অপরিসীম। ইহা কেবল আইন শিক্ষার্থীদেরই শিক্ষণীয় বিষয় নয়, জ্ঞানান্বেষী সকল ব্যক্তির পক্ষেই ইহা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।