১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯৮
মীরাসী আইনে তুলনামূলক আলোচনা
উত্তরাধিকার আইন দুনিয়ার প্রত্যেক দেশ ও প্রত্যেক সমাজে কোন না কোনরূপ বর্তমান ও চালু রহিয়াছে। কিন্তু এক দেশের উত্তরাধিকার আইনের সহিত অন্য দেশের আইনর কোন সামঞ্জস্য নাই। স্কটল্যাণ্ডের মীরাসী আইন এক প্রকার, ইংল্যাণ্ড সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকার। ফ্রান্স ও ইংলণ্ডের উত্তরাধিকারী আইনের মধ্যে আসমান-জমিন পার্থক্য। ইংল্যান্ডের মীরাসী আইন অনুসারে একজন ইংরেজ তাহার সর্বশেষ অসিয়ত ও দস্তাবীজের সাহায্যে নিজের ইচ্ছামত একজনকে সমগ্র সম্পত্তির উত্তরধিকার দান করিতে পার, [ইকনমিক অব ইহেরটেন্স- ৪র্থ অধ্যায়, ৯০ পৃঃ] ফ্রান্সের “রোড নেপোলিয়ান” অনুযায়ী নিজ সন্তানের সংখ্যানুপাতে অসিয়তের মারফতে পরিমাণের কম-বেশী অনায়াসেই করা যাইতে পারে। সোভিয়েত রাশিয়ার গোড়ার দিকে ব্যক্তিগত মালিকানা অধিকার হরণ করার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরাধিকার আইনও বাতিল করা হইয়াছিল। কিন্তু বর্তমানে মানুষের স্বাভাবিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণে দুনিয়ার চাপে কমিউনিস্ট মতবাদের-মার্কসীয় দর্শনের- সম্পূর্ণ বিপরীত ব্যক্তিমালিকানা অধিকার স্বীকার করিয়া সঙ্গে সঙ্গ উত্তরাধিকার আইনকেও চালু করা হইয়াছে। ইউরোপে সাধারণতঃ জ্যেষ্ঠ পুত্রের সমগ্র সম্পত্তির মালিক হওয়ার রীতি খুব বেশী প্রচলিত আছে। এই জন্য অন্যান্য সন্তানাদিগকে নিতান্ত অসহায় ও পাথেয়হীন হইয়া জীবন যুদ্ধে ঝাঁপাইয়া পড়িতে হয়। ফলে সমগ্র জাতীয় সম্পত্তি মুষ্টিমেয় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ পুত্রের হাতে একিভূত হইয়া পড়ে।
ইসলামর অর্থনীতি তথা ইসলামের মীরাসী আইন অবম্বিদ সকল প্রকার জুলুম, অবিচার, শোষণ, অসামঞ্জস্যতা ও ভারসাম্যহীন বন্টন পদ্ধতি হইতে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র। ইসলামী সমাজের মত ব্যক্তির সকল নিকটাত্মীয়ই- ছেলেমেয়ে স্ত্রী এবং পিতামাতা সকলেই –মীরাস লাভ করে। ফলে বিরাট ধন-সম্পত্তি অসংখ্য খণ্ডে বিভক্ত হইয়া ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে পরিণত হয় এবং প্রত্যেকেরই পরিমাণ কম হওয়া কেবল উহারই উপর নির্ভর করিয়া কর্মহীন, অলস ও বিলাসী জীবন যাপন করা কাহারোও পক্ষেই সম্ভব হয় না। কাজেই মীরাসী আইন একদিকে যেমন স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূল্ত পন্থায় অবিস্রান্তভাবে ধন-সম্পত্তির বন্টন করিয়া থাকে, অন্যদিকে ঠিক তেমনি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা ও অর্থোপার্জনের মারফতে জাতীয় সম্পদ অধিকতর বৃদ্ধি করে। অতএব এ কথা অকুণ্ঠিতচিত্তে ঘোষণা করা যাইতে পারে যে, দুনিয়ার অর্থনীতিতে ইসলামের মীরাসী আইনের কোন তুলনা নাই।
ইসলামর অর্থনীতি তথা ইসলামের মীরাসী আইন অবম্বিদ সকল প্রকার জুলুম, অবিচার, শোষণ, অসামঞ্জস্যতা ও ভারসাম্যহীন বন্টন পদ্ধতি হইতে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র। ইসলামী সমাজের মত ব্যক্তির সকল নিকটাত্মীয়ই- ছেলেমেয়ে স্ত্রী এবং পিতামাতা সকলেই –মীরাস লাভ করে। ফলে বিরাট ধন-সম্পত্তি অসংখ্য খণ্ডে বিভক্ত হইয়া ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে পরিণত হয় এবং প্রত্যেকেরই পরিমাণ কম হওয়া কেবল উহারই উপর নির্ভর করিয়া কর্মহীন, অলস ও বিলাসী জীবন যাপন করা কাহারোও পক্ষেই সম্ভব হয় না। কাজেই মীরাসী আইন একদিকে যেমন স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূল্ত পন্থায় অবিস্রান্তভাবে ধন-সম্পত্তির বন্টন করিয়া থাকে, অন্যদিকে ঠিক তেমনি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা ও অর্থোপার্জনের মারফতে জাতীয় সম্পদ অধিকতর বৃদ্ধি করে। অতএব এ কথা অকুণ্ঠিতচিত্তে ঘোষণা করা যাইতে পারে যে, দুনিয়ার অর্থনীতিতে ইসলামের মীরাসী আইনের কোন তুলনা নাই।