hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪১

বায়তুলমাল হইতে বিনাসুদে ঋণ দান

ইসলামী অর্থনীতি একদিকে সুদ-সুদী কারবার ও সকল প্রকার সুদ-ভিত্তিক লেনদেন চিরতরে হারাম করিয়া দিয়াছে, অপরদিকে নাগরিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনসুদে ঋুণ দানেরও চূড়ান্ত ও স্থায়ী ব্যবস্থা করা হইয়াছে।

বিনানুতে ঋণ দেওয়ার কাজ প্রথমদিকে ব্যক্তিগতভাবেই সম্পন্ন হইত। সাহাবাগণ এমনকি স্বয়ং নবী করীম (ﷺ)-ও লোকদের নিকট হইতে প্রয়োজন অনুপাতে ঋণ গ্রহণ করিয়াছে। কুরআর মজীদে এজন্য বিশেষ উৎসাহ প্রদানের উদ্দেশ্যে বলা হইয়াছে:

(আরবী)

যে ব্যক্তি আল্লাহকে সদভাবে ঋণ দিবে আল্লাহ তাহাকে উহার কয়েকগুণ বেশী প্রত্যার্পণ করিবেন।

বলাবাহুল্য, আল্লাহকে সদ্ভাবে ঋণ দেওয়ার অর্থ অভাবগ্রস্ত ও দারিদ্র্য-পীড়িত লোকদিগেকে বিনাসুদে ঋণ দান করা। অতিএব ইসলমী রাষ্ট্রের সরকারী বাজেটে বিনাসুদে ঋণ দেওয়ার একটি খাত অবশ্যই থাকিবে। হযরত উমর (রা)-এর সময় বিনাসুদে ঋণ দেওয়ার কাজ ব্যাপকভাবে সস্পন্ন হইয়াছিল। সরকারী কর্মচারীগণ নিজেদের চাকুরীর জানামতে বায়তুলমাল হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিত। বস্তুত ঋণদান সমিতির ইতিহাসে ইসলামী রাষ্ট্রের বায়তুলমালই সর্ব প্রথম প্রতিষ্ঠান।

ঋণ গ্রহণ লোকদের পক্ষে একটি অপরিহার্য ব্যাপার। বর্তমান সময়ও লোকেরা নিজ নিজ প্রয়োজনে সুদের বিনিময়ে ঋণ গ্রহণ করিতে বাধ্য হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান-অনেক ব্যাংকও খোলা হইয়াছে সুদের বিনিময়ে ঋণ দানের ব্যবসায় চালাইবার উদ্দেশ্রে। কিন্তু এই সুদ মানুষকে শোষণ করিয়া সর্বস্বান্ত করিয়া দেয়। ইহার ফলে মানুষের মন লোভাতুর পংকিল ও স্বার্থান্ধ হইয়া পড়ে। ইসলাম এই সুদকে চিরতরে হারাম করিয়া দিয়াছে। অতএব দেশবাসীকে প্রয়োজন অনুযায়ী বায়তুলমাল হইতে বিনাসুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা ইসলামী বায়তুলমালের এক বিরাট অর্থনৈতিক কর্তব্য।