hadith book logo

ইসলামের অর্থনীতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৩

আন্তর্জাকি মুদ্রা

বর্তামনে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার পারস্পরিক বিনিময় ব্যবসায়ী-পদ্ধতিতে চলিতেছে। যাহার বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়, তাহারা বিনিময় ব্যবসায়ীদের নিকট হইতে তাহা গ্রহণ করে এবং সে জন্য তাহাদিগকে রীতিমত বাট্টা দিতে হয়।

কিন্তু ইসলামী অর্থনীতি এই ধরনের বিনিময় প্রথাকে অসংগত ঘোষণা করিয়াছে এবং এইরূপ বিনিময়ের মাধ্যমে ‘বাট্টা’ বাবদ যাহা কিছু নেওয়অ হয়, তাহাকে সুদ বলিয়া অভিহিত করিয়াছে। কেবল ক্রেডিট এক্সচেঞ্জ-ই সুদ হয় না, নগদ আদান-প্রদানের সময়ও যাহা কিছু ‘বাট্টা’ দেওয়া-নেওয়া হয় তাহাও সুদই হইয়া থাকে।

নবী করীম (ﷺ)-এর বাণী হইতে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে পারা যায় যে, এক দেশের মুদ্রা মুল্য যদি অন্যান দেমের মুদ্রা-মূল্যের সমান হয়, তবে এই উভয় দেশের মুদ্রার পারস্পরিক বিনিময় সমান পরিমাণেও নগদ-আদান-প্রদানেই হওয়া বাঞ্ছনীয়। নবী করীম (ﷺ) বলিয়াছেন:

(আরবী)

একটি স্বর্ণ মুদ্রাকে দুইটি স্বর্ণ মুদ্রার বিনিময়ে এবং একটি ধাতবব মুদ্রাকে দুইটি ধাবত মুদ্রার বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করিও না।[(আরবী)]

অন্য একটি হাদীসে আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময়-হার স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করা হইয়াছে এ ভাষায়:

(আরবী)

স্বর্ণ মুদ্রা স্বর্ণ মুদ্রার সহিত এবং ধাতব মুদ্রা ধাতব মুদ্রার সহিতই বিনিময় করা যাইতে পারে; কিন্তু তাহাতে কোনরূপ কম-বেশী করা যাইবে না।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা-বিনিময়ের বর্তমান পদ্ধতি সম্পর্কে বিশেষ পারদর্শী অর্থনীতিবিদগণই উল্লিখিত হাদীস দুইটির প্রকৃত তাৎপর্য় অনুধাবন করিতে পারেন। সাধারণত এক দেশের স্বর্ণ বা রোপ্য মুদ্রার সহিতই বিনিময় হয়; কিন্তু এক দেশের মুদ্রার বিনিময় অপর দেশের মুদ্রার গ্রহণ করার পক্ষপাতী। বস্তুত বর্তমান আন্তর্জাতিক মুদ্রা-বিনিময়ের সমস্যা বিনিময়-গোলক-ধাঁধার দরুন আন্তর্জাতিক ব্যবসায়-বাণিজ্য বর্তমান সময় অত্যন্ত জটিল হইয়া দেখা দিয়াছে। এমতাবস্থায় বিশ্বনবীর এই চির সত্য বাণীর ভিত্তিতে দুনিয়ার সকল রাষ্ট্র যদি নিজ নিজ স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রার মান ওজন সমান করিয়া লইত এবং বাট্টা দেওয়া-নেওয়অর প্রথা চিরতরে বন্ধ করিয়া দিত, তবে বিশ্বের মানবসমাজ নানাবিধ অসুবিধা হইতে রক্ষা পাইত, ব্যবসায়-বাণিজ্য অবাধ হইত; প্রাচুর্য ও দারিদ্রের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা সম্ভব হইত। অনুরূপভাবে একটি বিশ্ব-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথও অনেকখানি উন্মুক্ত ও সুগম হইত।